পেনশন পুনঃস্থাপন, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতার দাবিতে ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আজ রবিবার ‘গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের’ ব্যানারে মিরপুর-২ নম্বরে অবস্থিত ভবনের সামনে শত শত সাবেক কর্মী জড়ো হয়ে এ বিক্ষোভ শুরু করেন।
ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, সাবেক কর্মীরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনীও সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী সাবেক কর্মীরা জানান, চাকরির নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের অনেকের ওপর বাধ্যতামূলক অবসর চাপিয়ে দিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তারা পুনরায় মাসিক পেনশন চালু করার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধা ও উৎসব ভাতা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত নীতি অনুযায়ী অবসরে যাওয়ার ১৫ বছর পূর্ণ হলে একজন সাবেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী পুনরায় মাসিক পেনশন পাওয়ার আইনগত অধিকার অর্জন করেন।
নিজেদের এই সাংবিধানিক অধিকার ও পাওনা আদায়ের লক্ষে ২০২১ সালে সংক্ষুব্ধ অবসরপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্ট অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পক্ষে রায় প্রদান করেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি চলতি বছরের ২২ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। আদালতের এই রায় ও সরকারি নির্দেশনার চূড়ান্ত প্রকাশ হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক নারী সাবেক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা কোনো চাঁদাবাজ না, সন্ত্রাসী না, ভিক্ষুক না। কোনো বিশৃঙ্খলা আমাদের নেই। আমরা শুধু ন্যায্য পাওনার জন্য আসছি।"
তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতাকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, "উনি তো নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন আমাদের কারণে। আমাদেরকে ভিক্ষুক বানিয়ে উনি প্রজ্ঞাপন জারি করে হাতের তালি দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।"
আন্দোলনরতদের পক্ষ থেকে অন্য এক সাবেক কর্মকর্তা দাবি করেন, তারা গ্রামীণ ব্যাংকে তৎকালীন প্রশাসনের বৈষম্যের শিকার হয়ে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়েছিলেন।
তিনি বলেন, "আমরা যারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আছি, তাদের অবসরের ১৫ বছর হলে তাদেরকে পুনঃপেনশন দেওয়ার কথা। আমাদেরকে দুই ঈদে দুইটা বোনাস এবং বৈশাখী ভাতা এগুলা দেওয়ার কথা। চিকিৎসা ভাতা প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমাদেরকে দেওয়ার কথা। হাই কোর্টে রিট অনুযায়ী এই রায় দিছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে দিতেছে না।"
দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কষ্টে দিনাতিপাত করার কথা তুলে ধরে ১৯৮৪ সালে যোগদানকারী ৬৭ বছর বয়সী অপর এক সাবেক কর্মী বলেন, "২০০০ সালে অল্প কিছু টাকা দিয়ে আমাকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছিল। ওইটুকুতে আমার সংসারে কিছু হয়নি। এখন আমার বয়স হয়ে গেছে ৬৭ বছর। বয়সের তুলনায় আমার শরীরে নানান অসুখ ধরে গেছে, আমার সংসারেরও খুব অভাব। আমি পেনশনের টাকা চাই, আমাদের এই ন্যায্য পাওনা থেকে তারা আমাদেরকে বঞ্চিত করছে।"
সংগঠনটির দায়িত্বশীলরা জানান, ২০০৪ ও ২০১৬ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কল্যাণার্থে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, তা গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ বাস্তবায়ন করছে না। বকেয়া ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা আদায়ের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্মারকলিপি প্রদান এবং বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও কোনো সুরাহা মেলেনি। ফলে আদালতের রায় অনুযায়ী দাবি-দাওয়া সম্পূর্ণরূপে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ থেকে সরবেন না এবং এ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

রোববার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬
পেনশন পুনঃস্থাপন, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতার দাবিতে ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আজ রবিবার ‘গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের’ ব্যানারে মিরপুর-২ নম্বরে অবস্থিত ভবনের সামনে শত শত সাবেক কর্মী জড়ো হয়ে এ বিক্ষোভ শুরু করেন।
ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, সাবেক কর্মীরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান কর্মসূচি পরিচালনা করছেন। সেখানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা কিংবা বিশৃঙ্খলা ঘটেনি। তারা তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন এবং যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ বাহিনীও সেখানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী সাবেক কর্মীরা জানান, চাকরির নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের অনেকের ওপর বাধ্যতামূলক অবসর চাপিয়ে দিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে তারা পুনরায় মাসিক পেনশন চালু করার পাশাপাশি চিকিৎসা সুবিধা ও উৎসব ভাতা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত নীতি অনুযায়ী অবসরে যাওয়ার ১৫ বছর পূর্ণ হলে একজন সাবেক কর্মকর্তা বা কর্মচারী পুনরায় মাসিক পেনশন পাওয়ার আইনগত অধিকার অর্জন করেন।
নিজেদের এই সাংবিধানিক অধিকার ও পাওনা আদায়ের লক্ষে ২০২১ সালে সংক্ষুব্ধ অবসরপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্ট অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পক্ষে রায় প্রদান করেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি চলতি বছরের ২২ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়। আদালতের এই রায় ও সরকারি নির্দেশনার চূড়ান্ত প্রকাশ হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তা বাস্তবায়নে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া এক নারী সাবেক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা কোনো চাঁদাবাজ না, সন্ত্রাসী না, ভিক্ষুক না। কোনো বিশৃঙ্খলা আমাদের নেই। আমরা শুধু ন্যায্য পাওনার জন্য আসছি।"
তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতাকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, "উনি তো নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন আমাদের কারণে। আমাদেরকে ভিক্ষুক বানিয়ে উনি প্রজ্ঞাপন জারি করে হাতের তালি দিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।"
আন্দোলনরতদের পক্ষ থেকে অন্য এক সাবেক কর্মকর্তা দাবি করেন, তারা গ্রামীণ ব্যাংকে তৎকালীন প্রশাসনের বৈষম্যের শিকার হয়ে নির্ধারিত মেয়াদের আগেই বাধ্য হয়ে চাকরি ছেড়েছিলেন।
তিনি বলেন, "আমরা যারা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আছি, তাদের অবসরের ১৫ বছর হলে তাদেরকে পুনঃপেনশন দেওয়ার কথা। আমাদেরকে দুই ঈদে দুইটা বোনাস এবং বৈশাখী ভাতা এগুলা দেওয়ার কথা। চিকিৎসা ভাতা প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমাদেরকে দেওয়ার কথা। হাই কোর্টে রিট অনুযায়ী এই রায় দিছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে দিতেছে না।"
দীর্ঘদিন ধরে মানবিক কষ্টে দিনাতিপাত করার কথা তুলে ধরে ১৯৮৪ সালে যোগদানকারী ৬৭ বছর বয়সী অপর এক সাবেক কর্মী বলেন, "২০০০ সালে অল্প কিছু টাকা দিয়ে আমাকে বিদায় করে দেওয়া হয়েছিল। ওইটুকুতে আমার সংসারে কিছু হয়নি। এখন আমার বয়স হয়ে গেছে ৬৭ বছর। বয়সের তুলনায় আমার শরীরে নানান অসুখ ধরে গেছে, আমার সংসারেরও খুব অভাব। আমি পেনশনের টাকা চাই, আমাদের এই ন্যায্য পাওনা থেকে তারা আমাদেরকে বঞ্চিত করছে।"
সংগঠনটির দায়িত্বশীলরা জানান, ২০০৪ ও ২০১৬ সালে অর্থ মন্ত্রণালয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের কল্যাণার্থে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল, তা গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদ বাস্তবায়ন করছে না। বকেয়া ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা আদায়ের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্মারকলিপি প্রদান এবং বারবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও কোনো সুরাহা মেলেনি। ফলে আদালতের রায় অনুযায়ী দাবি-দাওয়া সম্পূর্ণরূপে মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ থেকে সরবেন না এবং এ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখবেন।

আপনার মতামত লিখুন