সংবাদ

কিছুক্ষণ হাঁটার পরই পায়ে তীব্র ব্যথা?


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৫ পিএম

কিছুক্ষণ হাঁটার পরই পায়ে তীব্র ব্যথা?

হাঁটা শুরু করার সময় কোনো অস্বস্তি নেই, কিন্তু কিছুক্ষণ পর পায়ে তীব্র ব্যথা বা টান শুরু হচ্ছে - এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হতে পারে। কখনও ব্যথা এতটাই বাড়ে যে হাঁটা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথার এই নির্দিষ্ট ধরনকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ‘হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাত বা সাধারণ পেশির টানের ক্ষেত্রে অনেক সময় হাঁটা শুরুর আগেই ব্যথা থাকে। কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় হাঁটা শুরু করার পর ব্যথা দেখা দিলে এর পেছনে রক্ত চলাচল বা স্নায়ুজনিত সমস্যা থাকতে পারে।

‘হার্ভার্ড মেনস হেলথ ওয়াচ’-এর সাবেক নির্বাহী সম্পাদক ও চিকিৎসা গবেষক ম্যাথিউ সোলান হার্ভার্ডের চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে এ ধরনের ব্যথার সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন।

পায়ে রক্তের প্রবাহ কমে গেলে

পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বা পিএডি এমন একটি সমস্যা, যেখানে পায়ের পেশিতে রক্ত পৌঁছে দেওয়া ধমনিগুলো সরু হয়ে যায়। ধমনিতে চর্বি বা প্লাক জমার কারণে এমনটা হতে পারে।

হার্ভার্ড-অধিভুক্ত ব্রিগ্যাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটালের রক্তনালী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মোহামাদ হুসাইনের মতে, ধমনি সরু হয়ে গেলে পায়ের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে হাঁটার সময় ব্যথা দেখা দেয়। হাঁটার গতি কমিয়ে দেওয়া বা থেমে গেলে আবার ব্যথা কমে আসতে পারে।

তার মতে, পায়ের রক্তনালিতে এমন ব্লক থাকলে হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত রক্তনালিতেও একই ধরনের সমস্যার উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ব্যথার পরও প্রতিদিন অল্প অল্প করে হাঁটার অভ্যাস চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিয়মিত হাঁটার ফলে পায়ের ছোট রক্তনালিগুলো সক্রিয় হয়ে ব্লকের চারপাশ দিয়ে বিকল্প রক্ত চলাচলের পথ তৈরি করতে পারে। এতে পেশিতে অক্সিজেন পৌঁছানো বাড়তে পারে।

সায়াটিক নার্ভে চাপ

কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ের নিচের অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত সায়াটিক স্নায়ুতে চাপ বা প্রদাহ তৈরি হলে সায়াটিকার সমস্যা হতে পারে। মেরুদণ্ডের মাঝের ডিস্ক সরে গিয়ে হার্নিয়েটেড ডিস্ক তৈরি হওয়া এর প্রধান কারণগুলোর একটি।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অর্থোপেডিক সার্জারি ও মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. জেফরি এন. কাটজের মতে, ব্যথার ভয়ে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে থাকা এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তার মতে, সায়াটিকার তীব্রতা কমাতে স্টেশনারি সাইকেল চালানো, পিঠের স্ট্রেচিং এবং উপযুক্ত যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। এসবের মাধ্যমে মেরুদণ্ডের চারপাশের পেশিগুলো শক্তিশালী করা এবং স্নায়ুর ওপর চাপ কমাতে সহায়তা পাওয়া সম্ভব।

মেরুদণ্ডের নিচের অংশ সরু হলে

বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডের নিচের অংশের লিগামেন্ট ও জোড় ক্ষয় হতে পারে। এর ফলে মেরুদণ্ডের ভেতরের স্পাইনাল ক্যানাল ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই অবস্থাকে লাম্বার স্পাইনাল স্টেনোসিস বলা হয়।

এ সমস্যায় স্বাভাবিক সময়ে কোনো সমস্যা না থাকলেও হাঁটতে শুরু করলেই কোমর, নিতম্ব ও উরুর ওপরের অংশে ব্যথা ও আড়ষ্টতা দেখা দিতে পারে।

ডা. জেফরি কাটজ বলেন, এ ধরনের ব্যথায় আক্রান্তরা শরীর সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে হাঁটলে কিংবা বসে পড়লে দ্রুত স্বস্তি পেতে পারেন।

সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণে কোর বা শরীরের মধ্যবর্তী অংশের পেশি এবং পায়ের শক্তি ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিশেষায়িত ফিজিওথেরাপি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মৃদু ব্যায়ামের কথা বলা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


কিছুক্ষণ হাঁটার পরই পায়ে তীব্র ব্যথা?

প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হাঁটা শুরু করার সময় কোনো অস্বস্তি নেই, কিন্তু কিছুক্ষণ পর পায়ে তীব্র ব্যথা বা টান শুরু হচ্ছে - এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হতে পারে। কখনও ব্যথা এতটাই বাড়ে যে হাঁটা বন্ধ করে দাঁড়িয়ে পড়তে হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথার এই নির্দিষ্ট ধরনকে অবহেলা করা ঠিক নয়।

চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ‘হার্ভার্ড হেলথ পাবলিশিং’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাত বা সাধারণ পেশির টানের ক্ষেত্রে অনেক সময় হাঁটা শুরুর আগেই ব্যথা থাকে। কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাভাবিক অবস্থায় হাঁটা শুরু করার পর ব্যথা দেখা দিলে এর পেছনে রক্ত চলাচল বা স্নায়ুজনিত সমস্যা থাকতে পারে।

‘হার্ভার্ড মেনস হেলথ ওয়াচ’-এর সাবেক নির্বাহী সম্পাদক ও চিকিৎসা গবেষক ম্যাথিউ সোলান হার্ভার্ডের চিকিৎসকদের মতামতের ভিত্তিতে এ ধরনের ব্যথার সম্ভাব্য কারণ তুলে ধরেছেন।

পায়ে রক্তের প্রবাহ কমে গেলে

পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বা পিএডি এমন একটি সমস্যা, যেখানে পায়ের পেশিতে রক্ত পৌঁছে দেওয়া ধমনিগুলো সরু হয়ে যায়। ধমনিতে চর্বি বা প্লাক জমার কারণে এমনটা হতে পারে।

হার্ভার্ড-অধিভুক্ত ব্রিগ্যাম অ্যান্ড উইমেনস হসপিটালের রক্তনালী বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মোহামাদ হুসাইনের মতে, ধমনি সরু হয়ে গেলে পায়ের পেশিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না। ফলে হাঁটার সময় ব্যথা দেখা দেয়। হাঁটার গতি কমিয়ে দেওয়া বা থেমে গেলে আবার ব্যথা কমে আসতে পারে।

তার মতে, পায়ের রক্তনালিতে এমন ব্লক থাকলে হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্কের সঙ্গে যুক্ত রক্তনালিতেও একই ধরনের সমস্যার উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ব্যথার পরও প্রতিদিন অল্প অল্প করে হাঁটার অভ্যাস চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। নিয়মিত হাঁটার ফলে পায়ের ছোট রক্তনালিগুলো সক্রিয় হয়ে ব্লকের চারপাশ দিয়ে বিকল্প রক্ত চলাচলের পথ তৈরি করতে পারে। এতে পেশিতে অক্সিজেন পৌঁছানো বাড়তে পারে।

সায়াটিক নার্ভে চাপ

কোমর থেকে নিতম্ব হয়ে পায়ের নিচের অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত সায়াটিক স্নায়ুতে চাপ বা প্রদাহ তৈরি হলে সায়াটিকার সমস্যা হতে পারে। মেরুদণ্ডের মাঝের ডিস্ক সরে গিয়ে হার্নিয়েটেড ডিস্ক তৈরি হওয়া এর প্রধান কারণগুলোর একটি।

হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অর্থোপেডিক সার্জারি ও মেডিসিনের অধ্যাপক ডা. জেফরি এন. কাটজের মতে, ব্যথার ভয়ে দীর্ঘ সময় সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী হয়ে থাকা এ সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তার মতে, সায়াটিকার তীব্রতা কমাতে স্টেশনারি সাইকেল চালানো, পিঠের স্ট্রেচিং এবং উপযুক্ত যোগব্যায়াম করা যেতে পারে। এসবের মাধ্যমে মেরুদণ্ডের চারপাশের পেশিগুলো শক্তিশালী করা এবং স্নায়ুর ওপর চাপ কমাতে সহায়তা পাওয়া সম্ভব।

মেরুদণ্ডের নিচের অংশ সরু হলে

বয়স বাড়ার সঙ্গে মেরুদণ্ডের নিচের অংশের লিগামেন্ট ও জোড় ক্ষয় হতে পারে। এর ফলে মেরুদণ্ডের ভেতরের স্পাইনাল ক্যানাল ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এই অবস্থাকে লাম্বার স্পাইনাল স্টেনোসিস বলা হয়।

এ সমস্যায় স্বাভাবিক সময়ে কোনো সমস্যা না থাকলেও হাঁটতে শুরু করলেই কোমর, নিতম্ব ও উরুর ওপরের অংশে ব্যথা ও আড়ষ্টতা দেখা দিতে পারে।

ডা. জেফরি কাটজ বলেন, এ ধরনের ব্যথায় আক্রান্তরা শরীর সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে হাঁটলে কিংবা বসে পড়লে দ্রুত স্বস্তি পেতে পারেন।

সমস্যাটি নিয়ন্ত্রণে কোর বা শরীরের মধ্যবর্তী অংশের পেশি এবং পায়ের শক্তি ধরে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বিশেষায়িত ফিজিওথেরাপি এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মৃদু ব্যায়ামের কথা বলা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত