সংবাদ

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিতে হবে


প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৪ এএম

মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিতে হবে

মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার অপরিহার্য অংশ। দেশে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব, চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ এবং সামাজিক সংকোচের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের ৯২ শতাংশের বেশি চিকিৎসাসেবা নেন না। এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

মানসিক সমস্যাকে ঘিরে সমাজে নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে। অনেকেই বিষণ্নতা, উদ্বেগ কিংবা অন্য কোনো মানসিক সমস্যাকে অসুস্থতা হিসেবে স্বীকার করতে চান না। অনেকে চিকিৎসা নিতে সংকোচ বোধ করেন। কেউ কেউ আবার উপহাস ও বৈষম্যের ভয়ে নিজের কষ্টের কথা গোপন রাখেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির সহমর্মিতা, যথাযথ চিকিৎসা ও সামাজিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যদের তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের সহায়তা নিতে উৎসাহিত করতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা দক্ষ জনবলের অভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন। এ খাতে স্বাস্থ্য বাজেটের সামান্য অংশই বরাদ্দ থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী, প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে চিকিৎসার জন্য মানুষকে দূরের শহরে ছুটতে না হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র জানতে নিয়মিত জাতীয় জরিপ ও গবেষণাও প্রয়োজন। সর্বশেষ জরিপের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে মানুষের জীবনযাপন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক বাস্তবতায় নানা পরিবর্তন এসেছে। নতুন জরিপের মাধ্যমে সমস্যার ব্যাপকতা নিরূপণ করে পরিকল্পনা ও বরাদ্দ নির্ধারণ করা জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬


মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় জোর দিতে হবে

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

মানসিক স্বাস্থ্য মানুষের সামগ্রিক সুস্থতার অপরিহার্য অংশ। দেশে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব, চিকিৎসাসেবার সীমিত সুযোগ এবং সামাজিক সংকোচের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য জরিপ ২০১৮-১৯-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২ দশমিক ৬ শতাংশ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের ৯২ শতাংশের বেশি চিকিৎসাসেবা নেন না। এই পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

মানসিক সমস্যাকে ঘিরে সমাজে নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে। অনেকেই বিষণ্নতা, উদ্বেগ কিংবা অন্য কোনো মানসিক সমস্যাকে অসুস্থতা হিসেবে স্বীকার করতে চান না। অনেকে চিকিৎসা নিতে সংকোচ বোধ করেন। কেউ কেউ আবার উপহাস ও বৈষম্যের ভয়ে নিজের কষ্টের কথা গোপন রাখেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির সহমর্মিতা, যথাযথ চিকিৎসা ও সামাজিক সহযোগিতা প্রয়োজন। পরিবারের সদস্যদের তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের সহায়তা নিতে উৎসাহিত করতে হবে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা দক্ষ জনবলের অভাব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি এক লাখ মানুষের বিপরীতে মানসিক স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা মাত্র ১ দশমিক ১৭ জন। এ খাতে স্বাস্থ্য বাজেটের সামান্য অংশই বরাদ্দ থাকে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী, প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ করতে হবে, যাতে চিকিৎসার জন্য মানুষকে দূরের শহরে ছুটতে না হয়।

মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র জানতে নিয়মিত জাতীয় জরিপ ও গবেষণাও প্রয়োজন। সর্বশেষ জরিপের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে মানুষের জীবনযাপন, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সামাজিক বাস্তবতায় নানা পরিবর্তন এসেছে। নতুন জরিপের মাধ্যমে সমস্যার ব্যাপকতা নিরূপণ করে পরিকল্পনা ও বরাদ্দ নির্ধারণ করা জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত