অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয় বেশি। তবে দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তার প্রভাব পড়তে পারে চোখেও। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং এ রোগের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
চিনি খেলেই সরাসরি চোখের ক্ষতি হয়, বিষয়টি এমন নয়। বরং দীর্ঘ সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকলে চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে রেটিনায়, যা চোখের পেছনে থাকা আলোক-সংবেদনশীল টিস্যু এবং দেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চোখে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে
১. রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হতে পারে। এ অবস্থায় রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে, তরল বেরিয়ে আসতে পারে কিংবা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গুরুতর পর্যায়ে অস্বাভাবিক রক্তনালি তৈরি হয়ে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে।
এ সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবে পড়তে বা কাজ করতে পারলেও রেটিনায় ক্ষতি চলতে পারে।
২. ছানি হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি
চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে গেলে তাকে ছানি বলা হয়। এতে স্পষ্টভাবে দেখতে অসুবিধা হয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় কম বয়সে এবং বেশি ঘন ঘন ছানি দেখা দিতে পারে।
আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসা নির্দেশিকায় ডায়াবেটিস রোগীদের ছানি ও অন্যান্য চোখের জটিলতার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব জটিলতার ঝুঁকি কমাতে রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
তবে মিষ্টি খেলেই ছানি হবে, এমন নয়। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকা এবং অন্যান্য ঝুঁকির প্রভাবই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করলে চোখের লেন্সের আকৃতি ও ফোকাস করার ক্ষমতায় সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কোনো কোনো সময় দৃষ্টি ঝাপসা মনে হতে পারে।
তবে ঝাপসা দেখার পেছনে শুধু রক্তে শর্করাই দায়ী নয়। চোখের পাওয়ারের সমস্যা, শুষ্ক চোখ কিংবা সংক্রমণ থেকেও এমন হতে পারে। দৃষ্টি ঝাপসা থাকা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে চোখ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
কোন খাবার ও পানীয়ের পরিমাণ কমাবেন?
খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে নজর দেওয়া যেতে পারে।
চোখ ভালো রাখতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
চোখের যত্ন নিতে সব ধরনের মিষ্টি খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত খাবার গ্রহণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তার প্রভাব চোখে পড়তে পারে। তাই দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও ডায়াবেটিসজনিত চোখের জটিলতার ঝুঁকিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকির সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয় বেশি। তবে দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তার প্রভাব পড়তে পারে চোখেও। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং এ রোগের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
চিনি খেলেই সরাসরি চোখের ক্ষতি হয়, বিষয়টি এমন নয়। বরং দীর্ঘ সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেশি থাকলে চোখের সূক্ষ্ম রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে রেটিনায়, যা চোখের পেছনে থাকা আলোক-সংবেদনশীল টিস্যু এবং দেখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
চোখে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে
১. রেটিনার রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া
রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দীর্ঘদিন বেশি থাকলে ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি হতে পারে। এ অবস্থায় রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেগুলো থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে, তরল বেরিয়ে আসতে পারে কিংবা রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গুরুতর পর্যায়ে অস্বাভাবিক রক্তনালি তৈরি হয়ে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে।
এ সমস্যার প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে স্বাভাবিকভাবে পড়তে বা কাজ করতে পারলেও রেটিনায় ক্ষতি চলতে পারে।
২. ছানি হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি
চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে গেলে তাকে ছানি বলা হয়। এতে স্পষ্টভাবে দেখতে অসুবিধা হয়। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় কম বয়সে এবং বেশি ঘন ঘন ছানি দেখা দিতে পারে।
আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশনের চিকিৎসা নির্দেশিকায় ডায়াবেটিস রোগীদের ছানি ও অন্যান্য চোখের জটিলতার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এসব জটিলতার ঝুঁকি কমাতে রক্তে শর্করা, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়।
তবে মিষ্টি খেলেই ছানি হবে, এমন নয়। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে না থাকা এবং অন্যান্য ঝুঁকির প্রভাবই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
৩. দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করলে চোখের লেন্সের আকৃতি ও ফোকাস করার ক্ষমতায় সাময়িক পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কোনো কোনো সময় দৃষ্টি ঝাপসা মনে হতে পারে।
তবে ঝাপসা দেখার পেছনে শুধু রক্তে শর্করাই দায়ী নয়। চোখের পাওয়ারের সমস্যা, শুষ্ক চোখ কিংবা সংক্রমণ থেকেও এমন হতে পারে। দৃষ্টি ঝাপসা থাকা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে চোখ পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
কোন খাবার ও পানীয়ের পরিমাণ কমাবেন?
খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে নজর দেওয়া যেতে পারে।
চোখ ভালো রাখতে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন
চোখের যত্ন নিতে সব ধরনের মিষ্টি খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং পরিমিত খাবার গ্রহণ, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে আস্ত ফল খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। পাশাপাশি খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, গোটা শস্য, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তার প্রভাব চোখে পড়তে পারে। তাই দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও ডায়াবেটিসজনিত চোখের জটিলতার ঝুঁকিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

আপনার মতামত লিখুন