ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মা ইলিশ রক্ষা জরুরি। এ জন্য প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। দুঃখজনক হলো, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা চাল অনেকে সময়মতো পাচ্ছেন না। এতে একদিকে তারা খাদ্যসংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে ঋণের বোঝা নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
নিষেধাজ্ঞার ১৬ দিন পার হলেও পটুয়াখালীর দশমিনার অনেক জেলে সরকারি চাল পাননি। ভোলার লালমোহনে ২১ হাজার জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা চালের বড় অংশ বিতরণ শুরু হয়নি। অথচ মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সংসারের খাবার, সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও ঋণের কিস্তির খরচ তাদের বহন করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো সহায়তা না পাওয়া তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগ সফল হলে দীর্ঘ মেয়াদে জেলেরাই লাভবান হবেন। সংসার চালানোর উপায় না থাকলে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামতে পারেন। তাই শুধু আইন প্রয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। জেলেদের জীবিকা রক্ষার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা যথাসময়ে পৌঁছানো প্রশাসনের দায়িত্ব। এ কাজে গাফিলতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। মা ইলিশ রক্ষার অভিযান সফল করতে হলে জেলেদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে।
সরকারি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তালিকা তৈরি, বরাদ্দ ও বিতরণে সমন্বয়হীনতা দূর করা জরুরি। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই প্রকৃত জেলেদের তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের হাতে চাল পৌঁছে দিতে হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা প্রকৃত জেলেদেরও যাচাই করে সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে মা ইলিশ রক্ষা জরুরি। এ জন্য প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে নদীতে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। দুঃখজনক হলো, নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য সরকারের বরাদ্দ করা চাল অনেকে সময়মতো পাচ্ছেন না। এতে একদিকে তারা খাদ্যসংকটে ভুগছেন, অন্যদিকে ঋণের বোঝা নিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।
নিষেধাজ্ঞার ১৬ দিন পার হলেও পটুয়াখালীর দশমিনার অনেক জেলে সরকারি চাল পাননি। ভোলার লালমোহনে ২১ হাজার জেলে পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা চালের বড় অংশ বিতরণ শুরু হয়নি। অথচ মাছ ধরা বন্ধ থাকায় তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সংসারের খাবার, সন্তানদের লেখাপড়া, চিকিৎসা ও ঋণের কিস্তির খরচ তাদের বহন করতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো সহায়তা না পাওয়া তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগ সফল হলে দীর্ঘ মেয়াদে জেলেরাই লাভবান হবেন। সংসার চালানোর উপায় না থাকলে অনেক জেলে বাধ্য হয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে নামতে পারেন। তাই শুধু আইন প্রয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। জেলেদের জীবিকা রক্ষার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে।
জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা যথাসময়ে পৌঁছানো প্রশাসনের দায়িত্ব। এ কাজে গাফিলতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। মা ইলিশ রক্ষার অভিযান সফল করতে হলে জেলেদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করেই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে।
সরকারি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তালিকা তৈরি, বরাদ্দ ও বিতরণে সমন্বয়হীনতা দূর করা জরুরি। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগেই প্রকৃত জেলেদের তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের হাতে চাল পৌঁছে দিতে হবে। নিবন্ধনের বাইরে থাকা প্রকৃত জেলেদেরও যাচাই করে সহায়তার আওতায় আনা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন