কবিতা, গল্প আর কণ্ঠের মায়ায় সাহিত্যের ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি তুলে ধরল আবৃত্তি সংগঠন কণ্ঠশীলন। চারটি স্বতন্ত্র প্রযোজনা নিয়ে সংগঠনটির আয়োজন ‘শ্রুতি সমাহার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে।
আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যের সমন্বয়ে সাজানো এ আয়োজনে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা, মানবিক আচরণের জটিলতা এবং সমাজের নানা অসংগতির চিত্র।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশীলনের শিক্ষার্থীরাও। একের পর এক পরিবেশনায় মিলনায়তনজুড়ে তৈরি হয় সাংস্কৃতিক আবহ। চারটি ভিন্ন সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে শিল্পীরা কখনো দেশপ্রেম ও ইতিহাসের কথা বলেছেন, কখনো তুলে ধরেছেন মানুষের আচরণ ও সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক।
আয়োজনের অন্যতম প্রযোজনা ‘সময়ের প্রয়োজনে’। জহির রায়হানের রচনা অবলম্বনে এটি নির্দেশনা দেন অনন্যা গোস্বামী। প্রযোজনাটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধ এবং সময়ের দাবি গুরুত্ব পেয়েছে। এতে অংশ নেন অনন্যা গোস্বামী, অনুপমা আলম, মারিয়া কিবতিয়া, কাজী সিরাজুম মুনিরা যুথি ও দীপক বিশ্বাস।
স্বদেশ ও শিকড়ের প্রতি মানুষের টান উঠে আসে ‘আমার এই মাটির গান’ প্রযোজনায়। নুরুজ্জামান নান্নুর গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় সাজানো এ পরিবেশনায় বাংলার মাটির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক, শৈশবের স্মৃতি এবং স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ পায়। এতে অংশ নেন রাজিয়া সুলতানা মুক্তা, মিনহাজুল বশির শোভন, নিবিড় রহমান, রাবেয়া হক, তাসনিম ইসলাম দ্যুতি ও পারভিন আফরোজা আইভি।
অন্যদিকে, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘পরের উপকার করিও না’ প্রযোজনায় হাস্যরসের মাধ্যমে মানুষের নানা প্রবণতা তুলে ধরা হয়। উপকার করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি, আত্মপ্রচার এবং খ্যাতির আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয় এতে স্থান পেয়েছে। প্রযোজনাটি নির্দেশনা দেন নিবিড় রহমান। এতে অংশগ্রহণ করেন নুরুজ্জামান নান্নু, আফরিন খান, শেখ সাজ্জাদুর রহমান, মারিয়া কিবতিয়া ও মো. আল মামুন সিদ্দিক।
আয়োজনের আরেকটি পরিবেশনা ‘আক্কেল গুড়ুম’। আবদুশ শাকুরের রচনা অবলম্বনে প্রযোজনাটির শ্রুতিনাট্যরূপ ও নির্দেশনা দেন রইস উল ইসলাম। ব্যঙ্গ ও তীক্ষ্ণ রসবোধের মধ্য দিয়ে সমাজের পরিচিত অসংগতিগুলো তুলে ধরা হয় এতে। পরিবেশনায় অংশ নেন রইস উল ইসলাম, অপরেশ সাহা, মো. আবদুল কাইয়ুম, তানজিনা খান লিজা ও মোহাম্মদ আবদুল আল মামুন।
‘শ্রুতি সমাহার’ এর বিশেষত্ব ছিল একই মঞ্চে চার ধরনের সাহিত্যকর্মের উপস্থাপন। আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যের মাধ্যমে কোথাও উঠে এসেছে ইতিহাস ও দেশপ্রেম, কোথাও শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা, আবার কোথাও হাস্যরসের আড়ালে মানবচরিত্র ও সমাজের অসংগতির প্রতিচ্ছবি।
শব্দ, কণ্ঠ ও অভিনয়ধর্মী উপস্থাপনার সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সাহিত্যের ভাব ও অনুভূতিকে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি সাংস্কৃতিক প্রয়াস হয়ে ওঠে। চারটি প্রযোজনার মধ্য দিয়ে কণ্ঠশীলন আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যচর্চার বৈচিত্র্য তুলে ধরেছে।

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬
কবিতা, গল্প আর কণ্ঠের মায়ায় সাহিত্যের ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি তুলে ধরল আবৃত্তি সংগঠন কণ্ঠশীলন। চারটি স্বতন্ত্র প্রযোজনা নিয়ে সংগঠনটির আয়োজন ‘শ্রুতি সমাহার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে।
আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যের সমন্বয়ে সাজানো এ আয়োজনে উঠে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা, মানবিক আচরণের জটিলতা এবং সমাজের নানা অসংগতির চিত্র।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দর্শকদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন কণ্ঠশীলনের শিক্ষার্থীরাও। একের পর এক পরিবেশনায় মিলনায়তনজুড়ে তৈরি হয় সাংস্কৃতিক আবহ। চারটি ভিন্ন সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে শিল্পীরা কখনো দেশপ্রেম ও ইতিহাসের কথা বলেছেন, কখনো তুলে ধরেছেন মানুষের আচরণ ও সামাজিক বাস্তবতার নানা দিক।
আয়োজনের অন্যতম প্রযোজনা ‘সময়ের প্রয়োজনে’। জহির রায়হানের রচনা অবলম্বনে এটি নির্দেশনা দেন অনন্যা গোস্বামী। প্রযোজনাটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ঐতিহাসিক দায়িত্ববোধ এবং সময়ের দাবি গুরুত্ব পেয়েছে। এতে অংশ নেন অনন্যা গোস্বামী, অনুপমা আলম, মারিয়া কিবতিয়া, কাজী সিরাজুম মুনিরা যুথি ও দীপক বিশ্বাস।
স্বদেশ ও শিকড়ের প্রতি মানুষের টান উঠে আসে ‘আমার এই মাটির গান’ প্রযোজনায়। নুরুজ্জামান নান্নুর গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় সাজানো এ পরিবেশনায় বাংলার মাটির সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক, শৈশবের স্মৃতি এবং স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার অনুভূতি প্রকাশ পায়। এতে অংশ নেন রাজিয়া সুলতানা মুক্তা, মিনহাজুল বশির শোভন, নিবিড় রহমান, রাবেয়া হক, তাসনিম ইসলাম দ্যুতি ও পারভিন আফরোজা আইভি।
অন্যদিকে, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে নির্মিত ‘পরের উপকার করিও না’ প্রযোজনায় হাস্যরসের মাধ্যমে মানুষের নানা প্রবণতা তুলে ধরা হয়। উপকার করতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি, আত্মপ্রচার এবং খ্যাতির আকাঙ্ক্ষার মতো বিষয় এতে স্থান পেয়েছে। প্রযোজনাটি নির্দেশনা দেন নিবিড় রহমান। এতে অংশগ্রহণ করেন নুরুজ্জামান নান্নু, আফরিন খান, শেখ সাজ্জাদুর রহমান, মারিয়া কিবতিয়া ও মো. আল মামুন সিদ্দিক।
আয়োজনের আরেকটি পরিবেশনা ‘আক্কেল গুড়ুম’। আবদুশ শাকুরের রচনা অবলম্বনে প্রযোজনাটির শ্রুতিনাট্যরূপ ও নির্দেশনা দেন রইস উল ইসলাম। ব্যঙ্গ ও তীক্ষ্ণ রসবোধের মধ্য দিয়ে সমাজের পরিচিত অসংগতিগুলো তুলে ধরা হয় এতে। পরিবেশনায় অংশ নেন রইস উল ইসলাম, অপরেশ সাহা, মো. আবদুল কাইয়ুম, তানজিনা খান লিজা ও মোহাম্মদ আবদুল আল মামুন।
‘শ্রুতি সমাহার’ এর বিশেষত্ব ছিল একই মঞ্চে চার ধরনের সাহিত্যকর্মের উপস্থাপন। আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যের মাধ্যমে কোথাও উঠে এসেছে ইতিহাস ও দেশপ্রেম, কোথাও শিকড়ের প্রতি ভালোবাসা, আবার কোথাও হাস্যরসের আড়ালে মানবচরিত্র ও সমাজের অসংগতির প্রতিচ্ছবি।
শব্দ, কণ্ঠ ও অভিনয়ধর্মী উপস্থাপনার সমন্বয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সাহিত্যের ভাব ও অনুভূতিকে শ্রোতার কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি সাংস্কৃতিক প্রয়াস হয়ে ওঠে। চারটি প্রযোজনার মধ্য দিয়ে কণ্ঠশীলন আবৃত্তি ও শ্রুতিনাট্যচর্চার বৈচিত্র্য তুলে ধরেছে।

আপনার মতামত লিখুন