মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনা প্রশমনে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ শুরুর বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে ইরান। চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি কাটিয়ে তুলতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতেও তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক ফোনালাপে নিজ দেশের এই কূটনৈতিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মূলত সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এই সংকটকালীন ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংকট নিরসনে কূটনৈতিক পথের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজনৈতিক সমাধান পুরোপুরি উপেক্ষা করে কেবল সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হলে এই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর কোনো একক সামরিক সমাধান নেই এবং একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই টেকসই রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ফলপ্রসূ আলোচনা ছাড়া এই সংঘাতের অবসান ঘটানো অসম্ভব। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে দ্রুত সংলাপ শুরু করতে এবং শান্তির পথ তৈরি করতে ইরান তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে তৈরি রয়েছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর নতুন করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করার পাশাপাশি ইরানে পুনরায় সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছেন বলে জানান।
যদিও চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তবুও চলতি বছরের যুদ্ধ পরিস্থিতির পর রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে মারাত্মক টানাপোড়েন তৈরি হয়।
এমন নাজুক প্রেক্ষাপটে ইরানের এই সংলাপের প্রস্তাবকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক চরম উত্তেজনা প্রশমনে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি সংলাপ শুরুর বিশেষ আহ্বান জানিয়েছে ইরান। চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতি কাটিয়ে তুলতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করতেও তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক ফোনালাপে নিজ দেশের এই কূটনৈতিক অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
মূলত সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এই সংকটকালীন ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
সংকট নিরসনে কূটনৈতিক পথের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজনৈতিক সমাধান পুরোপুরি উপেক্ষা করে কেবল সামরিক পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হলে এই অঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেবে। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটগুলোর কোনো একক সামরিক সমাধান নেই এবং একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই টেকসই রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইয়েমেন প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে ফলপ্রসূ আলোচনা ছাড়া এই সংঘাতের অবসান ঘটানো অসম্ভব। তিনি আরও বলেন, সৌদি আরব ও ইয়েমেনের মধ্যে দ্রুত সংলাপ শুরু করতে এবং শান্তির পথ তৈরি করতে ইরান তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে তৈরি রয়েছে।
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর নতুন করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ওই হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন।
এই ঘটনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা করার পাশাপাশি ইরানে পুনরায় সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, তা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছেন বলে জানান।
যদিও চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তবুও চলতি বছরের যুদ্ধ পরিস্থিতির পর রিয়াদ ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে মারাত্মক টানাপোড়েন তৈরি হয়।
এমন নাজুক প্রেক্ষাপটে ইরানের এই সংলাপের প্রস্তাবকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আপনার মতামত লিখুন