শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। খেলাধুলা শিশুদের শরীর সুস্থ রাখে, মন ভালো রাখে এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করতে শেখায়। এতে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়। অথচ দেশের অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ নেই। ফলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে শেখার এবং আনন্দের একটি বড় সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার চিত্রটি উদ্বেগজনক। ২২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিতে খেলার মাঠ নেই। সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এসব বিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না। মাঠের অভাবে তাদের অন্য বিদ্যালয়ে গিয়ে অনুশীলন করতে হয়। এতে আন্তবিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এবং ভালো ফল করার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে পড়ছে। এমনকি কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষেই সমাবেশ করতে হয়।
এ সমস্যা শুধু শাহজাদপুরের নয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যালয়ে মাঠের সংকট রয়েছে। কোথাও বিদ্যালয়ের জায়গা কম, কোথাও মাঠ দখল হয়ে গেছে। আবার কোথাও বিদ্যালয়ের মাঠ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। শাহজাদপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত হাট বসার বিষয়টি এরই উদাহরণ। বিদ্যালয়ের মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গা। সেখানে নিয়মিত হাট বসানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা শিক্ষা ও শিশু বিকাশের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সেগুলোর জন্য সরকারি খাসজমি বা আশপাশের উপযুক্ত জমি ব্যবহারের সুযোগ খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার, শিক্ষা বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের সময়ও খেলার মাঠের জায়গা নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রস্তুত করলে চলবে না। তাদের সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলার উপযুক্ত জায়গা থাকা প্রয়োজন। শিশুদের খেলার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। খেলাধুলা শিশুদের শরীর সুস্থ রাখে, মন ভালো রাখে এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করতে শেখায়। এতে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব তৈরি হয়। অথচ দেশের অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ নেই। ফলে পাঠ্যবইয়ের বাইরে শেখার এবং আনন্দের একটি বড় সুযোগ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার চিত্রটি উদ্বেগজনক। ২২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিতে খেলার মাঠ নেই। সংবাদ-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এসব বিদ্যালয়ের প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষার্থী খেলাধুলার সুযোগ পাচ্ছে না। মাঠের অভাবে তাদের অন্য বিদ্যালয়ে গিয়ে অনুশীলন করতে হয়। এতে আন্তবিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া এবং ভালো ফল করার ক্ষেত্রেও তারা পিছিয়ে পড়ছে। এমনকি কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষেই সমাবেশ করতে হয়।
এ সমস্যা শুধু শাহজাদপুরের নয়। দেশের বিভিন্ন এলাকার বিদ্যালয়ে মাঠের সংকট রয়েছে। কোথাও বিদ্যালয়ের জায়গা কম, কোথাও মাঠ দখল হয়ে গেছে। আবার কোথাও বিদ্যালয়ের মাঠ বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। শাহজাদপুরের একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়মিত হাট বসার বিষয়টি এরই উদাহরণ। বিদ্যালয়ের মাঠ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জায়গা। সেখানে নিয়মিত হাট বসানোর সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বিদ্যালয়ে খেলার মাঠের ব্যবস্থা করা শিক্ষা ও শিশু বিকাশের অংশ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। যেসব বিদ্যালয়ে মাঠ নেই, সেগুলোর জন্য সরকারি খাসজমি বা আশপাশের উপযুক্ত জমি ব্যবহারের সুযোগ খুঁজতে হবে। প্রয়োজনে স্থানীয় সরকার, শিক্ষা বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। নতুন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণের সময়ও খেলার মাঠের জায়গা নিশ্চিত করা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করার জন্য প্রস্তুত করলে চলবে না। তাদের সুস্থ, আত্মবিশ্বাসী ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে খেলার উপযুক্ত জায়গা থাকা প্রয়োজন। শিশুদের খেলার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন