রাজশাহী নগরীর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের নিরাপদ আবাসন নেই। সেখানে ১০৪টি বস্তিতে ৩২ হাজার ৫০০ পরিবারের বসবাস। তাদের অনেকের জীবন কাটে চরম দুর্ভোগ ও উচ্ছেদের আতঙ্কে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন, খরা ও নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষও এসব বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছেন। অথচ তাদের জন্য নিরাপদ আবাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেই। টিন ও প্লাস্টিকের ঘরে বস্তিবাসীর তীব্র গরমে বসবাস করা কঠিন। সেখানে বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। নেই পর্যাপ্ত পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। তার ওপর আইনি ভূমিস্বত্ব না থাকায় যেকোনো সময় উচ্ছেদের ভয় তো রয়েছেই।
নগরের উন্নয়ন মানে শুধু প্রশস্ত সড়ক, সুন্দর স্থাপনা কিংবা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নয়। নগরের সব মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন ও মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ। বস্তিবাসীরা শহরের অর্থনীতি ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অথচ তারাই নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের বাদ দিয়ে সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না।
বস্তি উচ্ছেদ করা টেকসই সমাধান নয়, প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন। বস্তিবাসীর পানি, পয়োনিষ্কাশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। পুনর্বাসনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ কাজে সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সমন্বয় জরুরি। পাশাপাশি নগর উন্নয়ন বাজেটে বস্তিবাসীর জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখতে হবে। রাজশাহীকে সত্যিকার অর্থে সবুজ নগরী করতে হলে বস্তিবাসীর জীবনেও সবুজের ছোঁয়া পৌঁছাতে হবে।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
রাজশাহী নগরীর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের নিরাপদ আবাসন নেই। সেখানে ১০৪টি বস্তিতে ৩২ হাজার ৫০০ পরিবারের বসবাস। তাদের অনেকের জীবন কাটে চরম দুর্ভোগ ও উচ্ছেদের আতঙ্কে। এ নিয়ে সংবাদ-এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন, খরা ও নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষও এসব বস্তিতে আশ্রয় নিচ্ছেন। অথচ তাদের জন্য নিরাপদ আবাসনের কার্যকর উদ্যোগ নেই। টিন ও প্লাস্টিকের ঘরে বস্তিবাসীর তীব্র গরমে বসবাস করা কঠিন। সেখানে বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। নেই পর্যাপ্ত পয়োনিষ্কাশনের ব্যবস্থা। তার ওপর আইনি ভূমিস্বত্ব না থাকায় যেকোনো সময় উচ্ছেদের ভয় তো রয়েছেই।
নগরের উন্নয়ন মানে শুধু প্রশস্ত সড়ক, সুন্দর স্থাপনা কিংবা পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নয়। নগরের সব মানুষের জন্য নিরাপদ আবাসন ও মৌলিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ। বস্তিবাসীরা শহরের অর্থনীতি ও পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। অথচ তারাই নাগরিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাদের বাদ দিয়ে সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না।
বস্তি উচ্ছেদ করা টেকসই সমাধান নয়, প্রয়োজন পরিকল্পিত উন্নয়ন। বস্তিবাসীর পানি, পয়োনিষ্কাশন ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। পুনর্বাসনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ কাজে সিটি করপোরেশন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের সমন্বয় জরুরি। পাশাপাশি নগর উন্নয়ন বাজেটে বস্তিবাসীর জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ রাখতে হবে। রাজশাহীকে সত্যিকার অর্থে সবুজ নগরী করতে হলে বস্তিবাসীর জীবনেও সবুজের ছোঁয়া পৌঁছাতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন