কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়। তারা সমুদ্রে ডাকাতি, মাদকের রুট নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে লিপ্ত। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্যাম্পে ২৫৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। থেমে নেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মাদক ব্যবসা, নকল ওষুধ বিক্রি এবং নকল সামগ্রী সরবরাহের তৎপরতাও। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটা থেকে রাত পর্যন্ত টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন, এসআরবি, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্যাটালিয়ন আনসার ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এপিবিএনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এপিবিএন-১৬ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল কোর্টে তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানে কুখ্যাত ‘সাদ্দাম বাহিনীর’ এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ক্যাম্পে অনলাইন জুয়া, মাদক সেবন, বাবা-মাকে মারধর, পুলিশের কাজে বাধাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনজনকে চার মাস ও একজনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত এক মাসে প্রায় অর্ধশত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এপিবিএনের এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এপিবিএন সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (রোহিঙ্গা) সদস্যরা ক্যাম্পভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারে নিজেদের মধ্যে নানা দল ও উপদল গঠন করছে। এসব দলের মধ্যে কেউ সশস্ত্র, কেউ নিরস্ত্র। স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তারা নিজেরাই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে।
সশস্ত্র দলগুলো সমুদ্রের ডাকাতি ও মাদকের রুট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। অন্যদিকে নিরস্ত্র দলগুলো পারিবারিক বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা, জুয়া, শিশু পাচার ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাতে জড়ায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট (২০২৬) পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র ও নিরস্ত্র উভয় গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, মাদকের রুট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর আস্থা লাভের জন্য সংঘর্ষ হয়েছে।
এ পর্যন্ত যত সংঘর্ষ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে- ৭৫টি ঘটনার মধ্যে ৯৪টিতে ভিকটিম অপরাধের শিকার হয়েছেন। আর ৭২টি মামলার ঘটনায় ১৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে সব কারণে সংঘর্ষ হয়েছে তার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, শত্রুতা ও গ্রুপ বিরোধকে কেন্দ্র করে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১৮ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। সেখানে অপরাধের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।
বাংলাদেশ পুলিশ ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কক্সবাজারে বিশেষ মতবিনিময় সভা
সম্প্রতি এপিবিএনের সদর দপ্তর থেকে একজন ডিআইজি সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অপরাধ দমনে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।
এপিবিএন সদর দপ্তরের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ দমনে এপিবিএন এখন যৌথ টহল, চেকপোস্টসহ বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে এপিবিএনের নিজস্ব ইউনিট তৎপর রয়েছে। সেখানে এপিবিএনের ১ হাজার ৯০০ এর বেশি জনবল কাজ করছে। তবে আরও সুবিধা বাড়ালে অপরাধ দমনে আরও বেশি কাজ করা সম্ভব হবে।”

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫টি সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয়। তারা সমুদ্রে ডাকাতি, মাদকের রুট নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার, অপহরণ ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধে লিপ্ত। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ক্যাম্পে ২৫৬টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। থেমে নেই অভ্যন্তরীণ কোন্দল, মাদক ব্যবসা, নকল ওষুধ বিক্রি এবং নকল সামগ্রী সরবরাহের তৎপরতাও। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটা থেকে রাত পর্যন্ত টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এপিবিএন, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন, এসআরবি, বিজিবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ব্যাটালিয়ন আনসার ও কোস্টগার্ডের সদস্যরা যৌথ অভিযান চালান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এপিবিএনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এপিবিএন-১৬ সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ অভিযানে সাজাপ্রাপ্ত আসামি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি ও ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া মোবাইল কোর্টে তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অভিযানে কুখ্যাত ‘সাদ্দাম বাহিনীর’ এক সদস্যকে আটক করা হয়েছে। আরও তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ক্যাম্পে অনলাইন জুয়া, মাদক সেবন, বাবা-মাকে মারধর, পুলিশের কাজে বাধাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তিনজনকে চার মাস ও একজনকে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত এক মাসে প্রায় অর্ধশত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এপিবিএনের এই অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এপিবিএন সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক (রোহিঙ্গা) সদস্যরা ক্যাম্পভিত্তিক আধিপত্য বিস্তারে নিজেদের মধ্যে নানা দল ও উপদল গঠন করছে। এসব দলের মধ্যে কেউ সশস্ত্র, কেউ নিরস্ত্র। স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে তারা নিজেরাই সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে।
সশস্ত্র দলগুলো সমুদ্রের ডাকাতি ও মাদকের রুট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়। অন্যদিকে নিরস্ত্র দলগুলো পারিবারিক বিরোধ, পূর্ব শত্রুতা, জুয়া, শিশু পাচার ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাতে জড়ায়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২১ সাল থেকে চলতি বছরের আগস্ট (২০২৬) পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র ও নিরস্ত্র উভয় গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, মাদকের রুট নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর আস্থা লাভের জন্য সংঘর্ষ হয়েছে।
এ পর্যন্ত যত সংঘর্ষ হয়েছে, তা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে- ৭৫টি ঘটনার মধ্যে ৯৪টিতে ভিকটিম অপরাধের শিকার হয়েছেন। আর ৭২টি মামলার ঘটনায় ১৯৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যে সব কারণে সংঘর্ষ হয়েছে তার মধ্যে আধিপত্য বিস্তার, শত্রুতা ও গ্রুপ বিরোধকে কেন্দ্র করে বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে প্রায় ১৮ লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। সেখানে অপরাধের ঘটনা দিন দিন বাড়ছে।
বাংলাদেশ পুলিশ ও জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কক্সবাজারে বিশেষ মতবিনিময় সভা
সম্প্রতি এপিবিএনের সদর দপ্তর থেকে একজন ডিআইজি সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অপরাধ দমনে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।
এপিবিএন সদর দপ্তরের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, “রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় অপরাধ দমনে এপিবিএন এখন যৌথ টহল, চেকপোস্টসহ বিশেষ অভিযান জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে এপিবিএনের নিজস্ব ইউনিট তৎপর রয়েছে। সেখানে এপিবিএনের ১ হাজার ৯০০ এর বেশি জনবল কাজ করছে। তবে আরও সুবিধা বাড়ালে অপরাধ দমনে আরও বেশি কাজ করা সম্ভব হবে।”

আপনার মতামত লিখুন