দুর্গোৎসবের বাকি আর মাত্র ৪ দিন। শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাব্যাপী সকল মণ্ডপে ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমাশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমার অনুপম রূপ দেওয়ার শেষ মুহূর্তের কাজে। রং-তুলির বর্ণিল স্পর্শে প্রতিমা-বিগ্রহ মোহনীয় সাজে সাজানো হচ্ছে। কেননা, হাতে সময় নেই একেবারেই। আবহাওয়া মোটামুটি সুপ্রসব হওয়ায় প্রতিমার রঙের কাজে তেমন বিঘ্ন ঘটেনি কোথাও। প্রতিমায় শেষ প্রকোপ লাগানোর কাজ চলছে বিরতিহীনভাবে। হাতে ফুরসত নেই প্রতিমাশিল্পীদের। তারপরেও সকল কাজ সমাপ্তির পথে।
উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে প্রায় অভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। রঙের কাজও হয়ে গেছে প্রায় সবখানে। রোববার (১১ অক্টোবর) পৌরসভা এলাকার তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া মাতৃমন্দির, উত্তর মুরারিকাতিপুর পালপাড়া ও গোয়ালঘোষপাড়া পূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব এই দুর্গাপূজাকে ঘিরে এখন তাদের ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিটি ঘরের সব বয়সি মানুষ সময় পেলেই চলে আসেন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি ও রাঙিয়ে তোলার কাজ নিজেদের চোখে দেখতে।
সবখানে সম্প্রীতিময় পরিবেশ বিরাজ করায় তারা উপজেলার সকল ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কলারোয়া উপজেলায় এবার ৪৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে
গত ৭ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে দুর্গাপূজার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় জানানো হয়, এবার উপজেলার ৪৬টি মণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, উপজেলার ৪৬ পূজা মণ্ডপের কোনোটিই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কলারোয়া উপজেলার ৪৬ পূজা মণ্ডপের নাম তুলে ধরা হলো:
কলারোয়া পৌরসভার ৮টি মণ্ডপ হলো: তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া সর্বজনীন, তুলসীডাঙ্গা গোয়ালঘোষপাড়া সর্বজনীন, উত্তর মুরারিকাতিপুর পালপাড়া, মুরারিকাতিপুর দক্ষিণ পাড়া, মুরারিকাতিপুর দক্ষিণ হরিসভা, গোপীনাথপুর ঘোষপাড়া সর্বজনীন, গোপীনাথপুর দক্ষিণ পাড়া সর্বজনীন ও ঝিকরা হরিজলা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ।
রায়পুর ইউনিয়নের ৮টি পূজামণ্ডপ হলো: খোড়া-বাটুরিয়া সর্বজনীন, ধানদিয়া দাসপাড়া সর্বজনীন, রায়পুর মাঝের পাড়া, দক্ষিণ রায়পুর তরুণ সংঘ, গারবনা-বসন্তপুর কর্মকার পাড়া, উত্তর রায়পুর দাসপাড়া আনন্দ সংঘ সর্বজনীন, উত্তর রায়পুর দাসপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপ ও ক্ষেত্রপাড়া দাসপাড়া সর্বজনীন পূজা মন্দির।
যুগীখালী ইউনিয়নের ২টি পূজামণ্ডপ হলো: বামনখালী বিনোদতলা সর্বজনীন পূজামণ্ডপ ও ফানদিয়া সর্বজনীন মায়ের মন্দির।
এ ছাড়াও কলারোয়া উপজেলা পূজা উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ কুমার হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস দেবু’র সাথে। তারা সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবার উপজেলার সকল মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি দাবি করে তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো থাকায় পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকবে। সর্বপরি আপামর মানুষের প্রাণঢালা ভালোবাসায় আনন্দঘন পরিবেশে এবারও দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে চলেছে - এমনটি মনে করেন কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
দুর্গোৎসবের বাকি আর মাত্র ৪ দিন। শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলাব্যাপী সকল মণ্ডপে ইতিমধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিমাশিল্পীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমার অনুপম রূপ দেওয়ার শেষ মুহূর্তের কাজে। রং-তুলির বর্ণিল স্পর্শে প্রতিমা-বিগ্রহ মোহনীয় সাজে সাজানো হচ্ছে। কেননা, হাতে সময় নেই একেবারেই। আবহাওয়া মোটামুটি সুপ্রসব হওয়ায় প্রতিমার রঙের কাজে তেমন বিঘ্ন ঘটেনি কোথাও। প্রতিমায় শেষ প্রকোপ লাগানোর কাজ চলছে বিরতিহীনভাবে। হাতে ফুরসত নেই প্রতিমাশিল্পীদের। তারপরেও সকল কাজ সমাপ্তির পথে।
উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে ঘুরে প্রায় অভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। রঙের কাজও হয়ে গেছে প্রায় সবখানে। রোববার (১১ অক্টোবর) পৌরসভা এলাকার তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া মাতৃমন্দির, উত্তর মুরারিকাতিপুর পালপাড়া ও গোয়ালঘোষপাড়া পূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বড় উৎসব এই দুর্গাপূজাকে ঘিরে এখন তাদের ঘরে ঘরে উৎসবের আমেজ। সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিটি ঘরের সব বয়সি মানুষ সময় পেলেই চলে আসেন মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি ও রাঙিয়ে তোলার কাজ নিজেদের চোখে দেখতে।
সবখানে সম্প্রীতিময় পরিবেশ বিরাজ করায় তারা উপজেলার সকল ধর্ম-বর্ণ-সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কলারোয়া উপজেলায় এবার ৪৬টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে
গত ৭ অক্টোবর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে দুর্গাপূজার আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় জানানো হয়, এবার উপজেলার ৪৬টি মণ্ডপ সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও জানান, উপজেলার ৪৬ পূজা মণ্ডপের কোনোটিই ঝুঁকিপূর্ণ নয়। কলারোয়া উপজেলার ৪৬ পূজা মণ্ডপের নাম তুলে ধরা হলো:
কলারোয়া পৌরসভার ৮টি মণ্ডপ হলো: তুলসীডাঙ্গা ঘোষপাড়া সর্বজনীন, তুলসীডাঙ্গা গোয়ালঘোষপাড়া সর্বজনীন, উত্তর মুরারিকাতিপুর পালপাড়া, মুরারিকাতিপুর দক্ষিণ পাড়া, মুরারিকাতিপুর দক্ষিণ হরিসভা, গোপীনাথপুর ঘোষপাড়া সর্বজনীন, গোপীনাথপুর দক্ষিণ পাড়া সর্বজনীন ও ঝিকরা হরিজলা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ।
রায়পুর ইউনিয়নের ৮টি পূজামণ্ডপ হলো: খোড়া-বাটুরিয়া সর্বজনীন, ধানদিয়া দাসপাড়া সর্বজনীন, রায়পুর মাঝের পাড়া, দক্ষিণ রায়পুর তরুণ সংঘ, গারবনা-বসন্তপুর কর্মকার পাড়া, উত্তর রায়পুর দাসপাড়া আনন্দ সংঘ সর্বজনীন, উত্তর রায়পুর দাসপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপ ও ক্ষেত্রপাড়া দাসপাড়া সর্বজনীন পূজা মন্দির।
যুগীখালী ইউনিয়নের ২টি পূজামণ্ডপ হলো: বামনখালী বিনোদতলা সর্বজনীন পূজামণ্ডপ ও ফানদিয়া সর্বজনীন মায়ের মন্দির।
এ ছাড়াও কলারোয়া উপজেলা পূজা উদযাপনের সার্বিক প্রস্তুতি, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কথা হয় বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট, কলারোয়া উপজেলা শাখার সভাপতি প্রদীপ কুমার হালদার ও সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ দাস দেবু’র সাথে। তারা সার্বিক প্রস্তুতি ও পরিবেশে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবার উপজেলার সকল মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হতে যাচ্ছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি দাবি করে তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোটামুটি ভালো থাকায় পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত থাকবে। সর্বপরি আপামর মানুষের প্রাণঢালা ভালোবাসায় আনন্দঘন পরিবেশে এবারও দুর্গোৎসব উদযাপিত হতে চলেছে - এমনটি মনে করেন কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ।

আপনার মতামত লিখুন