সংবাদ

ট্রাইব্যুনালে বিস্ফোরক তথ্য

ইন্টারনেট বন্ধ ছিল সুপরিকল্পিত


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৭ পিএম

ইন্টারনেট বন্ধ ছিল সুপরিকল্পিত

  • সরকারি নির্দেষেই ইন্টারনেট শাটডাউন করা হয়েছিল
  • জয়-পলকের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান

জুলাই আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা আকস্মিক বন্ধের পেছনের আসল রহস্য এবার উন্মোচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মোল্লা ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন, কোনো কারিগরি ত্রুটি নয় বরং সরকারের সরাসরি সিদ্ধান্তেই সেদিন ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিলো।

রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ করে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

ইমদাদুল হক তার জবানবন্দিতে ইন্টারনেট সংযোগের কারিগরি স্তর ব্যাখ্যা করে বলেন, ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা প্রান্তিক স্তরে থাকলেও তাদের উপরে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টরিয়াল কোম্পানির মতো সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে। আন্দোলনের সময় যখন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন আইআইজির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো যে ওপরের স্তর থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতেই তারা নিশ্চিত হন যে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ইমদাদুল হক তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মিথ্যাচারের বিষয়টিও আদালতের সামনে স্পষ্ট করেন।

তিনি জানান, ২৩ জুলাই মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন পরিদর্শনের সময় পলক ডাটা সেন্টারে আগুনের অজুহাত দিয়েছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য।

তার ভাষ্যমতে, আগুন লেগেছিলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে, ডাটা সেন্টারে নয়। এমনকি আগুনের কারণে কিছু ফাইবার ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ ছিলো না, কারণ দেশে তখন আরও ১৫ থেকে ১৬টি সক্রিয় ডাটা সেন্টার ছিলো। জবানবন্দি শেষে পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ তাকে জেরা করেন।

অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আইনি কার্যক্রমে অংশ নেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


ইন্টারনেট বন্ধ ছিল সুপরিকল্পিত

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • সরকারি নির্দেষেই ইন্টারনেট শাটডাউন করা হয়েছিল
  • জয়-পলকের বিরুদ্ধে তৃতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রদান

জুলাই আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা আকস্মিক বন্ধের পেছনের আসল রহস্য এবার উন্মোচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক মোল্লা ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন, কোনো কারিগরি ত্রুটি নয় বরং সরকারের সরাসরি সিদ্ধান্তেই সেদিন ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিলো।

রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল- এর সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই চাঞ্চল্যকর জবানবন্দি দেন তিনি।

জুলাই আন্দোলনে ইন্টারনেট বন্ধ করে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালানোর দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

ইমদাদুল হক তার জবানবন্দিতে ইন্টারনেট সংযোগের কারিগরি স্তর ব্যাখ্যা করে বলেন, ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা প্রান্তিক স্তরে থাকলেও তাদের উপরে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি ইন্টারন্যাশনাল টেরিস্টরিয়াল কোম্পানির মতো সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে। আন্দোলনের সময় যখন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তখন আইআইজির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিলো যে ওপরের স্তর থেকে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এতেই তারা নিশ্চিত হন যে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশ।

সাক্ষ্য দেওয়ার সময় ইমদাদুল হক তৎকালীন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের মিথ্যাচারের বিষয়টিও আদালতের সামনে স্পষ্ট করেন।

তিনি জানান, ২৩ জুলাই মহাখালী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন পরিদর্শনের সময় পলক ডাটা সেন্টারে আগুনের অজুহাত দিয়েছিলেন, যা ছিল সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য।

তার ভাষ্যমতে, আগুন লেগেছিলো দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে, ডাটা সেন্টারে নয়। এমনকি আগুনের কারণে কিছু ফাইবার ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ ছিলো না, কারণ দেশে তখন আরও ১৫ থেকে ১৬টি সক্রিয় ডাটা সেন্টার ছিলো। জবানবন্দি শেষে পলকের আইনজীবী লিটন আহমেদ তাকে জেরা করেন।

অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক থাকায় তার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আইনি কার্যক্রমে অংশ নেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত