সংবাদ

সাধারণ সংক্রমণ থেকেও হতে পারে গুরুতর জটিলতা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১১ পিএম

সাধারণ সংক্রমণ থেকেও হতে পারে গুরুতর জটিলতা

মৌসুম বদলের সময় হঠাৎ জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশি, গলাব্যথা বা মাথাব্যথা - এসব উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হওয়া অনেকের কাছেই পরিচিত। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণে হওয়া এই মৌসুমি ফ্লু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।

তাই বলে ফ্লুকে সব সময় সাধারণ অসুখ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিছু ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের সংক্রমণ গুরুতর হয়ে নিউমোনিয়া, সেপসিস, এনকেফালাইটিস, মায়োকার্ডাইটিস এমনকি শ্বাসযন্ত্রের বিকলতার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।

কীভাবে জটিলতা তৈরি হয়

ফ্লু আক্রান্ত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ফুসফুসের প্রতিরোধব্যবস্থা নাজুক হয়ে যাওয়ায় অন্য সংক্রমণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ফ্লুর সঙ্গে ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া হতে পারে। আবার ফুসফুসের প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার সুযোগে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। যথাসময়ে চিকিৎসা না হলে সেই সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে সেপসিস তৈরি করতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ মস্তিষ্কে পৌঁছে এনকেফালাইটিস কিংবা হৃদ্‌যন্ত্রে প্রদাহ বা মায়োকার্ডাইটিসও ঘটাতে পারে।

যাঁদের আগে থেকেই হাঁপানি বা সিওপিডির মতো ফুসফুসের রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ফ্লুর কারণে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি গুরুতর আকার নিতে পারে। এমনকি রেসপিরেটরি ফেইলিউরের কারণে আইসিইউতে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

ফ্লু আক্রান্ত হলেই সবার গুরুতর জটিলতা হবে - এমন নয়। অধিকাংশ রোগী কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

বিশেষ করে-

  • শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • হাঁপানি বা সিওপিডির রোগী
  • দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌রোগ বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • অতি স্থূলতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তি
  • ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • গর্ভবতী নারী
  • যাঁরা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয় এমন ওষুধ ব্যবহার করেন

কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা দরকার

সর্দি-কাশি ও জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

জ্বর খুব বেড়ে যাওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া, অতিরিক্ত কাশি ও শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড দুর্বলতা, বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অসংলগ্ন আচরণ কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

ফ্লু থেকে সেরে ওঠার সময় আবার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, প্রচণ্ড কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়াও সতর্ক হওয়ার মতো লক্ষণ। এগুলো সেকেন্ডারি ইনফেকশন বা নিউমোনিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

শিশুর ক্ষেত্রে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে কি না, বিশেষ করে বুক ওঠানামার সময় ভেতরের দিকে দেবে যাচ্ছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। বয়স্কদের জ্বরের সময় অতিরিক্ত দুর্বলতা, খাবারে অনীহা, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া কিংবা পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

ডায়াবেটিস থাকলে বাড়তি সতর্কতা

ফ্লুর মতো সংক্রমণে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। আবার অসুস্থতার কারণে খাবার গ্রহণ কমে গেলে তা অতিরিক্ত কমেও যেতে পারে। তাই এ সময় নিজে থেকে ওষুধ বা ইনসুলিন বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

অসুস্থতার সময়ে নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা দরকার। জ্বর ও খাবার কম খাওয়ার কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যা কিডনিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।

অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে ভুল ধারণা নয়

ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণ। তাই শুধু ভাইরাসের কারণে হওয়া সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের ভূমিকা নেই। সর্দি-কাশি বা জ্বর হলেই নিজের মতো করে একাধিক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়।

জ্বরের সময় পর্যাপ্ত বিশ্রামও প্রয়োজন। অসুস্থ অবস্থায় শিশুদের স্কুলে পাঠানো বা বড়দের বাইরে কাজ করতে যাওয়াও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখার চেষ্টা করতে হবে।

সংক্রমণ ঠেকাতে কী করবেন

মৌসুম পরিবর্তনের সময়ে ফ্লুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এ সময় বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

  • অতিরিক্ত ভিড়ের জায়গা, মেলা, বাজার ও গণপরিবহন এড়িয়ে চলা
  • বাইরে গেলে নাক-মুখে মাস্ক ব্যবহার করা
  • বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া
  • শিশুদের নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করানো
  • হাঁচি-কাশির সময় শিষ্টাচার মেনে চলা
  • ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিস স্পর্শ করলে হাত ধুয়ে নেওয়া
  • আক্রান্ত হলে সম্ভব হলে বাড়িতে থাকা

ফ্লু প্রতিরোধে প্রতিবছর টিকা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শীতের আগে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকে ফ্লুর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬


সাধারণ সংক্রমণ থেকেও হতে পারে গুরুতর জটিলতা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মৌসুম বদলের সময় হঠাৎ জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশি, গলাব্যথা বা মাথাব্যথা - এসব উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হওয়া অনেকের কাছেই পরিচিত। ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণে হওয়া এই মৌসুমি ফ্লু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই পাঁচ থেকে সাত দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়।

তাই বলে ফ্লুকে সব সময় সাধারণ অসুখ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কিছু ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের সংক্রমণ গুরুতর হয়ে নিউমোনিয়া, সেপসিস, এনকেফালাইটিস, মায়োকার্ডাইটিস এমনকি শ্বাসযন্ত্রের বিকলতার মতো জটিলতা তৈরি করতে পারে।

কীভাবে জটিলতা তৈরি হয়

ফ্লু আক্রান্ত হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ফুসফুসের প্রতিরোধব্যবস্থা নাজুক হয়ে যাওয়ায় অন্য সংক্রমণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ফ্লুর সঙ্গে ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া হতে পারে। আবার ফুসফুসের প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার সুযোগে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণও দেখা দিতে পারে। যথাসময়ে চিকিৎসা না হলে সেই সংক্রমণ রক্তে ছড়িয়ে সেপসিস তৈরি করতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণ মস্তিষ্কে পৌঁছে এনকেফালাইটিস কিংবা হৃদ্‌যন্ত্রে প্রদাহ বা মায়োকার্ডাইটিসও ঘটাতে পারে।

যাঁদের আগে থেকেই হাঁপানি বা সিওপিডির মতো ফুসফুসের রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ফ্লুর কারণে শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি গুরুতর আকার নিতে পারে। এমনকি রেসপিরেটরি ফেইলিউরের কারণে আইসিইউতে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে

ফ্লু আক্রান্ত হলেই সবার গুরুতর জটিলতা হবে - এমন নয়। অধিকাংশ রোগী কয়েক দিনের মধ্যেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

বিশেষ করে-

  • শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • হাঁপানি বা সিওপিডির রোগী
  • দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্‌রোগ বা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • অতি স্থূলতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তি
  • ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তি
  • গর্ভবতী নারী
  • যাঁরা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমিয়ে দেয় এমন ওষুধ ব্যবহার করেন

কোন লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা দরকার

সর্দি-কাশি ও জ্বর হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

জ্বর খুব বেড়ে যাওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী হওয়া, অতিরিক্ত কাশি ও শ্বাসকষ্ট, প্রচণ্ড দুর্বলতা, বমি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, অসংলগ্ন আচরণ কিংবা প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসক বা হাসপাতালে যোগাযোগ করা প্রয়োজন।

ফ্লু থেকে সেরে ওঠার সময় আবার কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা, প্রচণ্ড কাশি ও শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়াও সতর্ক হওয়ার মতো লক্ষণ। এগুলো সেকেন্ডারি ইনফেকশন বা নিউমোনিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

শিশুর ক্ষেত্রে শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে কি না, বিশেষ করে বুক ওঠানামার সময় ভেতরের দিকে দেবে যাচ্ছে কি না, সেটিও খেয়াল রাখতে হবে। বয়স্কদের জ্বরের সময় অতিরিক্ত দুর্বলতা, খাবারে অনীহা, ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া কিংবা পড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

ডায়াবেটিস থাকলে বাড়তি সতর্কতা

ফ্লুর মতো সংক্রমণে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। আবার অসুস্থতার কারণে খাবার গ্রহণ কমে গেলে তা অতিরিক্ত কমেও যেতে পারে। তাই এ সময় নিজে থেকে ওষুধ বা ইনসুলিন বন্ধ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

অসুস্থতার সময়ে নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা দরকার। জ্বর ও খাবার কম খাওয়ার কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, যা কিডনিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।

অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে ভুল ধারণা নয়

ফ্লু ভাইরাসের সংক্রমণ। তাই শুধু ভাইরাসের কারণে হওয়া সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিকের ভূমিকা নেই। সর্দি-কাশি বা জ্বর হলেই নিজের মতো করে একাধিক ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া উচিত নয়।

জ্বরের সময় পর্যাপ্ত বিশ্রামও প্রয়োজন। অসুস্থ অবস্থায় শিশুদের স্কুলে পাঠানো বা বড়দের বাইরে কাজ করতে যাওয়াও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ঠিক রাখার চেষ্টা করতে হবে।

সংক্রমণ ঠেকাতে কী করবেন

মৌসুম পরিবর্তনের সময়ে ফ্লুর প্রকোপ বাড়তে পারে। তাই এ সময় বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

  • অতিরিক্ত ভিড়ের জায়গা, মেলা, বাজার ও গণপরিবহন এড়িয়ে চলা
  • বাইরে গেলে নাক-মুখে মাস্ক ব্যবহার করা
  • বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়া
  • শিশুদের নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস করানো
  • হাঁচি-কাশির সময় শিষ্টাচার মেনে চলা
  • ফ্লু আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহার্য জিনিস স্পর্শ করলে হাত ধুয়ে নেওয়া
  • আক্রান্ত হলে সম্ভব হলে বাড়িতে থাকা

ফ্লু প্রতিরোধে প্রতিবছর টিকা নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বয়স্ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের শীতের আগে সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের দিকে ফ্লুর টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত