সংবাদ

সামাজিক নিরাপত্তা: গরিবের চেয়ে বেশি টাকা পান ধনীরা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

সামাজিক নিরাপত্তা: গরিবের চেয়ে বেশি টাকা পান ধনীরা
সামাজিক নিরাপত্তায় ধনীরা পান বছরে ১০,৪৭২ টাকা, গরিবেরা ৭,১৪০ টাকা

দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পান না। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে সমাজের নিচের দিকে থাকা ২০ শতাংশ মানুষের (দরিদ্র) সঙ্গে সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকা ২০ শতাংশ ধনীর মধ্যে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রাপ্তির তুলনা করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ওই ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষ বছরে ৭ হাজার ১৪০ টাকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পান। 

অন্যদিকে সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ ব্যক্তি বছরে ১০ হাজার ৪৭২ টাকার এই সুবিধা পান। অর্থাৎ, ধনীরা গরিবের চেয়ে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৩৩২ টাকা বেশি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের দরিদ্র মানুষের (নিজের দিকে থাকা ২০ শতাংশ) মধ্যে ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা সরাসরি পান। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক দরিদ্র পরিবার সরকারের কোনো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পান না। অন্যদিকে ৩১ শতাংশ ধনী সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সরাসরি সুবিধা পান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ নাজমুস সাদাত খান ও ধ্রুব শর্মা।

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাতে পারলে দারিদ্র্য কমানোয় সবচেয়ে বড় অর্জন হবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতানুগতিক উপায়ে শুধু ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে বছরে ১৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তোলা যাবে। 

তবে পরিকল্পিতভাবে প্রকৃত সুবিধা চিহ্নিত করে যদি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নানা ধরনের সুবিধা দেওয়া যায়, তাহলে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপর ওঠানো সম্ভব।

এ জন্য কিছু সংস্কার কর্মসূচি নিতে হবে। যেমন—দারিদ্র্য পরিমাপের স্বীকৃত মানদণ্ড ব্যবহার করা, নগদ টাকা দেওয়ার কর্মসূচির জন্য প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিত করা, খাদ্যসহায়তার প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিত করা ও তালিকা পুনর্বিন্যাস করা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে অন্যান্য সামাজিক সুবিধার যোগসূত্র স্থাপন করা।

বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা বলেন, নিচের দিকে থাকা ২০ শতাংশ গরিব মানুষকে খাবার কিনতে তাঁদের আয়ের ৬০ শতাংশ খরচ করতে হয়। তাঁর মতে, কৃষি মন্ত্রণালয় প্রতি ১০ টাকায় ৮ টাকা ভর্তুকি দেয়। তাহলে খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষি খাতের অবদান কীভাবে আসবে? খাদ্যনিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা সম্ভব হয় না। পাঁচ-ছয় বছর ধরে ভর্তুকির বোঝা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে সরকার যে ভর্তুকি দেয়, এর সুবিধা ধনী-গরিব নির্বিশেষে পান। তবে যাঁরা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁরা ভর্তুকির সুবিধা বেশি পান বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাবে দেখা গেছে, সমাজের নিচের দিকে থাকা ২০ শতাংশ মানুষ (গরিব) বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির মাত্র ১৫ শতাংশের কিছুটা বেশি পান। অন্যদিকে ওপরের দিকে থাকা ২০ শতাংশ ধনী পান মোট ভর্তুকির ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ, ধনীদের জন্যই বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির এক-তৃতীয়াংশ খরচ হয়।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, সারে ভর্তুকি চার গুণ বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সারে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের ৮০ শতাংশ ভর্তুকি দিতে হয়।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ছোট ও ঝুঁকির মুখে থাকা কৃষকদের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া কৃষি খাতে গবেষণা, সম্প্রসারণ, মাটি পরীক্ষা, বাজারজাতকরণ ও পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

বিশ্বব্যাংক বলছে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাড়ে ৩ শতাংশ ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তায় খরচ করে সরকার। কিন্তু এখনো বহু গরিব পরিবার ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬


সামাজিক নিরাপত্তা: গরিবের চেয়ে বেশি টাকা পান ধনীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশের প্রায় ৬২ শতাংশ দরিদ্র মানুষ প্রধান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা পান না। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে সমাজের নিচের দিকে থাকা ২০ শতাংশ মানুষের (দরিদ্র) সঙ্গে সবচেয়ে ওপরের দিকে থাকা ২০ শতাংশ ধনীর মধ্যে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা প্রাপ্তির তুলনা করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, ওই ২০ শতাংশ দরিদ্র মানুষ বছরে ৭ হাজার ১৪০ টাকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পান। 

অন্যদিকে সবচেয়ে ধনী ২০ শতাংশ ব্যক্তি বছরে ১০ হাজার ৪৭২ টাকার এই সুবিধা পান। অর্থাৎ, ধনীরা গরিবের চেয়ে বছরে প্রায় ৩ হাজার ৩৩২ টাকা বেশি সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের দরিদ্র মানুষের (নিজের দিকে থাকা ২০ শতাংশ) মধ্যে ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা সরাসরি পান। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক দরিদ্র পরিবার সরকারের কোনো সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পান না। অন্যদিকে ৩১ শতাংশ ধনী সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সরাসরি সুবিধা পান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেম। প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ নাজমুস সাদাত খান ও ধ্রুব শর্মা।

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাতে পারলে দারিদ্র্য কমানোয় সবচেয়ে বড় অর্জন হবে বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গতানুগতিক উপায়ে শুধু ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে বছরে ১৫ লাখ ৮০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপরে তোলা যাবে। 

তবে পরিকল্পিতভাবে প্রকৃত সুবিধা চিহ্নিত করে যদি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নানা ধরনের সুবিধা দেওয়া যায়, তাহলে সাড়ে ২৮ লাখ মানুষকে দারিদ্র্যসীমার ওপর ওঠানো সম্ভব।

এ জন্য কিছু সংস্কার কর্মসূচি নিতে হবে। যেমন—দারিদ্র্য পরিমাপের স্বীকৃত মানদণ্ড ব্যবহার করা, নগদ টাকা দেওয়ার কর্মসূচির জন্য প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিত করা, খাদ্যসহায়তার প্রকৃত সুবিধাভোগী চিহ্নিত করা ও তালিকা পুনর্বিন্যাস করা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে অন্যান্য সামাজিক সুবিধার যোগসূত্র স্থাপন করা।

বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ ধ্রুব শর্মা বলেন, নিচের দিকে থাকা ২০ শতাংশ গরিব মানুষকে খাবার কিনতে তাঁদের আয়ের ৬০ শতাংশ খরচ করতে হয়। তাঁর মতে, কৃষি মন্ত্রণালয় প্রতি ১০ টাকায় ৮ টাকা ভর্তুকি দেয়। তাহলে খাদ্যনিরাপত্তায় কৃষি খাতের অবদান কীভাবে আসবে? খাদ্যনিরাপত্তায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করা সম্ভব হয় না। পাঁচ-ছয় বছর ধরে ভর্তুকির বোঝা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে সরকার যে ভর্তুকি দেয়, এর সুবিধা ধনী-গরিব নির্বিশেষে পান। তবে যাঁরা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাঁরা ভর্তুকির সুবিধা বেশি পান বলে মনে করে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাবে দেখা গেছে, সমাজের নিচের দিকে থাকা ২০ শতাংশ মানুষ (গরিব) বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির মাত্র ১৫ শতাংশের কিছুটা বেশি পান। অন্যদিকে ওপরের দিকে থাকা ২০ শতাংশ ধনী পান মোট ভর্তুকির ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ, ধনীদের জন্যই বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকির এক-তৃতীয়াংশ খরচ হয়।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, সারে ভর্তুকি চার গুণ বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে সারে ভর্তুকির পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ২০০ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ হাজার কোটি টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের ৮০ শতাংশ ভর্তুকি দিতে হয়।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ছোট ও ঝুঁকির মুখে থাকা কৃষকদের সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে বিশ্বব্যাংক। এ ছাড়া কৃষি খাতে গবেষণা, সম্প্রসারণ, মাটি পরীক্ষা, বাজারজাতকরণ ও পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

বিশ্বব্যাংক বলছে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাড়ে ৩ শতাংশ ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তায় খরচ করে সরকার। কিন্তু এখনো বহু গরিব পরিবার ঝুঁকির মধ্যে আছে। তাদের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত