ফেনী থেকে সরাসরি ট্রেনযোগে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়াতের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন করে পথচলা শুরু করতে যাচ্ছে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ (৭২২)। ট্রেনটি যাত্রাপথে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। এর ফলে কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি রেলে চড়ে সমুদ্র সৈকতে পৌঁছাতে পারবেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কক্সবাজার এক্সপ্রেস বা পর্যটক এক্সপ্রেসের মতো মহানগর এক্সপ্রেস সম্পূর্ণ বিরতিহীনভাবে চলবে না। এটি গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর স্টেশনে থামবে।
ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. হারুন জানান, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম ও নাঙ্গলকোট হয়ে রাত ১টা ৪ মিনিটে ফেনী পৌঁছাবে। মাত্র দুই মিনিট বিরতি দিয়ে রাত ১টা ৬ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে ট্রেনটি।
রেলওয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেসে ১৬টি কোচে মোট ৭০ টি আসন থাকবে। যাত্রীরা পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট ও এসি বার্থে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। ফেনী স্টেশনের জন্য বরাদ্দ ৬২টি আসনের মধ্যে ৪৭টি রাখা হয়েছে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য। এর মধ্যে শোভন চেয়ার ৩০টি, স্নিগ্ধা ১৫টি এবং এসি কেবিন ২টি। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে দুটি এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে দুটি ট্রেন সচল রয়েছে। নতুন করে মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হওয়ায় এই অঞ্চলের পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে।
শতবর্ষের ইতিহাস ও ঐতিহ্য:
শত বছরের পুরোনো ইতিহাস আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল ফেনী রেলওয়ে স্টেশন। আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অংশ হিসেবে ১৮৯৫ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১৪৯ কিলোমিটার মিটারগেজ লাইন চালুর মধ্য দিয়ে এই স্টেশনের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯২৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়া শাখা লাইন চালু হলে এর ব্যবসায়িক ও কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। ১৯৯৭ সালে রুটটি বন্ধ হয়ে গেলেও এটি পুনরায় চালু হলে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হবে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই স্টেশন সংলগ্ন এলাকা ছিল অত্যন্ত রণকৌশলগত পয়েন্ট। বর্তমানে এটি কেবল ফেনী নয়, পাশের নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট। আধুনিক অবকাঠামো, সম্প্রসারিত প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে সগৌরবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে ঐতিহাসিক এই স্টেশন।

মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ অক্টোবর ২০২৬
ফেনী থেকে সরাসরি ট্রেনযোগে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে যাতায়াতের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হতে যাচ্ছে। আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন করে পথচলা শুরু করতে যাচ্ছে ‘মহানগর এক্সপ্রেস’ (৭২২)। ট্রেনটি যাত্রাপথে ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। এর ফলে কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই স্থানীয় বাসিন্দারা সরাসরি রেলে চড়ে সমুদ্র সৈকতে পৌঁছাতে পারবেন।
বাংলাদেশ রেলওয়ের (পূর্বাঞ্চল) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কক্সবাজার এক্সপ্রেস বা পর্যটক এক্সপ্রেসের মতো মহানগর এক্সপ্রেস সম্পূর্ণ বিরতিহীনভাবে চলবে না। এটি গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর স্টেশনে থামবে।
ফেনী রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার মো. হারুন জানান, ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী ৭২২ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে নরসিংদী, ভৈরব বাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, কুমিল্লা, লাকসাম ও নাঙ্গলকোট হয়ে রাত ১টা ৪ মিনিটে ফেনী পৌঁছাবে। মাত্র দুই মিনিট বিরতি দিয়ে রাত ১টা ৬ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছাবে ট্রেনটি।
রেলওয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেসে ১৬টি কোচে মোট ৭০ টি আসন থাকবে। যাত্রীরা পছন্দ ও বাজেট অনুযায়ী শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার), এসি সিট ও এসি বার্থে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। ফেনী স্টেশনের জন্য বরাদ্দ ৬২টি আসনের মধ্যে ৪৭টি রাখা হয়েছে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের জন্য। এর মধ্যে শোভন চেয়ার ৩০টি, স্নিগ্ধা ১৫টি এবং এসি কেবিন ২টি। বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে দুটি এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে দুটি ট্রেন সচল রয়েছে। নতুন করে মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হওয়ায় এই অঞ্চলের পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও আরামদায়ক হবে।
শতবর্ষের ইতিহাস ও ঐতিহ্য:
শত বছরের পুরোনো ইতিহাস আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত দলিল ফেনী রেলওয়ে স্টেশন। আসাম-বেঙ্গল রেলওয়ের অংশ হিসেবে ১৮৯৫ সালের ১ জুলাই চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ১৪৯ কিলোমিটার মিটারগেজ লাইন চালুর মধ্য দিয়ে এই স্টেশনের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯২৯ সালে ফেনী-বিলোনিয়া শাখা লাইন চালু হলে এর ব্যবসায়িক ও কৌশলগত গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়। ১৯৯৭ সালে রুটটি বন্ধ হয়ে গেলেও এটি পুনরায় চালু হলে ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে ও আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হবে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও এই স্টেশন সংলগ্ন এলাকা ছিল অত্যন্ত রণকৌশলগত পয়েন্ট। বর্তমানে এটি কেবল ফেনী নয়, পাশের নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট। আধুনিক অবকাঠামো, সম্প্রসারিত প্ল্যাটফর্ম ও ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে শতবর্ষের ঐতিহ্যকে ধারণ করে সগৌরবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে ঐতিহাসিক এই স্টেশন।

আপনার মতামত লিখুন