সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফর: নেই সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ


মহসীন ইসলাম টুটুল, টোকিও (জাপান) থেকে
মহসীন ইসলাম টুটুল, টোকিও (জাপান) থেকে
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০০ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফর: নেই সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ
টোকিও সফর: আবর্জনা আর সংস্কার তত্ত্বে সীমাবদ্ধ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য, নেই সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ

পরিচ্ছন্নতা, সংস্কার এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ কিংবা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা বা রূপরেখা তুলে ধরতে পারেননি তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টোকিওর ‘নিউ ওতানি’ হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তার দেওয়া বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার স্বপ্ন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি অসন্তোষ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বর্জ্য অপসারণ ও পরিবেশ রক্ষা করাই তার সরকারের কাছে ‘বড় সংস্কার’। উপস্থিত প্রবাসীদের অনেকেই তার এই সাধারণ বক্তব্য শুনে আশাহত হয়েছেন। তাদের মতে, জাপানের মতো একটি শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তির দেশ থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, নতুন শ্রমবাজার তৈরি বা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আনার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো যেখানে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, সেখানে সরকারপ্রধানের বক্তব্যে প্রাধান্য পেয়েছে শহর পরিষ্কারের মতো রুটিন বিষয়।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিএনপি সরকারের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত করতে দেশে ‘পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা’ চলছে। তিনি জানান, প্রান্তিক মানুষের উপকারের জন্য তিনি কাজ করতে চান এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবী মহলের সংস্কারকে তিনি ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের সংস্কার’ বলে আখ্যা দেন। 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা বা ভিন্নমত থাকলে তা কূটনৈতিক সফরের মঞ্চে প্রবাসীদের সামনে টেনে আনা পেশাদার কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় প্রবাসীদের প্ল্যাটফর্মকে দলীয় প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পুরোনো ধারা থেকেই বের হতে পারছে না বর্তমান প্রশাসন।

বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করলেও কীভাবে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো হবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কীভাবে দূর হবে, সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারেননি তিনি।

এছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও অনুষ্ঠানে অস্বস্তি দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ‘আম জনতা পার্টি’র সদস্য সচিব তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাফাই বক্তব্য উপস্থিত অনেকের কাছেই অপ্রাসঙ্গিক ও বিব্রতকর মনে হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সফরের মঞ্চে ব্যক্তির ট্রল বা বিদ্রূপের জবাব দিতে গিয়ে সরকারপ্রধান সময় অপচয় করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক প্রবাসী।

টোকিওতে বসবাসরত একজন বাংলাদেশি পেশাজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপারে বড় কোনো ঘোষণা আসবে। কিন্তু বক্তব্যের মূল সুর ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিরোধীদের দোষারোপ এবং ঢাকার ড্রেন-আবর্জনা নিয়ে।'

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রণোদনা বৃদ্ধি বা বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর সমাধানের আশ্বাস পাওয়া যায়নি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


প্রধানমন্ত্রীর টোকিও সফর: নেই সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পরিচ্ছন্নতা, সংস্কার এবং সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ আকর্ষণ কিংবা প্রবাসী বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক কর্মপরিকল্পনা বা রূপরেখা তুলে ধরতে পারেননি তিনি।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় টোকিওর ‘নিউ ওতানি’ হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তার দেওয়া বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার স্বপ্ন এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের প্রতি অসন্তোষ।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বর্জ্য অপসারণ ও পরিবেশ রক্ষা করাই তার সরকারের কাছে ‘বড় সংস্কার’। উপস্থিত প্রবাসীদের অনেকেই তার এই সাধারণ বক্তব্য শুনে আশাহত হয়েছেন। তাদের মতে, জাপানের মতো একটি শীর্ষ অর্থনৈতিক শক্তির দেশ থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, নতুন শ্রমবাজার তৈরি বা সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আনার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো যেখানে অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা, সেখানে সরকারপ্রধানের বক্তব্যে প্রাধান্য পেয়েছে শহর পরিষ্কারের মতো রুটিন বিষয়।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বিএনপি সরকারের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রম ব্যাহত করতে দেশে ‘পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা’ চলছে। তিনি জানান, প্রান্তিক মানুষের উপকারের জন্য তিনি কাজ করতে চান এবং তথাকথিত বুদ্ধিজীবী মহলের সংস্কারকে তিনি ‘শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের সংস্কার’ বলে আখ্যা দেন। 

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশে কোনো রাজনৈতিক অস্থিরতা বা ভিন্নমত থাকলে তা কূটনৈতিক সফরের মঞ্চে প্রবাসীদের সামনে টেনে আনা পেশাদার কূটনৈতিক শিষ্টাচারের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলায় প্রবাসীদের প্ল্যাটফর্মকে দলীয় প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের পুরোনো ধারা থেকেই বের হতে পারছে না বর্তমান প্রশাসন।

বিনিয়োগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করলেও কীভাবে জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো হবে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কীভাবে দূর হবে, সে বিষয়ে কোনো দিকনির্দেশনা দিতে পারেননি তিনি।

এছাড়া সফরসঙ্গী হিসেবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও অনুষ্ঠানে অস্বস্তি দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ‘আম জনতা পার্টি’র সদস্য সচিব তারেক রহমানকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাফাই বক্তব্য উপস্থিত অনেকের কাছেই অপ্রাসঙ্গিক ও বিব্রতকর মনে হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় সফরের মঞ্চে ব্যক্তির ট্রল বা বিদ্রূপের জবাব দিতে গিয়ে সরকারপ্রধান সময় অপচয় করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক প্রবাসী।

টোকিওতে বসবাসরত একজন বাংলাদেশি পেশাজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম বাংলাদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি এবং জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ব্যাপারে বড় কোনো ঘোষণা আসবে। কিন্তু বক্তব্যের মূল সুর ছিল দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, বিরোধীদের দোষারোপ এবং ঢাকার ড্রেন-আবর্জনা নিয়ে।'

প্রবাসীদের রেমিট্যান্স প্রেরণে প্রণোদনা বৃদ্ধি বা বিমানবন্দরে হয়রানি বন্ধের মতো মৌলিক সমস্যাগুলোর তাৎক্ষণিক কোনো কার্যকর সমাধানের আশ্বাস পাওয়া যায়নি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত