সংবাদ

দুর্গাপূজার কেনাকাটায় বাজেট ও সময় বাঁচাবেন যেভাবে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

দুর্গাপূজার কেনাকাটায় বাজেট ও সময় বাঁচাবেন যেভাবে

দুর্গাপূজা সামনে রেখে পোশাক, জুতা, গয়না, প্রসাধনী, সাজসজ্জার সামগ্রী ও উপহার কেনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পছন্দের পণ্য পাওয়া থেকে শুরু করে বাজেট ঠিক রাখা - সবকিছু সামলাতে তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করা জরুরি। হঠাৎ করে কেনাকাটা শুরু করলে যেমন অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে পারে, তেমনি দেরি করলে পছন্দের পোশাক বা প্রয়োজনীয় মাপ না পাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

বাজেট আগে, কেনাকাটা পরে

কেনাকাটার আগে মোট কত টাকা ব্যয় করা হবে, সেটি নির্ধারণ করে নেওয়া ভালো। নিজের পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, শিশু এবং উপহারের জন্যও আলাদা অর্থ বরাদ্দ রাখা যেতে পারে।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, নিজের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ রাখার পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের এবং উপহারের জন্য আলাদা হিসাব করলে কেনাকাটার চাপ কমে।

তার পরামর্শ, সব টাকা একবারে খরচ না করে কয়েক ধাপে কেনাকাটা করা যেতে পারে। শুরুতে প্রয়োজনীয় পোশাক ও জুতা কেনার পর গয়না, সাজসজ্জার সামগ্রী বা ছোটখাটো জিনিস কেনা হলে পরে প্রয়োজন বা পছন্দের কোনো পণ্য কেনার জন্যও অর্থ হাতে থাকে।

বাজারে যাওয়ার আগে তালিকা

কেনাকাটার তালিকা তৈরি করলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার প্রবণতা কমানো সম্ভব। কার জন্য কী কেনা হবে, কতটি পোশাক লাগবে কিংবা কোন পোশাকের সঙ্গে জুতা ও গয়না প্রয়োজন - এসব আগে লিখে রাখা যেতে পারে।

তাসমিয়া জান্নাতের মতে, নিজের পোশাকের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের পোশাক, শিশুদের জামাকাপড়, জুতা, ব্যাগ, গয়না ও পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তালিকায় রাখা উচিত।

তার পরামর্শ হলো, তালিকা করার সময় প্রয়োজনীয় জিনিস এবং শুধু পছন্দের জিনিস আলাদা করে দেখা। আগে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পর অতিরিক্ত কেনাকাটার দিকে যাওয়া হলে দোকানে হঠাৎ কোনো পণ্য পছন্দ হলেও অপ্রয়োজনীয় খরচের ঝুঁকি কমে।

দীর্ঘ কেনাকাটার জন্য শরীরের প্রস্তুতি

পূজার বাজার করতে গিয়ে একাধিক জায়গায় ঘোরাঘুরি, দীর্ঘ সময় হাঁটা কিংবা দোকানে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ক্লান্তি আসতে পারে। তাই বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও শরীরের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, কেনাকাটার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো ভালো। খালি পেটে বাজারে না যাওয়ার পাশাপাশি সঙ্গে পানির বোতল রাখা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে খাবার স্যালাইন ও ফলের রসও সঙ্গে রাখা যায়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে হালকা খাবার সঙ্গে রাখাও সুবিধাজনক।

তার পরামর্শ, দীর্ঘ সময় হাঁটতে হলে আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরা উচিত। একদিনে অনেক জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে উঁচু জুতা বা হাঁটাচলায় অসুবিধা হয় এমন জুতা এড়িয়ে চলাই ভালো।

কোন সময়ে বাজারে গেলে স্বস্তি মিলবে

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে সাধারণত ভিড় বেশি থাকে। তাই তুলনামূলক স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে চাইলে কর্মদিবস বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাসমিয়া জান্নাত। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত সময়কে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে নির্দিষ্ট কোনো বাজারে কখন বেশি ভিড় হয়, সেটিও আগে জেনে নেওয়া ভালো। ছুটির দিনেই বাজারে যেতে হলে সকাল সকাল বের হওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। কারণ দুপুরের পর বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে ক্রেতার চাপ বাড়তে পারে। শেষ মুহূর্তে বাজার করতে গেলে এই চাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

একদিনে সব শেষ করার প্রয়োজন নেই

একদিনে পূজার সব কেনাকাটা শেষ করার চেষ্টা করলে যেমন শারীরিক ক্লান্তি বাড়তে পারে, তেমনি তাড়াহুড়োর কারণে ভুল সিদ্ধান্তও হতে পারে।

তাসমিয়া জান্নাত বলেন, পোশাকের জন্য একদিন, জুতা ও ব্যাগের জন্য আরেকদিন এবং গয়না বা উপহারের জন্য আলাদা সময় রাখা যেতে পারে। এতে প্রতিটি পণ্য দেখেশুনে কেনার সুযোগ থাকে।

সময় কম থাকলে আগে থেকেই কোন এলাকায় কোন জিনিস কেনা হবে, সেটি ঠিক করে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। একই এলাকার কয়েকটি দোকান বা বিপণিবিতান একসঙ্গে ঘুরে দেখলে সময় ও যাতায়াতের খরচ দুটোই কমানো সম্ভব।

পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে নিন

পরিবারের সবাই একসঙ্গে কেনাকাটায় গেলে আগে থেকেই কে কোন জিনিস দেখবেন, তা ঠিক করে নেওয়া যেতে পারে। শিশু সঙ্গে থাকলে মাঝেমধ্যে তাদের বিশ্রামের সুযোগ রাখাও জরুরি।

অধ্যাপক কামরুল হাসানের পরামর্শ, পরিবারের কোনো বয়স্ক সদস্য সঙ্গে থাকলে দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটির পরিবর্তে বসার সুযোগ রয়েছে এমন জায়গা বেছে নেওয়া ভালো।

অন্যদিকে বন্ধুদের সঙ্গে কেনাকাটা করলে পরস্পরের মতামত নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে তাসমিয়া জান্নাত মনে করেন, শেষ সিদ্ধান্তে নিজের প্রয়োজন ও পছন্দকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যের পছন্দ দেখে প্রয়োজনের বাইরে কিছু কিনে ফেলা ঠিক নয়।

পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করলে বাজেটের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহের পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ ও শেষ মুহূর্তের ভিড় - দুটোই সামলানো সহজ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


দুর্গাপূজার কেনাকাটায় বাজেট ও সময় বাঁচাবেন যেভাবে

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দুর্গাপূজা সামনে রেখে পোশাক, জুতা, গয়না, প্রসাধনী, সাজসজ্জার সামগ্রী ও উপহার কেনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পছন্দের পণ্য পাওয়া থেকে শুরু করে বাজেট ঠিক রাখা - সবকিছু সামলাতে তাই আগে থেকেই পরিকল্পনা করা জরুরি। হঠাৎ করে কেনাকাটা শুরু করলে যেমন অপ্রয়োজনীয় খরচ বাড়তে পারে, তেমনি দেরি করলে পছন্দের পোশাক বা প্রয়োজনীয় মাপ না পাওয়ার আশঙ্কাও থাকে।

বাজেট আগে, কেনাকাটা পরে

কেনাকাটার আগে মোট কত টাকা ব্যয় করা হবে, সেটি নির্ধারণ করে নেওয়া ভালো। নিজের পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজনের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, শিশু এবং উপহারের জন্যও আলাদা অর্থ বরাদ্দ রাখা যেতে পারে।

গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও অন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসমিয়া জান্নাত বলেন, নিজের জন্য নির্দিষ্ট অর্থ রাখার পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের এবং উপহারের জন্য আলাদা হিসাব করলে কেনাকাটার চাপ কমে।

তার পরামর্শ, সব টাকা একবারে খরচ না করে কয়েক ধাপে কেনাকাটা করা যেতে পারে। শুরুতে প্রয়োজনীয় পোশাক ও জুতা কেনার পর গয়না, সাজসজ্জার সামগ্রী বা ছোটখাটো জিনিস কেনা হলে পরে প্রয়োজন বা পছন্দের কোনো পণ্য কেনার জন্যও অর্থ হাতে থাকে।

বাজারে যাওয়ার আগে তালিকা

কেনাকাটার তালিকা তৈরি করলে অপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার প্রবণতা কমানো সম্ভব। কার জন্য কী কেনা হবে, কতটি পোশাক লাগবে কিংবা কোন পোশাকের সঙ্গে জুতা ও গয়না প্রয়োজন - এসব আগে লিখে রাখা যেতে পারে।

তাসমিয়া জান্নাতের মতে, নিজের পোশাকের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের পোশাক, শিশুদের জামাকাপড়, জুতা, ব্যাগ, গয়না ও পূজার প্রয়োজনীয় সামগ্রীও তালিকায় রাখা উচিত।

তার পরামর্শ হলো, তালিকা করার সময় প্রয়োজনীয় জিনিস এবং শুধু পছন্দের জিনিস আলাদা করে দেখা। আগে প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার পর অতিরিক্ত কেনাকাটার দিকে যাওয়া হলে দোকানে হঠাৎ কোনো পণ্য পছন্দ হলেও অপ্রয়োজনীয় খরচের ঝুঁকি কমে।

দীর্ঘ কেনাকাটার জন্য শরীরের প্রস্তুতি

পূজার বাজার করতে গিয়ে একাধিক জায়গায় ঘোরাঘুরি, দীর্ঘ সময় হাঁটা কিংবা দোকানে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ক্লান্তি আসতে পারে। তাই বাজারে যাওয়ার প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও শরীরের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।

সরকারি কর্মচারী হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক কামরুল হাসান বলেন, কেনাকাটার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমানো ভালো। খালি পেটে বাজারে না যাওয়ার পাশাপাশি সঙ্গে পানির বোতল রাখা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে খাবার স্যালাইন ও ফলের রসও সঙ্গে রাখা যায়। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে হালকা খাবার সঙ্গে রাখাও সুবিধাজনক।

তার পরামর্শ, দীর্ঘ সময় হাঁটতে হলে আরামদায়ক পোশাক ও জুতা পরা উচিত। একদিনে অনেক জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে উঁচু জুতা বা হাঁটাচলায় অসুবিধা হয় এমন জুতা এড়িয়ে চলাই ভালো।

কোন সময়ে বাজারে গেলে স্বস্তি মিলবে

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে সাধারণত ভিড় বেশি থাকে। তাই তুলনামূলক স্বস্তিতে কেনাকাটা করতে চাইলে কর্মদিবস বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাসমিয়া জান্নাত। বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুরের আগ পর্যন্ত সময়কে তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তবে নির্দিষ্ট কোনো বাজারে কখন বেশি ভিড় হয়, সেটিও আগে জেনে নেওয়া ভালো। ছুটির দিনেই বাজারে যেতে হলে সকাল সকাল বের হওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে। কারণ দুপুরের পর বিকেল ও সন্ধ্যার দিকে ক্রেতার চাপ বাড়তে পারে। শেষ মুহূর্তে বাজার করতে গেলে এই চাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

একদিনে সব শেষ করার প্রয়োজন নেই

একদিনে পূজার সব কেনাকাটা শেষ করার চেষ্টা করলে যেমন শারীরিক ক্লান্তি বাড়তে পারে, তেমনি তাড়াহুড়োর কারণে ভুল সিদ্ধান্তও হতে পারে।

তাসমিয়া জান্নাত বলেন, পোশাকের জন্য একদিন, জুতা ও ব্যাগের জন্য আরেকদিন এবং গয়না বা উপহারের জন্য আলাদা সময় রাখা যেতে পারে। এতে প্রতিটি পণ্য দেখেশুনে কেনার সুযোগ থাকে।

সময় কম থাকলে আগে থেকেই কোন এলাকায় কোন জিনিস কেনা হবে, সেটি ঠিক করে নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। একই এলাকার কয়েকটি দোকান বা বিপণিবিতান একসঙ্গে ঘুরে দেখলে সময় ও যাতায়াতের খরচ দুটোই কমানো সম্ভব।

পরিবারের সদস্যদের দায়িত্ব ভাগ করে নিন

পরিবারের সবাই একসঙ্গে কেনাকাটায় গেলে আগে থেকেই কে কোন জিনিস দেখবেন, তা ঠিক করে নেওয়া যেতে পারে। শিশু সঙ্গে থাকলে মাঝেমধ্যে তাদের বিশ্রামের সুযোগ রাখাও জরুরি।

অধ্যাপক কামরুল হাসানের পরামর্শ, পরিবারের কোনো বয়স্ক সদস্য সঙ্গে থাকলে দীর্ঘ সময় হাঁটাহাঁটির পরিবর্তে বসার সুযোগ রয়েছে এমন জায়গা বেছে নেওয়া ভালো।

অন্যদিকে বন্ধুদের সঙ্গে কেনাকাটা করলে পরস্পরের মতামত নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে তাসমিয়া জান্নাত মনে করেন, শেষ সিদ্ধান্তে নিজের প্রয়োজন ও পছন্দকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অন্যের পছন্দ দেখে প্রয়োজনের বাইরে কিছু কিনে ফেলা ঠিক নয়।

পরিকল্পনা করে কেনাকাটা করলে বাজেটের মধ্যে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহের পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ ও শেষ মুহূর্তের ভিড় - দুটোই সামলানো সহজ হতে পারে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত