সংবাদ

রাজা টংকনাথের রাজবাড়ির ইতিহাস


রাইয়্যান ইসলাম রকিব
রাইয়্যান ইসলাম রকিব
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১২ এএম

রাজা টংকনাথের রাজবাড়ির ইতিহাস

ঠাকুরগাঁও জেলার ​রাণীশংকৈল উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১ মাইল পূর্বে বাচোর ইউনিয়নে কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি। রাজবাড়ির নির্মাণশৈলী কারুকাজময় বেশ সুন্দর, যার মেঝে ছিল মার্বেল পাথরের তৈরি। কারুকাজ খচিত সৌন্দর্য প্রাচীন এই রাজভবনটির দেয়ালে এখনো দেখা যায়।

রাজবাড়ির ভিতরে পূর্ব পাশে রয়েছে– একটি অন্দরমহল, পশ্চিমদিকে সিংহদরজা এবং অপরপ্রান্তে দুটি দিঘী। বিশাল এই সিংহ দরজা দিয়ে রাজবাড়ির ​ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। রাজবাড়িংসলগ্ন উত্তর-পূর্ব কোণে রয়েছে কাচারিবাড়ি। লাল রঙের দালানটির স্থাপত্যশৈলীতে আধুনিকতার পাশাপাশি ভিক্টোরিয়ান অলংকরণের ছাপ সুস্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়।

​উনিশ শতকের শেষ ভাগে রাজবাড়িটি নির্মিত হয়। রাজা টংকনাথের পিতা বুদ্ধিনাথের আমলেই রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বুদ্ধিনাথের মৃত্যুর পরে রাজা টংকনাথ রাজবাড়ির অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, রাজা টংকনাথের পূর্ব-পুরুষদের কেউ জমিদার ছিলেন না। বর্তমান রাণীশংকৈল উপজেলা শহর হতে প্রায় ৫ মাইল পূর্বে কাতিহার নামক জায়গায় গোয়ালা বংশীয় নিঃসন্তান এক জমিদার বাস করতেন। সেই জমিদারের মন্দিরে দেখাশোনার কাজ করতেন টংকনাথের পিতা বুদ্ধিনাথ। গোয়ালা জমিদার ভারত হয়ে কাশি যাওয়ার সময় তাম্রপাতে দলিল করে যান যে, তিনি ফিরে না এলে মন্দিরের সেবায়ত বুদ্ধিনাথ জমিদারির মালিক হবেন। গোয়ালা জমিদার ফিরে না আসায় বুদ্ধিনাথ জমিদারির মালিক হন। তবে অনেকের ধারণা, এই ঘটনা বুদ্ধিনাথের দু-এক পুরুষ পূর্বেরও হতে পারে।

​জমিদার বুদ্ধিনাথের দ্বিতীয় ছেলে টংকনাথ তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের আস্থা অর্জন করার জন্য মালদুয়ার স্টেট গঠন করেন। বিভিন্ন সময় সমাজসেবামূলক কাজের জন্য ১৯২৫ সালের ১৮ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর হাউসে রাজা টংকনাথকে ব্রিটিশ সরকার "চৌধুরী" উপাধিতে ভূষিত করেন। কথিত আছে, টংকনাথের আমন্ত্রণে– তৎকালীন ভাইসরয় এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজানাথ রায় রাণীশংকৈলে এলে আমন্ত্রিত অতিথিদের টাকার নোট পুড়িয়ে রীতিমতো রাজকীয় অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন করেন এবং পর্যাপ্ত স্বর্ণালংকার উপহার দেন। এর ফলে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে "চৌধুরী" উপাধি এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজানাথ রায়ের কাছ থেকে "রাজা" উপাধি পান। রাজা টংকনাথের স্ত্রী রাণী শংকরী দেবীর নামানুসারে মালদুয়ার স্টেটের নামকরণ করা হয় রাণীশংকৈল। বর্তমানে, এটি রানীশংকৈল উপজেলা নামে পরিচিত। 

​দেশ ভাগের প্রাক্কালে রাজা জমিদারি ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমান। এর মধ্য দিয়ে মালদুয়ার স্টেট অর্থাৎ রাজা টংকনাথ চৌধুরীর জমিদারি পরম্পরার সমাপ্তি ঘটে। রাজবাড়িটি দেখতে আসেন দূর-দূরান্তের মানুষ। এছাড়া প্রতি ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুরা আসেন রাজবাড়িটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

[লেখক: শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


রাজা টংকনাথের রাজবাড়ির ইতিহাস

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ঠাকুরগাঁও জেলার ​রাণীশংকৈল উপজেলা শহর থেকে প্রায় ১ মাইল পূর্বে বাচোর ইউনিয়নে কুলিক নদীর তীরে অবস্থিত রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি। রাজবাড়ির নির্মাণশৈলী কারুকাজময় বেশ সুন্দর, যার মেঝে ছিল মার্বেল পাথরের তৈরি। কারুকাজ খচিত সৌন্দর্য প্রাচীন এই রাজভবনটির দেয়ালে এখনো দেখা যায়।

রাজবাড়ির ভিতরে পূর্ব পাশে রয়েছে– একটি অন্দরমহল, পশ্চিমদিকে সিংহদরজা এবং অপরপ্রান্তে দুটি দিঘী। বিশাল এই সিংহ দরজা দিয়ে রাজবাড়ির ​ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। রাজবাড়িংসলগ্ন উত্তর-পূর্ব কোণে রয়েছে কাচারিবাড়ি। লাল রঙের দালানটির স্থাপত্যশৈলীতে আধুনিকতার পাশাপাশি ভিক্টোরিয়ান অলংকরণের ছাপ সুস্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়।

​উনিশ শতকের শেষ ভাগে রাজবাড়িটি নির্মিত হয়। রাজা টংকনাথের পিতা বুদ্ধিনাথের আমলেই রাজবাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। বুদ্ধিনাথের মৃত্যুর পরে রাজা টংকনাথ রাজবাড়ির অসমাপ্ত কাজ শেষ করেন। ইতিহাস থেকে জানা যায়, রাজা টংকনাথের পূর্ব-পুরুষদের কেউ জমিদার ছিলেন না। বর্তমান রাণীশংকৈল উপজেলা শহর হতে প্রায় ৫ মাইল পূর্বে কাতিহার নামক জায়গায় গোয়ালা বংশীয় নিঃসন্তান এক জমিদার বাস করতেন। সেই জমিদারের মন্দিরে দেখাশোনার কাজ করতেন টংকনাথের পিতা বুদ্ধিনাথ। গোয়ালা জমিদার ভারত হয়ে কাশি যাওয়ার সময় তাম্রপাতে দলিল করে যান যে, তিনি ফিরে না এলে মন্দিরের সেবায়ত বুদ্ধিনাথ জমিদারির মালিক হবেন। গোয়ালা জমিদার ফিরে না আসায় বুদ্ধিনাথ জমিদারির মালিক হন। তবে অনেকের ধারণা, এই ঘটনা বুদ্ধিনাথের দু-এক পুরুষ পূর্বেরও হতে পারে।

​জমিদার বুদ্ধিনাথের দ্বিতীয় ছেলে টংকনাথ তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের আস্থা অর্জন করার জন্য মালদুয়ার স্টেট গঠন করেন। বিভিন্ন সময় সমাজসেবামূলক কাজের জন্য ১৯২৫ সালের ১৮ নভেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ গভর্নর হাউসে রাজা টংকনাথকে ব্রিটিশ সরকার "চৌধুরী" উপাধিতে ভূষিত করেন। কথিত আছে, টংকনাথের আমন্ত্রণে– তৎকালীন ভাইসরয় এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজানাথ রায় রাণীশংকৈলে এলে আমন্ত্রিত অতিথিদের টাকার নোট পুড়িয়ে রীতিমতো রাজকীয় অভ্যর্থনা ও আপ্যায়ন করেন এবং পর্যাপ্ত স্বর্ণালংকার উপহার দেন। এর ফলে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে "চৌধুরী" উপাধি এবং দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজানাথ রায়ের কাছ থেকে "রাজা" উপাধি পান। রাজা টংকনাথের স্ত্রী রাণী শংকরী দেবীর নামানুসারে মালদুয়ার স্টেটের নামকরণ করা হয় রাণীশংকৈল। বর্তমানে, এটি রানীশংকৈল উপজেলা নামে পরিচিত। 

​দেশ ভাগের প্রাক্কালে রাজা জমিদারি ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমান। এর মধ্য দিয়ে মালদুয়ার স্টেট অর্থাৎ রাজা টংকনাথ চৌধুরীর জমিদারি পরম্পরার সমাপ্তি ঘটে। রাজবাড়িটি দেখতে আসেন দূর-দূরান্তের মানুষ। এছাড়া প্রতি ঈদের ছুটিতে হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুরা আসেন রাজবাড়িটির সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

[লেখক: শিক্ষার্থী, রসায়ন বিভাগ, দিনাজপুর সরকারি কলেজ]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত