সংবাদ

নভেম্বরে আমিরাতে বসতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ পিএম

নভেম্বরে আমিরাতে বসতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক

দীর্ঘ যুদ্ধ ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে শান্তির পথ খুঁজতে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে আমেরিকার মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হলেও পরে তা থমকে গিয়েছিল।

তবে চলতি সপ্তাহে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সেন্ট পিটার্সবার্গ সফরের পর মস্কো পুনরায় আলোচনায় বসার জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন দূতের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরু হোক, সেটিই কিয়েভের প্রধান প্রত্যাশা।

​তবে চলমান এই আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ রাশিয়া ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড ছাড়ার দাবি এবং কিয়েভের ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার শর্তের মতো নিজেদের কঠোর অবস্থান এখনো বজায় রেখেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আলোচনায় কেবল স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভাবলে চলবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে, ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।

​সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনীয় হামলার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একই সঙ্গে মস্কোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির একটি চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার মস্কো জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ডিজেলের প্রথম চালানটি ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তবে আমেরিকার এমন পদক্ষেপে ইউরোপীয় নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি ক্রয়ের এই চুক্তি কিয়েভের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

​এরই মাঝে শুক্রবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের খবর জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষই এবার সমঝোতার মাধ্যমে ২৭০ জন করে যুদ্ধবন্দী বিনিময় করেছে। মুক্তি পাওয়া রুশ সেনা সদস্যদের প্রথমে বেলারুশে রাখা হয়েছে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সেবা দেওয়ার পর তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাঝে যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের এই প্রক্রিয়াটিই যোগাযোগের অন্যতম কার্যকর ও বিরল মাধ্যম হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬


নভেম্বরে আমিরাতে বসতে পারে রাশিয়া-ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের বৈঠক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ যুদ্ধ ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে শান্তির পথ খুঁজতে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আগামী নভেম্বরের প্রথমার্ধে এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনা হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে আমেরিকার মধ্যস্থতায় আলোচনা শুরু হলেও পরে তা থমকে গিয়েছিল।

তবে চলতি সপ্তাহে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সেন্ট পিটার্সবার্গ সফরের পর মস্কো পুনরায় আলোচনায় বসার জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করেছে। গত মঙ্গলবার মার্কিন দূতের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, যত দ্রুত সম্ভব আলোচনা শুরু হোক, সেটিই কিয়েভের প্রধান প্রত্যাশা।

​তবে চলমান এই আলোচনায় বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ রাশিয়া ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড ছাড়ার দাবি এবং কিয়েভের ন্যাটোতে যোগ না দেওয়ার শর্তের মতো নিজেদের কঠোর অবস্থান এখনো বজায় রেখেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে এক সাক্ষাৎকারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আলোচনায় কেবল স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি নিয়ে ভাবলে চলবে না, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

এদিকে, ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার সম্পর্কের অবনতি ঘটলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যকার সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে।

​সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনীয় হামলার প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। একই সঙ্গে মস্কোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির একটি চুক্তি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

শুক্রবার মস্কো জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ডিজেলের প্রথম চালানটি ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। তবে আমেরিকার এমন পদক্ষেপে ইউরোপীয় নেতারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি ক্রয়ের এই চুক্তি কিয়েভের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

​এরই মাঝে শুক্রবার রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের খবর জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষই এবার সমঝোতার মাধ্যমে ২৭০ জন করে যুদ্ধবন্দী বিনিময় করেছে। মুক্তি পাওয়া রুশ সেনা সদস্যদের প্রথমে বেলারুশে রাখা হয়েছে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সেবা দেওয়ার পর তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাঝে যুদ্ধবন্দী বিনিময়ের এই প্রক্রিয়াটিই যোগাযোগের অন্যতম কার্যকর ও বিরল মাধ্যম হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত