সংবাদ

হামলা-দখলের নৈরাজ্য থামছে না কেন?


প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ এএম

হামলা-দখলের নৈরাজ্য থামছে না কেন?

দেশে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোনো কোনো ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পর্যায়েও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তারপরও এসব ঘটনা থামছে না। প্রশ্ন হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কেন এমন নৈরাজ্য চলছে?

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় রাজনৈতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। বিলুপ্ত করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিও। ২৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ মানিকদীর ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালককে তার কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজন চিকিৎসকে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কার্যালয়ে ঢুকে তাকে মারধর করার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারি দপ্তরেও যদি কর্মকর্তা নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

এসব ঘটনায় লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক পরিচয়, পেশাগত পরিচয় কিংবা দলীয় প্রভাব কাউকে আইন ভাঙার অধিকার দিতে পারে না। এধরনের হামলা, ভাঙচুর ও দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু গ্রেপ্তার, বহিষ্কার কিংবা কমিটি বিলুপ্ত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। আইন অনুযায়ী বিচার করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রশ্রয় বা প্রশাসনিক দুর্বলতা থাকলে তা-ও খুঁজে বের করতে হবে।

দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সরকারের। রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। হামলা ও দখলের নৈরাজ্য বন্ধ করতে না পারলে মানুষের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


হামলা-দখলের নৈরাজ্য থামছে না কেন?

প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দেশে হামলা, ভাঙচুর ও দখলের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ ব্যবস্থা নিচ্ছে। কোনো কোনো ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক পর্যায়েও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তারপরও এসব ঘটনা থামছে না। প্রশ্ন হলো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবস্থা নেওয়ার পরও কেন এমন নৈরাজ্য চলছে?

গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ওঠে। সেই ঘটনায় রাজনৈতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। বিলুপ্ত করা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিও। ২৭ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ মানিকদীর ব্রাউনফিশ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত বুধবার রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালককে তার কার্যালয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজন চিকিৎসকে ডক্টর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কার্যালয়ে ঢুকে তাকে মারধর করার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সরকারি দপ্তরেও যদি কর্মকর্তা নিরাপদ না থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

এসব ঘটনায় লক্ষ্যণীয় বিষয় হচ্ছে, কিছু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতাবান মনে করে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক পরিচয়, পেশাগত পরিচয় কিংবা দলীয় প্রভাব কাউকে আইন ভাঙার অধিকার দিতে পারে না। এধরনের হামলা, ভাঙচুর ও দখলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু গ্রেপ্তার, বহিষ্কার কিংবা কমিটি বিলুপ্ত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। আইন অনুযায়ী বিচার করে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ধরনের ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক প্রশ্রয় বা প্রশাসনিক দুর্বলতা থাকলে তা-ও খুঁজে বের করতে হবে।

দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব সরকারের। রাজনৈতিক দলগুলোকেও নিজেদের কর্মী-সমর্থকদের আইন মানতে বাধ্য করতে হবে। হামলা ও দখলের নৈরাজ্য বন্ধ করতে না পারলে মানুষের নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা দুটিই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত