সংবাদ

স্মার্ট চশমার আড়ালে গোপন রেকর্ডিং, সতর্ক থাকবেন যেভাবে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪০ পিএম

স্মার্ট চশমার আড়ালে গোপন রেকর্ডিং, সতর্ক থাকবেন যেভাবে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ছে দৈনন্দিন প্রযুক্তিপণ্যে। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় হচ্ছে এআই-সুবিধাযুক্ত স্মার্ট চশমা। ছোট এই ডিভাইস দিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, অডিও শোনা, ভয়েস কমান্ড দেওয়া এবং বিভিন্ন তথ্য জানার সুযোগ রয়েছে। তবে সুবিধার পাশাপাশি এসব চশমার মাধ্যমে কারো অজান্তে ভিডিও ধারণ কিংবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

স্মার্ট চশমা দেখতে অনেকটা সাধারণ চশমার মতো হওয়ায় সব সময় সহজে আলাদা করা যায় না। তবে ফ্রেমের গঠন, নির্দেশক বাতি, ব্যবহারকারীর আচরণ এবং কিছু প্রযুক্তিগত সংকেত থেকে ডিভাইসটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ফ্রেমের গঠনেই থাকতে পারে প্রথম ইঙ্গিত

সাধারণ চশমার তুলনায় অনেক স্মার্ট চশমার ফ্রেম ও দুই পাশের ডাঁটি কিছুটা মোটা হয়। এর কারণ, ডাঁটির ভেতরে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ বসানো থাকে। লেন্সের বাইরের দিকে ছোট ক্যামেরা লেন্স থাকতে পারে। আবার ডাঁটির পেছনের অংশে স্পিকার ও মাইক্রোফোনের জন্য ছোট ছিদ্র বা গ্রিল দেখা যায়।

তবে শুধু ফ্রেম মোটা কিংবা ডাঁটিতে ছিদ্র থাকলেই সেটিকে স্মার্ট চশমা বলে ধরে নেওয়া যাবে না। নকশাভেদে সাধারণ চশমাতেও এমন বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।

জ্বলতে পারে ছোট নির্দেশক বাতি

অনেক স্মার্ট চশমায় ভিডিও ধারণের সময় ছোট এলইডি বাতি জ্বলে ওঠে। এটি রেকর্ডিং চালু থাকার একটি সম্ভাব্য সংকেত। তাই কারো চশমার ফ্রেমে এমন আলো দেখা গেলে বিষয়টি খেয়াল করা যেতে পারে।

তবে সব মডেলে নির্দেশক বাতি থাকে না। কিছু কম দামের নকল বা বিকল্প ডিভাইসে রেকর্ডিংয়ের সময় কোনো আলো না-ও জ্বলতে পারে। ফলে আলো না দেখার অর্থ এই নয় যে চশমাটি দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে না।

ব্যবহারকারীর আচরণেও মিলতে পারে সংকেত

স্মার্ট চশমার কিছু মডেল বোতাম, স্পর্শনির্ভর অংশ কিংবা ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ কারণে ব্যবহারকারীকে মাঝেমধ্যে চশমার ডাঁটিতে আঙুল দিয়ে চাপ দিতে বা সেখানে হাত দিতে দেখা যেতে পারে। কেউ নিচু স্বরে ভয়েস কমান্ডও দিতে পারেন।

এ ধরনের আচরণ ডিভাইস ব্যবহারের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে কেউ চশমার ডাঁটিতে হাত দিলেই তিনি ভিডিও ধারণ করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। একইভাবে স্থির হয়ে থাকা বা নিচু স্বরে কথা বলার পেছনেও অন্য কারণ থাকতে পারে।

কিছু অ্যাপের সাহায্যে শনাক্তের চেষ্টা

আশপাশে স্মার্ট চশমা রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার জন্য কিছু অ্যাপ তৈরি হয়েছে। ‘নিয়ারবাই গ্লাসেস’ ও ‘জাকঅফ’ নামের অ্যাপ ব্লুটুথের মাধ্যমে কাছাকাছি থাকা ডিভাইস শনাক্ত করার চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে স্মার্ট চশমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচিত সংকেতও পরীক্ষা করা হয়।

তবে এসব অ্যাপের ফলাফল শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। কোনো ডিভাইসের ব্লুটুথ বন্ধ থাকলে সেটি শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে। আবার আশপাশের অন্য কোনো ডিভাইসকে ভুল করে স্মার্ট চশমা হিসেবে দেখানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই অ্যাপের দেওয়া তথ্যকে নিশ্চিত প্রমাণ না ধরে প্রাথমিক সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

সন্দেহ হলে কী করবেন

কেউ গোপনে ভিডিও ধারণ করছেন বলে সন্দেহ হলে উত্তেজিত হয়ে সরাসরি বিরোধে জড়ানো ঠিক নয়। প্রয়োজনে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। ওই ব্যক্তির আচরণে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

গোপনীয় বৈঠক বা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়োজকেরা আগে থেকেই জানিয়ে দিতে পারেন, সেখানে স্মার্ট চশমা ব্যবহার কিংবা ভিডিও ধারণের অনুমতি নেই। এ বিষয়ে কারো সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে শান্তভাবে এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে কথা বলা ভালো।

প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে চশমার গঠন, নির্দেশক আলো কিংবা ব্যবহারকারীর আচরণ - কোনো একটি লক্ষণই গোপনে ভিডিও ধারণের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। সচেতন থাকার পাশাপাশি অনুমান ও নিশ্চিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য করাও জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


স্মার্ট চশমার আড়ালে গোপন রেকর্ডিং, সতর্ক থাকবেন যেভাবে

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ছড়িয়ে পড়ছে দৈনন্দিন প্রযুক্তিপণ্যে। এরই ধারাবাহিকতায় জনপ্রিয় হচ্ছে এআই-সুবিধাযুক্ত স্মার্ট চশমা। ছোট এই ডিভাইস দিয়ে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, অডিও শোনা, ভয়েস কমান্ড দেওয়া এবং বিভিন্ন তথ্য জানার সুযোগ রয়েছে। তবে সুবিধার পাশাপাশি এসব চশমার মাধ্যমে কারো অজান্তে ভিডিও ধারণ কিংবা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

স্মার্ট চশমা দেখতে অনেকটা সাধারণ চশমার মতো হওয়ায় সব সময় সহজে আলাদা করা যায় না। তবে ফ্রেমের গঠন, নির্দেশক বাতি, ব্যবহারকারীর আচরণ এবং কিছু প্রযুক্তিগত সংকেত থেকে ডিভাইসটি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ফ্রেমের গঠনেই থাকতে পারে প্রথম ইঙ্গিত

সাধারণ চশমার তুলনায় অনেক স্মার্ট চশমার ফ্রেম ও দুই পাশের ডাঁটি কিছুটা মোটা হয়। এর কারণ, ডাঁটির ভেতরে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত যন্ত্রাংশ বসানো থাকে। লেন্সের বাইরের দিকে ছোট ক্যামেরা লেন্স থাকতে পারে। আবার ডাঁটির পেছনের অংশে স্পিকার ও মাইক্রোফোনের জন্য ছোট ছিদ্র বা গ্রিল দেখা যায়।

তবে শুধু ফ্রেম মোটা কিংবা ডাঁটিতে ছিদ্র থাকলেই সেটিকে স্মার্ট চশমা বলে ধরে নেওয়া যাবে না। নকশাভেদে সাধারণ চশমাতেও এমন বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে।

জ্বলতে পারে ছোট নির্দেশক বাতি

অনেক স্মার্ট চশমায় ভিডিও ধারণের সময় ছোট এলইডি বাতি জ্বলে ওঠে। এটি রেকর্ডিং চালু থাকার একটি সম্ভাব্য সংকেত। তাই কারো চশমার ফ্রেমে এমন আলো দেখা গেলে বিষয়টি খেয়াল করা যেতে পারে।

তবে সব মডেলে নির্দেশক বাতি থাকে না। কিছু কম দামের নকল বা বিকল্প ডিভাইসে রেকর্ডিংয়ের সময় কোনো আলো না-ও জ্বলতে পারে। ফলে আলো না দেখার অর্থ এই নয় যে চশমাটি দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে না।

ব্যবহারকারীর আচরণেও মিলতে পারে সংকেত

স্মার্ট চশমার কিছু মডেল বোতাম, স্পর্শনির্ভর অংশ কিংবা ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ কারণে ব্যবহারকারীকে মাঝেমধ্যে চশমার ডাঁটিতে আঙুল দিয়ে চাপ দিতে বা সেখানে হাত দিতে দেখা যেতে পারে। কেউ নিচু স্বরে ভয়েস কমান্ডও দিতে পারেন।

এ ধরনের আচরণ ডিভাইস ব্যবহারের ইঙ্গিত হতে পারে। তবে কেউ চশমার ডাঁটিতে হাত দিলেই তিনি ভিডিও ধারণ করছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। একইভাবে স্থির হয়ে থাকা বা নিচু স্বরে কথা বলার পেছনেও অন্য কারণ থাকতে পারে।

কিছু অ্যাপের সাহায্যে শনাক্তের চেষ্টা

আশপাশে স্মার্ট চশমা রয়েছে কি না, তা শনাক্ত করার জন্য কিছু অ্যাপ তৈরি হয়েছে। ‘নিয়ারবাই গ্লাসেস’ ও ‘জাকঅফ’ নামের অ্যাপ ব্লুটুথের মাধ্যমে কাছাকাছি থাকা ডিভাইস শনাক্ত করার চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে স্মার্ট চশমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিচিত সংকেতও পরীক্ষা করা হয়।

তবে এসব অ্যাপের ফলাফল শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। কোনো ডিভাইসের ব্লুটুথ বন্ধ থাকলে সেটি শনাক্ত করা সম্ভব নাও হতে পারে। আবার আশপাশের অন্য কোনো ডিভাইসকে ভুল করে স্মার্ট চশমা হিসেবে দেখানোর আশঙ্কাও রয়েছে। তাই অ্যাপের দেওয়া তথ্যকে নিশ্চিত প্রমাণ না ধরে প্রাথমিক সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

সন্দেহ হলে কী করবেন

কেউ গোপনে ভিডিও ধারণ করছেন বলে সন্দেহ হলে উত্তেজিত হয়ে সরাসরি বিরোধে জড়ানো ঠিক নয়। প্রয়োজনে নিরাপদ দূরত্বে সরে যান। ওই ব্যক্তির আচরণে নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া যেতে পারে।

গোপনীয় বৈঠক বা অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আয়োজকেরা আগে থেকেই জানিয়ে দিতে পারেন, সেখানে স্মার্ট চশমা ব্যবহার কিংবা ভিডিও ধারণের অনুমতি নেই। এ বিষয়ে কারো সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে শান্তভাবে এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে কথা বলা ভালো।

প্রযুক্তির ব্যবহার যত বাড়ছে, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টিও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। তবে চশমার গঠন, নির্দেশক আলো কিংবা ব্যবহারকারীর আচরণ - কোনো একটি লক্ষণই গোপনে ভিডিও ধারণের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। সচেতন থাকার পাশাপাশি অনুমান ও নিশ্চিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য করাও জরুরি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত