সংবাদ

আয়ের চেয়ে বাড়ে ব্যয়: সংকটের মুখে সাধারণ মানুষের অর্থনীতি


মতিউর রহমান
মতিউর রহমান
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ এএম

আয়ের চেয়ে বাড়ে ব্যয়: সংকটের মুখে সাধারণ মানুষের অর্থনীতি
উচ্চ এবং উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ক্রমবর্ধমান খরচের ধাক্কা সামলাতে তাদের সঞ্চয়, পূর্ববর্তী বিনিয়োগ কিংবা অপ্রয়োজনীয় ভোগ কাটছাঁট করার সুযোগ পায়। কিন্তু নিম্ন-আয়, নির্দিষ্ট আয় এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জন্য এই সুযোগ একদমই অনুপস্থিত

বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা বর্তমানে এক বড় ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। এই প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছে দেশের লাখ লাখ সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন বাজেটের টানাপোড়েন। বর্তমান সময়ে নীতি-নির্ধারকদের আলোচনা, গবেষণা প্রতিবেদন এবং সংবাদপত্রের পাতায় মূল্যস্ফীতির শতাংশ, প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস, আর্থিক খাতের সংস্কার কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিসংখ্যান প্রাধান্য পেয়ে থাকে। কিন্তু যেকোনো অর্থনৈতিক নীতি ও পুনরুদ্ধারের আসল এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল পরীক্ষাটি সাধিত হয় সাধারণ মানুষের জীবনের বাস্তবে। দেশের আপামর নাগরিক নিজেদের জমানো সঞ্চয় নিঃশেষ না করে, ঋণের জালে জড়িয়ে না পড়ে কিংবা দৈনন্দিন খাদ্য গ্রহণ না কমিয়ে তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা, বাসস্থান ও যাতায়াত ব্যয় নির্বাহ করতে পারছেন কি না—সেটিই হলো একটি সফল অর্থনীতির মূল মানদণ্ড। যখন দেখা যায় মানুষের আয় অর্জনের সক্ষমতা জীবনধারণের নিত্যনতুন ব্যয়ের হারের তুলনায় ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে, তখন অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার সমস্ত চড়া মাশুল শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে দেশের সীমিত ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর ঘাড়েই।

পরিসংখ্যানের খতিয়ান এই অশুভ ও উদ্বেগের চিত্রটিকেই স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য ও হালনাগাদ মজুরি সূচক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মৌলিক পরিষেবার দাম যে গতিতে বাড়ছে, সাধারণ শ্রমজীবী ও চাকরিজীবীদের পারিশ্রমিক বা মজুরি বৃদ্ধির হার তার সাথে কোনোভাবেই তাল মেলাতে পারছে না। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতের ব্যয় বৃদ্ধি যখন লাগামহীন রূপ নেয়, তখন নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ক্ষয় হতে থাকে। যদিও পরিসংখ্যানের পাতায় মূল্যস্ফীতির হারে সাময়িক সামান্য হ্রাস-বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে, তবে তার অর্থ এই নয় যে বাজারে পণ্য বা সেবার দাম বাস্তবে কমে গেছে। এর অর্থ কেবল এটাই যে দাম বাড়ার গতিটি সাময়িকভাবে কিছুটা ধীর হয়েছে। যে পরিবারগুলো ইতিমধ্যেই অতিপ্রয়োজনীয় ভোগ ছাঁটাই করেছে, পূর্বের জমানো টাকা খরচ করে ফেলেছে কিংবা ধারদেনা করে দিনাতিপাত করছে, মূল্যস্ফীতির সামান্য মন্দা তাদের জীবনে কোনো তাৎক্ষণিক স্বস্তি নিয়ে আসে না। প্রকৃত আয় বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ক্রয়ক্ষমতার এই অবক্ষয় থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।

এই সংকটের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সমাজের সব শ্রেণীতে সমানভাবে পড়ে না, বরং এর বণ্টন অত্যন্ত অসম। উচ্চ এবং উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ক্রমবর্ধমান খরচের ধাক্কা সামলাতে তাদের সঞ্চয়, পূর্ববর্তী বিনিয়োগ কিংবা অপ্রয়োজনীয় ভোগ কাটছাঁট করার সুযোগ পায়। কিন্তু নিম্ন-আয়, নির্দিষ্ট আয় এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জন্য এই সুযোগ একদমই অনুপস্থিত। কারণ তাদের অর্জিত মোট আয়ের সিংহভাগই ব্যয় করতে হয় স্রেফ বেঁচে থাকার মৌলিক রসদ—যেমন চাল, ডাল, তেল, বাসা ভাড়া, ওষুধ এবং সন্তানদের স্কুলের বেতন মেটাতে। পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্র পরিবর্তন করে সস্তা বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ বা গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ অনিশ্চিতকালের জন্য স্থগিত রাখার সামর্থ্য তাদের থাকে না। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও একই চরম সত্য ফুটে উঠেছে—উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উপার্জনের স্থবিরতার দরুন দেশের কোটি কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্রে‍্যর দিকে ঢলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি কৃত্রিম বা সুবিধাজনক সূচক দিয়ে এই পারিবারিক ও সামাজিক সংকটকে আড়াল করা সম্ভব নয়।

পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা কেবল কোনো দাতব্য বা সামাজিক কল্যাণমূলক বিষয় নয়, এটি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখার প্রাথমিক শর্ত। যখন সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি টাকা থাকে না বা প্রকৃত আয় কমে যায়, তখন তারা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বন্ধ করতে বাধ্য হন। এর ফলে তারা পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার পেছনে ব্যয় কমাতে বাধ্য হন—যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় মানবসম্পদের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বিনষ্ট করে। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ বাজারে সার্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ক্ষুদ্র খুচরা বিক্রেতা, স্থানীয় উৎপাদক, হস্তশিল্পজীবী ও ক্ষুদ্র সেবা প্রদানকারীরা। বাজারে বিক্রি কমে গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে, যার ফলে নতুন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে উৎসাহিত হন না এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই বা কাজের সময় কমাতে বাধ্য হয়। এর ফলে বাজারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং যারা কর্মরত আছেন তারাও চাকরি হারানোর চরম অনিশ্চয়তায় ভোগেন। এভাবে মূলধনের ঘাটতি এবং চাহিদার পতন একে অপরকে উসকে দিয়ে এক মারাত্মক ক্ষতিকর অর্থনৈতিক চক্রের জন্ম দেয়।

বাংলাদেশের শ্রমবাজারের দিকে তাকালে দেখা যায়, এ দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী অনানুষ্ঠানিক খাত, দিনমজুরি, ক্ষুদ্র পারিবারিক ব্যবসা কিংবা স্বকর্মসংস্থানের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। সরকারি গড় মজুরি সূচক বা প্রাতিষ্ঠানিক খাতের বেতনের তথ্য দিয়ে এই অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের কাজের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি পরিমাপ করা যায় না। আবহাওয়া, ঋতুভিত্তিক কাজের সুযোগ কিংবা স্থানীয় বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দিনমজুরদের আয় প্রতিদিন ওঠানামা করে। অনানুষ্ঠানিক খাতের কোনো শ্রমিক কাজ হারালে বা অসুস্থ হলে তার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক সুরক্ষা বা বেকারত্ব ভাতার সুযোগ থাকে না। পরের দিনের আয় নিশ্চিত হবে কি না—এই মানসিক দুশ্চিন্তার সাথে যখন জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতি যোগ হয়, তখন পারিবারিক জীবন চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। এর সাথে গৃহস্থালি ও সামাজিকভাবে নারীদের ওপর পড়া বাড়তি চাপের বিষয়টিও সংযুক্ত। পরিবারের আয় কমে গেলে বা কেউ বেকার হয়ে পড়লে সেই আর্থিক টানাটানির ধকল সবচেয়ে বেশি সামলাতে হয় নারীদের। তাদের অবৈতনিক সেবা শ্রম বেড়ে যায়, খাবারের পাতিল থেকে নারীদের নিজেদের পুষ্টি কাটছাঁট করতে হয় এবং নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় বড় ধরনের আঘাত আসে।

আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, কেবল সুদের হার বাড়িয়ে বা কঠোর মুদ্রানীতি প্রয়োগ করে এই মূল্যস্ফীতির প্রতিটি উৎস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে হয়তো বাজারে ঋণের প্রবাহ ও সামগ্রিক চাহিদায় কিছুটা টান ধরতে পারে, কিন্তু সুদের হার বৃদ্ধি একা কোনো কৃষি পণ্যের পচনশীলতা ঠেকাতে পারে না, সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থার তোলাবাজি বা যাতায়াত খরচ কমাতে পারে না, কিংবা বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি বন্ধ করতে পারে না। মুদ্রানীতি রাতারাতি কোনো উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানও তৈরি করতে পারে না। তাই নীতিনির্ধারকদের চাহিদাজনিত চাপ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রেখে নীতি কৌশল সাজাতে হবে। বিশেষ করে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের বাজারে সরবরাহের ঘাটতি, পচনশীল পণ্যের হিমাগার অবকাঠামোর অভাব, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লোটার অপচেষ্টাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর তদারকি প্রয়োজন। পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ব্যবধান নিয়মিত তদারকি করা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করতে আইনি ক্ষমতার সঠিক ও ধারাবাহিক প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।

একই সাথে, আমদানি নীতির ক্ষেত্রেও বিচক্ষণ সময়জ্ঞান ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। দেশীয় সরবরাহ যখন চাহিদার তুলনায় কমে যায়, তখন সময়মতো সুনির্দিষ্ট আমদানি শুল্ক ছাড় বা বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করে বাজার স্থিতিশীল রাখা যেতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন দেশের কৃষক বা স্থানীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। বাজারের ওপর যেকোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারী প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বা হঠাৎ জারি করা কোনো বিধিনিষেধ উল্টো বৈধ ও সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ নীতি, নির্ভুল বাজার তথ্য এবং ধারাবাহিক আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ।

একটি টেকসই অর্থনৈতিক উত্তরণের জন্য দরকার মজুরি এবং উৎপাদনশীলতার মধ্যে সুষম সমন্বয়। নিছক নামমাত্র মজুরি বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে যদি না উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তবে যেখানে জ্বালানি, গ্যাস, পরিবহন এবং কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে শিল্প ও ক্ষুদ্র কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, সেখানে কারখানা মালিকদের পক্ষেও হঠাৎ শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই জটিলতা কাটাতে সরকারকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বিশেষ প্রণোদনা, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ এবং অবকাঠামোগত সুবিধা দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের কার্যক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে কর্মীদের উপযুক্ত মজুরি প্রদানে সক্ষম হয়। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সরাসরি শিল্পকারখানার বাস্তব চাহিদার সাথে যুক্ত করতে হবে, যাতে তরুণরা কাজ পাওয়ার সাথে সাথে উপযুক্ত পারিশ্রমিক অর্জনে সক্ষম হয়ে ওঠে।

সার্বিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত দেশের অসচ্ছল, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী টিকিয়ে রাখা জরুরি। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচন সুনিশ্চিত করা, প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় খাদ্য সহায়তা কিংবা সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে পরিবারগুলোর পকেট থেকে বের হয়ে যাওয়া অতিরিক্ত চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে আসে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আমরা বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা বা আন্তর্জাতিক পণ্যের দামের উর্ধ্বগতি থেকে বাংলাদেশকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখতে পারব না, তবে দেশের ভেতরের বাজার পরিচালনা, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং সীমিত আয়ের মানুষকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে আমাদের অভ্যন্তরীণ নীতির বিষয়। পরিশেষে, একটি দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও প্রবৃদ্ধির সাফল্য কেবল নথিপত্রের পরিসংখ্যান বা প্রবৃদ্ধির অঙ্কে মাপা যায় না। যারা এই অর্থনীতির চাকা প্রতিনিয়ত সচল রাখেন—সেই সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, খাদ্য সুরক্ষা ও পারিবারিক বাজেটে শান্তি ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই সেই সাফল্যের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: গবেষক ও উন্নয়ন পেশাজীবী।]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


আয়ের চেয়ে বাড়ে ব্যয়: সংকটের মুখে সাধারণ মানুষের অর্থনীতি

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা বর্তমানে এক বড় ধরনের প্রশ্নের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। এই প্রশ্নের কেন্দ্রে রয়েছে দেশের লাখ লাখ সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন বাজেটের টানাপোড়েন। বর্তমান সময়ে নীতি-নির্ধারকদের আলোচনা, গবেষণা প্রতিবেদন এবং সংবাদপত্রের পাতায় মূল্যস্ফীতির শতাংশ, প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস, আর্থিক খাতের সংস্কার কিংবা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিসংখ্যান প্রাধান্য পেয়ে থাকে। কিন্তু যেকোনো অর্থনৈতিক নীতি ও পুনরুদ্ধারের আসল এবং সবচেয়ে সংবেদনশীল পরীক্ষাটি সাধিত হয় সাধারণ মানুষের জীবনের বাস্তবে। দেশের আপামর নাগরিক নিজেদের জমানো সঞ্চয় নিঃশেষ না করে, ঋণের জালে জড়িয়ে না পড়ে কিংবা দৈনন্দিন খাদ্য গ্রহণ না কমিয়ে তাদের খাদ্য, চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা, বাসস্থান ও যাতায়াত ব্যয় নির্বাহ করতে পারছেন কি না—সেটিই হলো একটি সফল অর্থনীতির মূল মানদণ্ড। যখন দেখা যায় মানুষের আয় অর্জনের সক্ষমতা জীবনধারণের নিত্যনতুন ব্যয়ের হারের তুলনায় ধারাবাহিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে, তখন অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার সমস্ত চড়া মাশুল শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে দেশের সীমিত ও নিম্ন-আয়ের পরিবারগুলোর ঘাড়েই।


পরিসংখ্যানের খতিয়ান এই অশুভ ও উদ্বেগের চিত্রটিকেই স্পষ্ট করে তুলে ধরছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ তথ্য ও হালনাগাদ মজুরি সূচক পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও মৌলিক পরিষেবার দাম যে গতিতে বাড়ছে, সাধারণ শ্রমজীবী ও চাকরিজীবীদের পারিশ্রমিক বা মজুরি বৃদ্ধির হার তার সাথে কোনোভাবেই তাল মেলাতে পারছে না। পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতের ব্যয় বৃদ্ধি যখন লাগামহীন রূপ নেয়, তখন নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা ক্ষয় হতে থাকে। যদিও পরিসংখ্যানের পাতায় মূল্যস্ফীতির হারে সাময়িক সামান্য হ্রাস-বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে, তবে তার অর্থ এই নয় যে বাজারে পণ্য বা সেবার দাম বাস্তবে কমে গেছে। এর অর্থ কেবল এটাই যে দাম বাড়ার গতিটি সাময়িকভাবে কিছুটা ধীর হয়েছে। যে পরিবারগুলো ইতিমধ্যেই অতিপ্রয়োজনীয় ভোগ ছাঁটাই করেছে, পূর্বের জমানো টাকা খরচ করে ফেলেছে কিংবা ধারদেনা করে দিনাতিপাত করছে, মূল্যস্ফীতির সামান্য মন্দা তাদের জীবনে কোনো তাৎক্ষণিক স্বস্তি নিয়ে আসে না। প্রকৃত আয় বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ক্রয়ক্ষমতার এই অবক্ষয় থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব।


এই সংকটের সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব সমাজের সব শ্রেণীতে সমানভাবে পড়ে না, বরং এর বণ্টন অত্যন্ত অসম। উচ্চ এবং উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো ক্রমবর্ধমান খরচের ধাক্কা সামলাতে তাদের সঞ্চয়, পূর্ববর্তী বিনিয়োগ কিংবা অপ্রয়োজনীয় ভোগ কাটছাঁট করার সুযোগ পায়। কিন্তু নিম্ন-আয়, নির্দিষ্ট আয় এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবী পরিবারগুলোর জন্য এই সুযোগ একদমই অনুপস্থিত। কারণ তাদের অর্জিত মোট আয়ের সিংহভাগই ব্যয় করতে হয় স্রেফ বেঁচে থাকার মৌলিক রসদ—যেমন চাল, ডাল, তেল, বাসা ভাড়া, ওষুধ এবং সন্তানদের স্কুলের বেতন মেটাতে। পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্র পরিবর্তন করে সস্তা বিকল্প বেছে নেওয়ার সুযোগ বা গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ অনিশ্চিতকালের জন্য স্থগিত রাখার সামর্থ্য তাদের থাকে না। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন সংস্থার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোতেও একই চরম সত্য ফুটে উঠেছে—উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উপার্জনের স্থবিরতার দরুন দেশের কোটি কোটি মানুষ নতুন করে দারিদ্রে‍্যর দিকে ঢলে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সামষ্টিক অর্থনীতির কয়েকটি কৃত্রিম বা সুবিধাজনক সূচক দিয়ে এই পারিবারিক ও সামাজিক সংকটকে আড়াল করা সম্ভব নয়।


পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখা কেবল কোনো দাতব্য বা সামাজিক কল্যাণমূলক বিষয় নয়, এটি দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন ব্যবস্থাকে সচল রাখার প্রাথমিক শর্ত। যখন সাধারণ মানুষের পকেটে বাড়তি টাকা থাকে না বা প্রকৃত আয় কমে যায়, তখন তারা অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা বন্ধ করতে বাধ্য হন। এর ফলে তারা পুষ্টিকর খাদ্যগ্রহণ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার পেছনে ব্যয় কমাতে বাধ্য হন—যা দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় মানবসম্পদের গুণগত মান ও উৎপাদনশীলতা বিনষ্ট করে। পাশাপাশি, অভ্যন্তরীণ বাজারে সার্বিক চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন ক্ষুদ্র খুচরা বিক্রেতা, স্থানীয় উৎপাদক, হস্তশিল্পজীবী ও ক্ষুদ্র সেবা প্রদানকারীরা। বাজারে বিক্রি কমে গেলে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে, যার ফলে নতুন উদ্যোক্তারা বিনিয়োগে উৎসাহিত হন না এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মী ছাঁটাই বা কাজের সময় কমাতে বাধ্য হয়। এর ফলে বাজারে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়া বন্ধ হয়ে যায় এবং যারা কর্মরত আছেন তারাও চাকরি হারানোর চরম অনিশ্চয়তায় ভোগেন। এভাবে মূলধনের ঘাটতি এবং চাহিদার পতন একে অপরকে উসকে দিয়ে এক মারাত্মক ক্ষতিকর অর্থনৈতিক চক্রের জন্ম দেয়।


বাংলাদেশের শ্রমবাজারের দিকে তাকালে দেখা যায়, এ দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী অনানুষ্ঠানিক খাত, দিনমজুরি, ক্ষুদ্র পারিবারিক ব্যবসা কিংবা স্বকর্মসংস্থানের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল। সরকারি গড় মজুরি সূচক বা প্রাতিষ্ঠানিক খাতের বেতনের তথ্য দিয়ে এই অনানুষ্ঠানিক শ্রমিকদের কাজের অনিশ্চয়তা পুরোপুরি পরিমাপ করা যায় না। আবহাওয়া, ঋতুভিত্তিক কাজের সুযোগ কিংবা স্থানীয় বাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে দিনমজুরদের আয় প্রতিদিন ওঠানামা করে। অনানুষ্ঠানিক খাতের কোনো শ্রমিক কাজ হারালে বা অসুস্থ হলে তার জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সামাজিক সুরক্ষা বা বেকারত্ব ভাতার সুযোগ থাকে না। পরের দিনের আয় নিশ্চিত হবে কি না—এই মানসিক দুশ্চিন্তার সাথে যখন জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতি যোগ হয়, তখন পারিবারিক জীবন চরম বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। এর সাথে গৃহস্থালি ও সামাজিকভাবে নারীদের ওপর পড়া বাড়তি চাপের বিষয়টিও সংযুক্ত। পরিবারের আয় কমে গেলে বা কেউ বেকার হয়ে পড়লে সেই আর্থিক টানাটানির ধকল সবচেয়ে বেশি সামলাতে হয় নারীদের। তাদের অবৈতনিক সেবা শ্রম বেড়ে যায়, খাবারের পাতিল থেকে নারীদের নিজেদের পুষ্টি কাটছাঁট করতে হয় এবং নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বাধীনতায় বড় ধরনের আঘাত আসে।


আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, কেবল সুদের হার বাড়িয়ে বা কঠোর মুদ্রানীতি প্রয়োগ করে এই মূল্যস্ফীতির প্রতিটি উৎস নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়িয়ে হয়তো বাজারে ঋণের প্রবাহ ও সামগ্রিক চাহিদায় কিছুটা টান ধরতে পারে, কিন্তু সুদের হার বৃদ্ধি একা কোনো কৃষি পণ্যের পচনশীলতা ঠেকাতে পারে না, সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থার তোলাবাজি বা যাতায়াত খরচ কমাতে পারে না, কিংবা বাজার সিন্ডিকেটের কারসাজি বন্ধ করতে পারে না। মুদ্রানীতি রাতারাতি কোনো উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানও তৈরি করতে পারে না। তাই নীতিনির্ধারকদের চাহিদাজনিত চাপ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য বজায় রেখে নীতি কৌশল সাজাতে হবে। বিশেষ করে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের বাজারে সরবরাহের ঘাটতি, পচনশীল পণ্যের হিমাগার অবকাঠামোর অভাব, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মুনাফা লোটার অপচেষ্টাগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর তদারকি প্রয়োজন। পাইকারি ও খুচরা মূল্যের ব্যবধান নিয়মিত তদারকি করা এবং প্রতিযোগিতামূলক বাজার নিশ্চিত করতে আইনি ক্ষমতার সঠিক ও ধারাবাহিক প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি।


একই সাথে, আমদানি নীতির ক্ষেত্রেও বিচক্ষণ সময়জ্ঞান ও সমন্বয়ের প্রয়োজন রয়েছে। দেশীয় সরবরাহ যখন চাহিদার তুলনায় কমে যায়, তখন সময়মতো সুনির্দিষ্ট আমদানি শুল্ক ছাড় বা বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করে বাজার স্থিতিশীল রাখা যেতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়ায় যেন দেশের কৃষক বা স্থানীয় উৎপাদকরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। বাজারের ওপর যেকোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারী প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বা হঠাৎ জারি করা কোনো বিধিনিষেধ উল্টো বৈধ ও সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। অসাধু সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য প্রয়োজন স্বচ্ছ নীতি, নির্ভুল বাজার তথ্য এবং ধারাবাহিক আইনশৃঙ্খলা প্রয়োগ।


একটি টেকসই অর্থনৈতিক উত্তরণের জন্য দরকার মজুরি এবং উৎপাদনশীলতার মধ্যে সুষম সমন্বয়। নিছক নামমাত্র মজুরি বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে যদি না উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তবে যেখানে জ্বালানি, গ্যাস, পরিবহন এবং কাঁচামালের দাম বাড়ার কারণে শিল্প ও ক্ষুদ্র কারখানাগুলোর উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে, সেখানে কারখানা মালিকদের পক্ষেও হঠাৎ শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই জটিলতা কাটাতে সরকারকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে বিশেষ প্রণোদনা, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ এবং অবকাঠামোগত সুবিধা দিতে হবে, যাতে তারা নিজেদের কার্যক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে কর্মীদের উপযুক্ত মজুরি প্রদানে সক্ষম হয়। পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে সরাসরি শিল্পকারখানার বাস্তব চাহিদার সাথে যুক্ত করতে হবে, যাতে তরুণরা কাজ পাওয়ার সাথে সাথে উপযুক্ত পারিশ্রমিক অর্জনে সক্ষম হয়ে ওঠে।


সার্বিক স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত দেশের অসচ্ছল, দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বচ্ছ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী টিকিয়ে রাখা জরুরি। সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচন সুনিশ্চিত করা, প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় খাদ্য সহায়তা কিংবা সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। পর্যাপ্ত সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে পরিবারগুলোর পকেট থেকে বের হয়ে যাওয়া অতিরিক্ত চিকিৎসা ও পড়াশোনার খরচ এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে আসে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।


আমরা বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তা বা আন্তর্জাতিক পণ্যের দামের উর্ধ্বগতি থেকে বাংলাদেশকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখতে পারব না, তবে দেশের ভেতরের বাজার পরিচালনা, উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ এবং সীমিত আয়ের মানুষকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে আমাদের অভ্যন্তরীণ নীতির বিষয়। পরিশেষে, একটি দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও প্রবৃদ্ধির সাফল্য কেবল নথিপত্রের পরিসংখ্যান বা প্রবৃদ্ধির অঙ্কে মাপা যায় না। যারা এই অর্থনীতির চাকা প্রতিনিয়ত সচল রাখেন—সেই সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, খাদ্য সুরক্ষা ও পারিবারিক বাজেটে শান্তি ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই সেই সাফল্যের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে।

(লেখকের নিজস্ব মত)

[লেখক: গবেষক ও উন্নয়ন পেশাজীবী।]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত