গ্রাহকপর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে সব জেলা প্রশাসককে (ডিসিসমূহ) নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকারকে বাধ্য হতে হয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খুচরা বাজারে ক্রেতারা জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই সংকট কাটাতে ও বাজারব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে ডিসিদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বরে এক মাসেই ৯৮৪টি তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে। ধারাবাহিক এসব উদ্যোগের ফলে দ্রুতই এলপিজির বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন বিশেষ করে রেলকে জোর প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এডিবি (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক)-র আর্থিক সহায়তায় ৩০টি নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান শেষ হয়েছে।
সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্টের কথা স্মরণ করে ডা. জাহেদ বলেন, বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিতে দরিদ্র ও সুরক্ষাহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভিজিএফ কার্ড ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। এতে খাদ্যসহায়তা হিসেবে পরিবারপ্রতি ২০ কেজি করে চাল বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্র ও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই চট্টগ্রাম বন্দর সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সংগঠনের স্বার্থের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গেলেও সরকার পিছপা হবে না। তবে সব অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত পথনকশা তৈরি করা হবে।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে একটি ছাত্রসংগঠন (ছাত্রদল) অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তবে বিষয়টি শুধু দলীয় শাস্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ফৌজদারি অপরাধের দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।'
উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার আন্তরিক ও অত্যন্ত আগ্রহী। প্রকল্পটির অর্থায়ন বাংলাদেশ নিজে করবে, চীন করবে নাকি অন্য কোনো দেশের সহযোগিতা নেওয়া হবে–সেটি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
এ ছাড়া সারা দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এটি খেটে খাওয়া মানুষের চলাচলে বেশ কিছু সুবিধা দিচ্ছে সত্য, তবে অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের সুযোগ দেওয়া যায় না। এ শৃঙ্খলায় ফেরাতে দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার।

মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ অক্টোবর ২০২৬
গ্রাহকপর্যায়ে এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করতে সব জেলা প্রশাসককে (ডিসিসমূহ) নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম সমন্বয়ে সরকারকে বাধ্য হতে হয়েছে। তবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খুচরা বাজারে ক্রেতারা জ্বালানি পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এই সংকট কাটাতে ও বাজারব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণে ডিসিদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বরে এক মাসেই ৯৮৪টি তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে। ধারাবাহিক এসব উদ্যোগের ফলে দ্রুতই এলপিজির বাজার স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, যোগাযোগ খাতের উন্নয়ন বিশেষ করে রেলকে জোর প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এডিবি (এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক)-র আর্থিক সহায়তায় ৩০টি নতুন লোকোমোটিভ সংগ্রহের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান শেষ হয়েছে।
সার্বিক মূল্যস্ফীতিতে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের কষ্টের কথা স্মরণ করে ডা. জাহেদ বলেন, বর্তমান সামাজিক পরিস্থিতিতে দরিদ্র ও সুরক্ষাহীন মানুষের পাশে দাঁড়াতে ভিজিএফ কার্ড ব্যবস্থার আওতা আরও বাড়ানো হচ্ছে। এতে খাদ্যসহায়তা হিসেবে পরিবারপ্রতি ২০ কেজি করে চাল বিতরণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালনা ও সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্র ও দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই চট্টগ্রাম বন্দর সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা সংগঠনের স্বার্থের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গেলেও সরকার পিছপা হবে না। তবে সব অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত পথনকশা তৈরি করা হবে।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, 'ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে একটি ছাত্রসংগঠন (ছাত্রদল) অভিযুক্তদের দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তবে বিষয়টি শুধু দলীয় শাস্তিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, ফৌজদারি অপরাধের দায়ে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেবে।'
উন্নয়ন প্রকল্পের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার আন্তরিক ও অত্যন্ত আগ্রহী। প্রকল্পটির অর্থায়ন বাংলাদেশ নিজে করবে, চীন করবে নাকি অন্য কোনো দেশের সহযোগিতা নেওয়া হবে–সেটি আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।
এ ছাড়া সারা দেশে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এটি খেটে খাওয়া মানুষের চলাচলে বেশ কিছু সুবিধা দিচ্ছে সত্য, তবে অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের সুযোগ দেওয়া যায় না। এ শৃঙ্খলায় ফেরাতে দ্রুত একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করছে সরকার।

আপনার মতামত লিখুন