তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে অর্থায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসার এবং বড় ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে চার সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদল ঢাকায় পৌঁছেছে। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অবকাঠামো বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক পঙ্কজ গুপ্তের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটির চার দিনের ঢাকা সফর আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে প্রতিনিধিদলটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অর্থ, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, নৌপরিবহন, স্থানীয় সরকার এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নেবে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের অপারেশন্স ম্যানেজার গেইল এইচ মার্টিন ইতোমধ্যে ইআরডিকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে কৌশলগত রূপরেখা তৈরি করা। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন যেসব প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী দাম বাড়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানির চাপ তীব্র রূপ নিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে আগস্ট–—এই ছয় মাসে জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে বিপিসিকে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির দায় মেটানো এবং আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে কেনাকাটার ওপর নির্ভরতা কমাতে বিশ্বব্যাংক ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান করছে। ২০২৫ সালের জুনে অনুমোদিত ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের সাথে চলতি বছরের ১৫ মে আরও ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
জ্বালানি ছাড়াও চট্টগ্রামের ‘বে টার্মিনাল’ নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম লজিস্টিকস ও পরিবহন করিডর, রেললাইন আধুনিকায়ন, নগর সংস্কার এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরিতে সহযোগিতার বিষয়টি প্রতিনিধিদলের সফরের অন্যতম অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
/

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিতে অর্থায়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসার এবং বড় ধরনের অবকাঠামো প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে চার সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদল ঢাকায় পৌঁছেছে। সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়া অবকাঠামো বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক পঙ্কজ গুপ্তের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটির চার দিনের ঢাকা সফর আগামী ৭ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, সফরকালে প্রতিনিধিদলটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অর্থ, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ, নৌপরিবহন, স্থানীয় সরকার এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারক ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে অংশ নেবে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের অপারেশন্স ম্যানেজার গেইল এইচ মার্টিন ইতোমধ্যে ইআরডিকে লেখা চিঠিতে জানিয়েছেন, এই সফরের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও টেকসই জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতে কৌশলগত রূপরেখা তৈরি করা। পাশাপাশি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং নতুন যেসব প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।
সম্প্রতি বিশ্বব্যাপী দাম বাড়ায় বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানির চাপ তীব্র রূপ নিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) হিসাব অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে আগস্ট–—এই ছয় মাসে জ্বালানি আমদানির বিল পরিশোধ করতে গিয়ে তাদের প্রায় ২২ হাজার ৮৭৬ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে বিপিসিকে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির দায় মেটানো এবং আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে কেনাকাটার ওপর নির্ভরতা কমাতে বিশ্বব্যাংক ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা প্রদান করছে। ২০২৫ সালের জুনে অনুমোদিত ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের সাথে চলতি বছরের ১৫ মে আরও ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।
জ্বালানি ছাড়াও চট্টগ্রামের ‘বে টার্মিনাল’ নির্মাণ প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম লজিস্টিকস ও পরিবহন করিডর, রেললাইন আধুনিকায়ন, নগর সংস্কার এবং জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরিতে সহযোগিতার বিষয়টি প্রতিনিধিদলের সফরের অন্যতম অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
/

আপনার মতামত লিখুন