স্মার্টফোন হারানো বা চুরি হওয়ার পর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার একটি হলো ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চালু থাকলে ব্যক্তিগত কথোপকথন, ছবি, ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্যের হাতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিলে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া এবং হারানো ফোনে আগের সেশন বন্ধ করা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো ফোনের সিম কার্ড বন্ধ করা। এরপর একই নম্বরে নতুন সিম সংগ্রহ করে অন্য ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে সম্পন্ন করবেন, তা জেনে নিন।
ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে দ্রুত মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট সিমটি ব্লক করার অনুরোধ জানান। সিম অন্য কারো হাতে থাকলে তিনি ওই নম্বরে আসা কল বা বার্তা গ্রহণ করতে পারেন। তাই দেরি না করে একই নম্বরে নতুন সিম সংগ্রহ করাই জরুরি।
নতুন সিম সক্রিয় হলে সেটি নিরাপদ অন্য একটি ফোনে প্রবেশ করান। এরপর ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করে আগের অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত নম্বরটি লিখুন।
নম্বর যাচাইয়ের জন্য এসএমএস বা ফোনকলের মাধ্যমে একটি কোড পাঠানো হবে। সেই কোড দিয়ে যাচাইকরণ সম্পন্ন করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন।
একই নম্বর দিয়ে নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরায় নিবন্ধন করলে পুরোনো ফোনের মূল অ্যাকাউন্ট সেশন থেকে লগ আউট হয়ে যায়। ফলে হারানো বা চুরি হওয়া ফোন থেকে আগের মতো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।
অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করলেই আগের সব কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে
ফিরে আসে না। আগে থেকে ব্যাকআপ রাখা থাকলে সেটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
· অ্যান্ড্রয়েড ফোনে: আগে গুগল ড্রাইভে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ রাখা থাকলে নতুন ফোনে একই গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তা ফিরিয়ে আনা যাবে।
· আইফোনে: আইক্লাউডে চ্যাটের ব্যাকআপ থাকলে একই আইক্লাউড অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করে পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাওয়া যায়।
ব্যাকআপ পুনরুদ্ধারের সময় হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তবে আগে থেকে ব্যাকআপ না থাকলে পুরোনো কথোপকথন ফিরে পাওয়া কঠিন। একইভাবে সর্বশেষ ব্যাকআপের পর আদান-প্রদান করা বার্তাগুলোও পুনরুদ্ধার নাও হতে পারে।
হোয়াটসঅ্যাপ পুনরুদ্ধারের জন্য আগের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বরটি নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রয়োজন। নতুন সিম সক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত নম্বর যাচাই করা যাবে না। তাই দ্রুত একই নম্বরের সিম সংগ্রহ করে অ্যাকাউন্ট পুনরায় নিবন্ধন করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া ফোন হারানোর পর অন্য গুরুত্বপূর্ণ
অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। যেমন:
· ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
· মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
· অন্য ডিভাইস থেকে প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রবেশ করে সক্রিয় সেশন পরীক্ষা করুন।
· ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।
· প্রয়োজন হলে দূর থেকে ফোনের তথ্য মুছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিন।
ফোন হারানোর মতো পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কমাতে হোয়াটসঅ্যাপে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখা ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ নেওয়া এবং ফোনে শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করাও জরুরি।
ফোন হারিয়ে গেলে দ্রুত সিম বন্ধ করা, একই নম্বরে নতুন সিম নেওয়া এবং অন্য ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় চালু করাই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় অন্যান্য অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
স্মার্টফোন হারানো বা চুরি হওয়ার পর সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার একটি হলো ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা। ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ চালু থাকলে ব্যক্তিগত কথোপকথন, ছবি, ভিডিওসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অন্যের হাতে পড়ার আশঙ্কা থাকে। তবে দ্রুত কিছু পদক্ষেপ নিলে অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া এবং হারানো ফোনে আগের সেশন বন্ধ করা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে প্রথম কাজ হলো ফোনের সিম কার্ড বন্ধ করা। এরপর একই নম্বরে নতুন সিম সংগ্রহ করে অন্য ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে সম্পন্ন করবেন, তা জেনে নিন।
ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে দ্রুত মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট সিমটি ব্লক করার অনুরোধ জানান। সিম অন্য কারো হাতে থাকলে তিনি ওই নম্বরে আসা কল বা বার্তা গ্রহণ করতে পারেন। তাই দেরি না করে একই নম্বরে নতুন সিম সংগ্রহ করাই জরুরি।
নতুন সিম সক্রিয় হলে সেটি নিরাপদ অন্য একটি ফোনে প্রবেশ করান। এরপর ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করে আগের অ্যাকাউন্টে ব্যবহৃত নম্বরটি লিখুন।
নম্বর যাচাইয়ের জন্য এসএমএস বা ফোনকলের মাধ্যমে একটি কোড পাঠানো হবে। সেই কোড দিয়ে যাচাইকরণ সম্পন্ন করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করুন।
একই নম্বর দিয়ে নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরায় নিবন্ধন করলে পুরোনো ফোনের মূল অ্যাকাউন্ট সেশন থেকে লগ আউট হয়ে যায়। ফলে হারানো বা চুরি হওয়া ফোন থেকে আগের মতো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা সম্ভব হবে না।
অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করলেই আগের সব কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে
ফিরে আসে না। আগে থেকে ব্যাকআপ রাখা থাকলে সেটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
· অ্যান্ড্রয়েড ফোনে: আগে গুগল ড্রাইভে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ রাখা থাকলে নতুন ফোনে একই গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে তা ফিরিয়ে আনা যাবে।
· আইফোনে: আইক্লাউডে চ্যাটের ব্যাকআপ থাকলে একই আইক্লাউড অ্যাকাউন্টে সাইন ইন করে পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাওয়া যায়।
ব্যাকআপ পুনরুদ্ধারের সময় হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। তবে আগে থেকে ব্যাকআপ না থাকলে পুরোনো কথোপকথন ফিরে পাওয়া কঠিন। একইভাবে সর্বশেষ ব্যাকআপের পর আদান-প্রদান করা বার্তাগুলোও পুনরুদ্ধার নাও হতে পারে।
হোয়াটসঅ্যাপ পুনরুদ্ধারের জন্য আগের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বরটি নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রয়োজন। নতুন সিম সক্রিয় না হওয়া পর্যন্ত নম্বর যাচাই করা যাবে না। তাই দ্রুত একই নম্বরের সিম সংগ্রহ করে অ্যাকাউন্ট পুনরায় নিবন্ধন করা গুরুত্বপূর্ণ।
এ ছাড়া ফোন হারানোর পর অন্য গুরুত্বপূর্ণ
অ্যাকাউন্টগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে। যেমন:
· ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন।
· মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন।
· অন্য ডিভাইস থেকে প্রয়োজনীয় অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রবেশ করে সক্রিয় সেশন পরীক্ষা করুন।
· ফোনের অবস্থান শনাক্ত করার সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।
· প্রয়োজন হলে দূর থেকে ফোনের তথ্য মুছে দেওয়ার ব্যবস্থা নিন।
ফোন হারানোর মতো পরিস্থিতিতে ঝুঁকি কমাতে হোয়াটসঅ্যাপে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখা ভালো। পাশাপাশি নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ নেওয়া এবং ফোনে শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার করাও জরুরি।
ফোন হারিয়ে গেলে দ্রুত সিম বন্ধ করা, একই নম্বরে নতুন সিম নেওয়া এবং অন্য ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় চালু করাই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় অন্যান্য অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন