সংবাদ

মব কমলেও বেড়েছে কারা হেফাজতে মৃত্যু


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪২ পিএম

মব কমলেও বেড়েছে কারা হেফাজতে মৃত্যু
ছ‌বি: সংগৃ‌হিত

​দেশে গত আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ঘটনা কিছুটা কমলেও একই সময়ে কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

গত আগস্ট মাসে দেশে মবের ঘটনা ছিল ৩৫টি, যা সেপ্টেম্বর মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ২৩টিতে। অন্যদিকে আগস্টে কারা হেফাজতে ৯ জনের মৃত্যু হলেও সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। সেপ্টেম্বরে চিকিৎসাধীন বা বন্দি অবস্থায় মারা যাওয়া এই ২৪ জনের সকলেই পুরুষ হাজতি ও কয়েদি।
​মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার ওপর তৈরি করা মাসিক জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংস্থাটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মানবাধিকার পরিস্থিতির এই চিত্র প্রকাশ করে।
​এমএসএফের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেপ্টেম্বরে সারাদেশে মব সহিংসতার অন্তত ৬৫টি ঘটনা ঘটে, যেখানে ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭৪ জন। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, আগস্টের তুলনায় নিহতের সংখ্যা কমলেও সর্বসাধারণের মাঝে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা এখনো গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
​একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলোতে অন্তত ১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৩৮৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৭ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যকার সংঘর্ষ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে এবং জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
​গণমাধ্যমকর্মীদের পরিস্থিতির বিষয়ে উঠে এসেছে, সেপ্টেম্বরে সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি শারীরিক আক্রমণের ঘটনা কিছুটা হ্রাস পেলেও তাদের আইনি হয়রানির শিকার হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। মাসটিতে মোট ২৮ জন সংবাদকর্মী বিভিন্নভাবে হামলা বা নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন এবং ৯ জন সাংবাদিককে পড়তে হয়েছে আইনি জটিলতার মুখে।
একইসঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা ও গ্রেপ্তারের হারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আগস্টে এই আইনে ৩টি মামলা ও ৩ জন গ্রেপ্তার হলেও সেপ্টেম্বরে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয় ৮টি এবং গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে।
​প্রতিবেদনটিতে দেশে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের চিত্রটিকেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৭১টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী এবং বাকি ১ জনের লিঙ্গ কিংবা বয়স শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া একই মাসে দেশের কয়েকটি স্থানে অন্তত ১০টি প্রতিমা ভাঙচুর ও ১টি জাতিগত নির্যাতনের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
​মানবাধিকারের সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, "সেপ্টেম্বরের তথ্য থেকে বলা যায়, মানবাধিকার পরিস্থিতি সরলভাবে ‘উন্নত’ বা ‘অবনতিশীল’, কোনোটিই বলা যায় না। বরং পরিস্থিতি বহুমাত্রিক এবং উদ্বেগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে। মব ভায়োলেন্সে মৃত্যু, সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা এবং অজ্ঞাত হামলায় রাজনৈতিক কর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনা কমেছে। কিন্তু এর বিপরীতে রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত, কারা হেফাজতে মৃত্যু, সাইবার আইনে মামলা ও গ্রেফতার, অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।"
​পরিস্থিতির ওপর চূড়ান্ত মূল্যায়ন টেনে সংস্থাটি পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে, সেপ্টেম্বরে প্রকাশ্য সহিংসতার কয়েকটি জায়গায় ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও রাষ্ট্রীয় হেফাজত, রাজনৈতিক নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের মতো স্পর্শকাতর খাতগুলোতে সংকট আরও গভীর রূপ নিয়েছে।
তাই শুধু অপরাধ দমন করলেই চলবে না; মানবাধিকার পূর্ণ সুরক্ষায় প্রশাসনিক জবাবদিহি, আইনি সঠিক প্রয়োগ, বিচারিক নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা এখন অপরিহার্য।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬


মব কমলেও বেড়েছে কারা হেফাজতে মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

​দেশে গত আগস্ট মাসের তুলনায় সেপ্টেম্বরে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ঘটনা কিছুটা কমলেও একই সময়ে কারা হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

গত আগস্ট মাসে দেশে মবের ঘটনা ছিল ৩৫টি, যা সেপ্টেম্বর মাসে কমে দাঁড়িয়েছে ২৩টিতে। অন্যদিকে আগস্টে কারা হেফাজতে ৯ জনের মৃত্যু হলেও সেপ্টেম্বরে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। সেপ্টেম্বরে চিকিৎসাধীন বা বন্দি অবস্থায় মারা যাওয়া এই ২৪ জনের সকলেই পুরুষ হাজতি ও কয়েদি।
​মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার ওপর তৈরি করা মাসিক জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ)। সংস্থাটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে মানবাধিকার পরিস্থিতির এই চিত্র প্রকাশ করে।
​এমএসএফের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সেপ্টেম্বরে সারাদেশে মব সহিংসতার অন্তত ৬৫টি ঘটনা ঘটে, যেখানে ২৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৭৪ জন। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, আগস্টের তুলনায় নিহতের সংখ্যা কমলেও সর্বসাধারণের মাঝে এভাবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা এখনো গভীরভাবে উদ্বেগজনক।
​একই সময়ে রাজনৈতিক সহিংসতার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। সেপ্টেম্বরে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাগুলোতে অন্তত ১ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৩৮৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৭ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যকার সংঘর্ষ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলছে এবং জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
​গণমাধ্যমকর্মীদের পরিস্থিতির বিষয়ে উঠে এসেছে, সেপ্টেম্বরে সাংবাদিকদের ওপর সরাসরি শারীরিক আক্রমণের ঘটনা কিছুটা হ্রাস পেলেও তাদের আইনি হয়রানির শিকার হওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। মাসটিতে মোট ২৮ জন সংবাদকর্মী বিভিন্নভাবে হামলা বা নির্যাতনের সম্মুখীন হয়েছেন এবং ৯ জন সাংবাদিককে পড়তে হয়েছে আইনি জটিলতার মুখে।
একইসঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা ও গ্রেপ্তারের হারও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। আগস্টে এই আইনে ৩টি মামলা ও ৩ জন গ্রেপ্তার হলেও সেপ্টেম্বরে মামলার সংখ্যা বেড়ে হয় ৮টি এবং গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ জনে।
​প্রতিবেদনটিতে দেশে অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ উদ্ধারের চিত্রটিকেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ৭১টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর মধ্যে ৫৫ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী এবং বাকি ১ জনের লিঙ্গ কিংবা বয়স শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এছাড়া একই মাসে দেশের কয়েকটি স্থানে অন্তত ১০টি প্রতিমা ভাঙচুর ও ১টি জাতিগত নির্যাতনের ঘটনা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে।
​মানবাধিকারের সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, "সেপ্টেম্বরের তথ্য থেকে বলা যায়, মানবাধিকার পরিস্থিতি সরলভাবে ‘উন্নত’ বা ‘অবনতিশীল’, কোনোটিই বলা যায় না। বরং পরিস্থিতি বহুমাত্রিক এবং উদ্বেগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছে। মব ভায়োলেন্সে মৃত্যু, সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক হামলা এবং অজ্ঞাত হামলায় রাজনৈতিক কর্মীদের আহত হওয়ার ঘটনা কমেছে। কিন্তু এর বিপরীতে রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত, কারা হেফাজতে মৃত্যু, সাইবার আইনে মামলা ও গ্রেফতার, অজ্ঞাতপরিচয় মরদেহ এবং প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।"
​পরিস্থিতির ওপর চূড়ান্ত মূল্যায়ন টেনে সংস্থাটি পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করে, সেপ্টেম্বরে প্রকাশ্য সহিংসতার কয়েকটি জায়গায় ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও রাষ্ট্রীয় হেফাজত, রাজনৈতিক নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের মতো স্পর্শকাতর খাতগুলোতে সংকট আরও গভীর রূপ নিয়েছে।
তাই শুধু অপরাধ দমন করলেই চলবে না; মানবাধিকার পূর্ণ সুরক্ষায় প্রশাসনিক জবাবদিহি, আইনি সঠিক প্রয়োগ, বিচারিক নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখা এখন অপরিহার্য।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত