গন্ডারের শরীরে বসে ঠোঁট দিয়ে চামড়া ঘষছে ছোট্ট একটি পাখি। দৃশ্যটি শুধু বন্য প্রাণীর ছবি নয়, বরং দুই প্রজাতির পারস্পরিক নির্ভরতার গল্পও তুলে ধরে। দক্ষিণ আফ্রিকার আলোকচিত্রী আর্নেস্ট পোর্টারের তোলা ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’ শিরোনামের ছবিটি জায়গা পেয়েছে ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতার নির্বাচিত ১০০টি ছবির গ্যালারিতে।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম প্রকাশিত এই গ্যালারির ছবিটি তোলা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মানিয়েলেতি গেম রিজার্ভে। এতে দেখা যায়, একটি রেড-বিল্ড অক্সপেকার গন্ডারের মুখের কাছে বসে রয়েছে।
গন্ডারের শরীরই পাখির খাবারের উৎস
রেড-বিল্ড অক্সপেকার শুধু গন্ডারের গায়েই বসে না। জিরাফ, জেব্রা ও হরিণের মতো বড় তৃণভোজী প্রাণীর শরীর থেকেও খাবার সংগ্রহ করে। এসব প্রাণীর গায়ে থাকা মাছি, উকুন, টিকসহ বিভিন্ন পরজীবী পাখিটির খাদ্যের উৎস।
এভাবে বড় প্রাণীর শরীর থেকে খাবার পায় অক্সপেকার। একই সঙ্গে তাদের শরীরের কিছু পরজীবী কমাতেও পাখিটি ভূমিকা রাখতে পারে। ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ভাষ্য অনুযায়ী, তৃণভোজী প্রাণীদের শরীরে পরজীবীর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এই পাখি।
বিপদের সংকেতও দেয় ছোট্ট পাখিটি
অক্সপেকারের সঙ্গে বড় প্রাণীদের সম্পর্ক শুধু খাবার সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গন্ডারের দৃষ্টিশক্তি খুব ভালো নয়। অন্যদিকে, গন্ডার বা জিরাফের পিঠে বসে পাখিটি আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
কাছাকাছি বিপদের উপস্থিতি টের পেলে পাখিটি অস্থির হয়ে উঠতে পারে এবং ডাক দিয়ে সতর্কবার্তা দিতে পারে। এতে বড় প্রাণীটিরও সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এ কারণেই অক্সপেকারকে অনেক সময় গন্ডারের ‘রক্ষী’ বা ‘প্রহরী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সোয়াহিলি ভাষায় পাখিটির একটি নাম ‘আসকারি ওয়া কিফারু’, যার অর্থ ‘গন্ডারের রক্ষী’।
যে কারণে ছবির নাম ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’
গন্ডার ও পাখিটির এই পারস্পরিক সম্পর্ক থেকেই ছবির নাম রেখেছেন আলোকচিত্রী আর্নেস্ট পোর্টার। ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’ অর্থ পারস্পরিক বন্ধু।
ছবি তোলার সময় গন্ডারের শরীরে বসে থাকা অক্সপেকারকে ঠোঁট পরিষ্কার করতে দেখেন পোর্টার। সেই মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করেন তিনি। ছবিতে গন্ডারের চোখের চারপাশে নীলচে একটি বলয়ও রয়েছে, যা আলোকচিত্রীকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
প্রকৃতিতে ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে এমন সম্পর্ক দেখা যায়। এক প্রাণীর কাছ থেকে অন্য প্রাণী খাবার পায়, আবার সেই কার্যক্রমে উভয়েই উপকৃত হতে পারে। জীববিজ্ঞানে এ ধরনের পারস্পরিক সুবিধাজনক সম্পর্ককে বলা হয় ‘মিউচুয়ালিজম’।
প্রদর্শনী ও পুরস্কার ঘোষণার অপেক্ষা
‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতার নির্বাচিত ১০০টি ছবি ১৬ অক্টোবর থেকে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ী, গ্র্যান্ড টাইটেল বিজয়ী এবং ইয়াং গ্র্যান্ড টাইটেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
গন্ডারের শরীরে বসে ঠোঁট দিয়ে চামড়া ঘষছে ছোট্ট একটি পাখি। দৃশ্যটি শুধু বন্য প্রাণীর ছবি নয়, বরং দুই প্রজাতির পারস্পরিক নির্ভরতার গল্পও তুলে ধরে। দক্ষিণ আফ্রিকার আলোকচিত্রী আর্নেস্ট পোর্টারের তোলা ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’ শিরোনামের ছবিটি জায়গা পেয়েছে ‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতার নির্বাচিত ১০০টি ছবির গ্যালারিতে।
লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়াম প্রকাশিত এই গ্যালারির ছবিটি তোলা হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার মানিয়েলেতি গেম রিজার্ভে। এতে দেখা যায়, একটি রেড-বিল্ড অক্সপেকার গন্ডারের মুখের কাছে বসে রয়েছে।
গন্ডারের শরীরই পাখির খাবারের উৎস
রেড-বিল্ড অক্সপেকার শুধু গন্ডারের গায়েই বসে না। জিরাফ, জেব্রা ও হরিণের মতো বড় তৃণভোজী প্রাণীর শরীর থেকেও খাবার সংগ্রহ করে। এসব প্রাণীর গায়ে থাকা মাছি, উকুন, টিকসহ বিভিন্ন পরজীবী পাখিটির খাদ্যের উৎস।
এভাবে বড় প্রাণীর শরীর থেকে খাবার পায় অক্সপেকার। একই সঙ্গে তাদের শরীরের কিছু পরজীবী কমাতেও পাখিটি ভূমিকা রাখতে পারে। ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের ভাষ্য অনুযায়ী, তৃণভোজী প্রাণীদের শরীরে পরজীবীর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এই পাখি।
বিপদের সংকেতও দেয় ছোট্ট পাখিটি
অক্সপেকারের সঙ্গে বড় প্রাণীদের সম্পর্ক শুধু খাবার সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গন্ডারের দৃষ্টিশক্তি খুব ভালো নয়। অন্যদিকে, গন্ডার বা জিরাফের পিঠে বসে পাখিটি আশপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
কাছাকাছি বিপদের উপস্থিতি টের পেলে পাখিটি অস্থির হয়ে উঠতে পারে এবং ডাক দিয়ে সতর্কবার্তা দিতে পারে। এতে বড় প্রাণীটিরও সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এ কারণেই অক্সপেকারকে অনেক সময় গন্ডারের ‘রক্ষী’ বা ‘প্রহরী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সোয়াহিলি ভাষায় পাখিটির একটি নাম ‘আসকারি ওয়া কিফারু’, যার অর্থ ‘গন্ডারের রক্ষী’।
যে কারণে ছবির নাম ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’
গন্ডার ও পাখিটির এই পারস্পরিক সম্পর্ক থেকেই ছবির নাম রেখেছেন আলোকচিত্রী আর্নেস্ট পোর্টার। ‘মিউচুয়াল ফ্রেন্ডস’ অর্থ পারস্পরিক বন্ধু।
ছবি তোলার সময় গন্ডারের শরীরে বসে থাকা অক্সপেকারকে ঠোঁট পরিষ্কার করতে দেখেন পোর্টার। সেই মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করেন তিনি। ছবিতে গন্ডারের চোখের চারপাশে নীলচে একটি বলয়ও রয়েছে, যা আলোকচিত্রীকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছিল।
প্রকৃতিতে ভিন্ন প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে এমন সম্পর্ক দেখা যায়। এক প্রাণীর কাছ থেকে অন্য প্রাণী খাবার পায়, আবার সেই কার্যক্রমে উভয়েই উপকৃত হতে পারে। জীববিজ্ঞানে এ ধরনের পারস্পরিক সুবিধাজনক সম্পর্ককে বলা হয় ‘মিউচুয়ালিজম’।
প্রদর্শনী ও পুরস্কার ঘোষণার অপেক্ষা
‘ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার অব দ্য ইয়ার’ প্রতিযোগিতার নির্বাচিত ১০০টি ছবি ১৬ অক্টোবর থেকে লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগের বিজয়ী, গ্র্যান্ড টাইটেল বিজয়ী এবং ইয়াং গ্র্যান্ড টাইটেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।

আপনার মতামত লিখুন