সংবাদ

সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়বেন, নাকি শুধু ফলাফল?


সুমন চৌধুরী
সুমন চৌধুরী
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ এএম

সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়বেন, নাকি শুধু ফলাফল?
ছবি: সংগৃহীত

একটি শিশুর জন্মের পর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন বাবা-মা। সে বড় হবে, ভালো পড়াশোনা করবে, প্রতিষ্ঠিত হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে—এমন আরও কত প্রত্যাশা জমতে থাকে তাকে ঘিরে। প্রত্যাশা থাকা অস্বাভাবিক নয়; বরং সন্তানের জন্য স্বপ্ন দেখাই অভিভাবকত্বের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু কখনো কখনো সেই স্বপ্নের পথটি এমনভাবে সংকুচিত হয়ে আসে যে সেখানে সন্তানের মানুষ হয়ে ওঠার জায়গা কমে যায়। জায়গা দখল করে নেয় শুধু ফলাফল। তখন প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছি, নাকি শুধু তার ফলাফল তৈরি করছি?

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি শিশুর মেধা, পরিশ্রম ও অগ্রগতি বোঝার সবচেয়ে পরিচিত উপায় হলো পরীক্ষা এবং তার ফলাফল। একটি পরীক্ষার পর নম্বর আসে, গ্রেড আসে, মেধাক্রম তৈরি হয়। ভালো ফলাফল করলে প্রশংসা, খারাপ হলে হতাশা। এভাবেই ধীরে ধীরে একটি শিশুর কাছে সাফল্যের অর্থ দাঁড়িয়ে যায়—কত নম্বর পেলাম, কোন অবস্থানে আছি, অন্যের চেয়ে কতটা এগিয়ে আছি। অথচ একটি ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর সক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট সময়ের ছবি মাত্র; তার পুরো ভবিষ্যৎ নয়। একজন শিক্ষার্থী একটি পরীক্ষায় ভালো করতে পারে, আবার অন্য কোনো বিষয়ে পিছিয়ে পড়তে পারে। কেউ হয়তো পরীক্ষার খাতায় অসাধারণ লিখতে পারে, কিন্তু নেতৃত্বের গুণে দুর্বল। কেউ গণিতে খুব ভালো, কিন্তু ভাষা বা সৃজনশীলতায় ততটা নয়। কেউ হয়তো পড়াশোনায় মাঝারি, কিন্তু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সংগঠন, শিল্প, প্রযুক্তি, খেলাধুলা কিংবা লেখালেখিতে অসাধারণ সম্ভাবনা নিয়ে বেড়ে উঠছে। তাহলে শুধু নম্বর দিয়ে আমরা তার ভবিষ্যৎকে কতটা সঠিকভাবে বিচার করতে পারি? একটি নম্বরপত্র কি সত্যিই বলে দিতে পারে, একজন মানুষ আগামী দশ বছরে কী হতে পারে?

সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন ফলাফলকে শিক্ষার উদ্দেশ্য মনে করা হয়। শিক্ষা যদি কেবল পরীক্ষায় ভালো করার কৌশলে পরিণত হয়, তাহলে শিক্ষার্থী হয়তো প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করতে শিখবে, কিন্তু প্রশ্ন করতে শিখবে না। সে হয়তো পরীক্ষায় সঠিক উত্তর লিখবে, কিন্তু জীবনের জটিল পরিস্থিতিতে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস তৈরি নাও হতে পারে। অথচ শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা শুধু একটি পরীক্ষার খাতায় প্রকাশ পাওয়ার কথা নয়। শিক্ষা একজন মানুষকে চিন্তা করতে শেখাবে, ভুল থেকে শিখতে শেখাবে, অন্যকে বুঝতে শেখাবে, দায়িত্ব নিতে শেখাবে এবং নিজের সামর্থ্যকে চিনতে সাহায্য করবে।

আমরা প্রায়ই সন্তানের কাছে জানতে চাই, ‘কত পেয়েছ?’ কিন্তু খুব কম সময়েই জানতে চাই, ‘কী শিখলে?’ আরও কম জিজ্ঞেস করি—‘কোন বিষয়টা তোমার ভালো লাগে? কোথায় তোমার সমস্যা হচ্ছে? তুমি ভবিষ্যতে কী করতে চাও?’ প্রশ্নগুলোর এই পার্থক্যই আমাদের চিন্তার পার্থক্যকে প্রকাশ করে। আমরা ফলাফল জানতে আগ্রহী, কিন্তু ফলাফলের পেছনের মানুষটিকে বুঝতে কতটা আগ্রহী?

সন্তানের ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। একটি ভালো ফলাফল তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে, উচ্চশিক্ষার কিছু সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিতে পারে। একইভাবে খারাপ ফলাফলও কখনো কখনো সতর্কবার্তা হতে পারে। কোথাও হয়তো তার প্রস্তুতির ঘাটতি আছে, শেখার পদ্ধতিতে সমস্যা আছে, মনোযোগের সংকট আছে অথবা তাকে অন্যভাবে সহায়তা করা প্রয়োজন। তাই ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ফলাফলকে সন্তানের পরিচয় বানিয়ে ফেলা—এই দুটির মধ্যে বড় পার্থক্য আছে।

একজন সচেতন অভিভাবক ফলাফল দেখবেন, কিন্তু শুধু ফলাফল দেখবেন না। তিনি নম্বরের সঙ্গে সন্তানের পরিশ্রমও দেখবেন, উন্নতির জায়গা দেখবেন, দুর্বলতার কারণ খুঁজবেন এবং সম্ভাবনার দিকটিও খেয়াল করবেন। সন্তান কোথায় কম করেছে, এই প্রশ্নের পাশাপাশি তিনি ভাববেন, কেন কম করেছে। সে কীভাবে ভালো করতে পারে, সেটি নিয়েও কথা বলবেন। কারণ একটি ভুল ফলাফলকে শেষ কথা মনে করলে শিশুর সামনে দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আর সেটিকে শেখার একটি ধাপ হিসেবে দেখলে সামনে আরও অনেক দরজা খুলে যায়।

আমাদের সমাজে তুলনার প্রবণতা এত প্রবল যে সন্তানের ফলাফল অনেক সময় তার নিজের উন্নতির মাপকাঠি না হয়ে অন্যের সঙ্গে তার অবস্থান নির্ধারণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। ‘ও এত পেয়েছে, তুমি পারলে না কেন?’ এই একটি বাক্যই একটি শিশুর মনে নিজের প্রতি সন্দেহ তৈরি করতে পারে। সে হয়তো পড়াশোনা করছে নিজের উন্নতির জন্য নয়, অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য। তখন শিক্ষার আনন্দ হারিয়ে যায়, জায়গা নেয় প্রতিযোগিতার ভয়।

প্রতিটি শিশুর পথ এক নয়। কারও শেখার গতি দ্রুত, কারও ধীর। কারও আগ্রহ এক বিষয়ে, অন্য কারও অন্য বিষয়ে। একই বয়স, একই শ্রেণি, একই বিদ্যালয়ে পড়ার মতো মিল থাকলেও তাদের মানসিক গঠন, পারিবারিক পরিবেশ, আগ্রহ, সক্ষমতা ও স্বপ্ন এক নয়। তাই একই মাপকাঠিতে প্রত্যেক শিশুকে বিচার করার চেষ্টা অনেক সময় তার স্বাভাবিক বিকাশকেই বাধাগ্রস্ত করে।

আরেকটি বিষয়ও আমাদের ভাবতে হবে। অনেক সময় বাবা-মায়ের নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন সন্তানের ভবিষ্যতের সঙ্গে মিশে যায়। যে স্বপ্নটি বাবা পূরণ করতে পারেননি, সেটি তিনি সন্তানের মাধ্যমে পূরণ করতে চান। যে সুযোগটি মা পাননি, সেটি সন্তানকে দিতে গিয়ে কখনো কখনো তার নিজের পছন্দের জায়গাটিই ভুলে যান। উদ্দেশ্য ভালো হলেও ফল সব সময় ভালো হয় না। কারণ সন্তান বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের কোনো প্রকল্প নয়; সে একজন স্বতন্ত্র মানুষ, যার নিজেরও কিছু পছন্দ, ভয়, স্বপ্ন ও সম্ভাবনা আছে।

সন্তানকে পথ দেখানো প্রয়োজন, কিন্তু তার হয়ে পথ বেছে নেওয়া নয়। তাকে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন, তার ওপর নিজের অসম্পূর্ণ আকাঙ্ক্ষার ভার চাপিয়ে দেওয়া নয়। তাকে পরিশ্রম শেখানো প্রয়োজন, কিন্তু এমনভাবে নয়, যাতে সে মনে করে ভালো ফলাফল না করলে সে বাবা-মায়ের ভালোবাসার যোগ্য নয়।

শৈশব ও কৈশোরে একজন মানুষের আত্মপরিচয় তৈরি হয় ধীরে ধীরে। সে নিজের সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি করে, তার ওপর পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রভাব গভীর। যদি তাকে বারবার বলা হয় যে সে কম পেয়েছে, সে অন্যের মতো নয়, সে যথেষ্ট ভালো নয়—তাহলে একসময় সে নিজের সামর্থ্য নিয়েই সন্দেহ করতে শুরু করতে পারে। বিপরীতে, ভুলের মধ্যেও যদি তাকে শেখার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে আবার চেষ্টা করতে শেখে।

আমরা সন্তানকে সফল হতে শেখাতে চাই। তবে সফলতার সংজ্ঞাটিও কি আমরা ঠিকভাবে তৈরি করেছি? ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া, ভালো চাকরি পাওয়া, বেশি আয় করা—এসব অবশ্যই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু একজন মানুষ যদি সফল হয়েও অসৎ হয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়, অন্যের প্রতি অসম্মানজনক হয়, নিজের পরিবারকে সময় দিতে না পারে, নিজের ভুল স্বীকার করতে না পারে, তাহলে সেই সাফল্যকে আমরা কতটা পূর্ণাঙ্গ বলব?

একজন ভালো শিক্ষার্থী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠা আরও দীর্ঘ ও গভীর প্রক্রিয়া। সততা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, যুক্তিবোধ, অন্যের মতকে সম্মান করা এবং ব্যর্থতার পর আবার দাঁড়ানোর মানসিকতা—এসব কোনো পরীক্ষার নম্বর দিয়ে পুরোপুরি মাপা যায় না। অথচ জীবনের বড় পরীক্ষাগুলোতে অনেক সময় এগুলোরই প্রয়োজন হয় বেশি।

তাই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হলে শুধু তার পরীক্ষার ফলাফল নয়, তার অভ্যাসের দিকেও তাকাতে হবে। সে কি বইয়ের বাইরে কিছু পড়ে? সে কি প্রশ্ন করতে পারে? সে কি নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে? সে কি অন্যের কষ্ট বুঝতে পারে? সে কি নিজের কাজের দায়িত্ব নিতে শেখে? সে কি ব্যর্থ হলে আবার চেষ্টা করে? সে কি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবতে শেখে? সে কি এমন একজন মানুষ হয়ে উঠছে, যার ওপর অন্য একজন মানুষ নির্ভর করতে পারে?

অভিভাবকের দায়িত্ব সন্তানের হয়ে সবকিছু করে দেওয়া নয়; বরং এমনভাবে তাকে প্রস্তুত করা, যাতে একদিন সে নিজের জীবন নিজেই পরিচালনা করতে পারে। ছোটবেলায় হাত ধরে হাঁটানো যেমন প্রয়োজন, তেমনি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের পায়ে হাঁটার সুযোগ দেওয়াও প্রয়োজন। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ যেমন ক্ষতিকর, তেমনি সম্পূর্ণ উদাসীনতাও। সন্তানের প্রয়োজন এমন একজন অভিভাবক, যিনি তাকে পথ দেখাবেন, কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপ নিজের হাতে নিয়ন্ত্রণ করবেন না।

এখানে শিক্ষকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক যদি শুধু নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে বিচার করেন, তাহলে অনেক সম্ভাবনা অদৃশ্য থেকে যেতে পারে। শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষার্থীর আচরণ, প্রশ্ন করার ধরন, সৃজনশীলতা, সহযোগিতার মানসিকতা কিংবা নেতৃত্বের গুণ—এসবও তার শিক্ষাগত বিকাশের অংশ। শিক্ষক ও অভিভাবক যদি শুধু ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশকে গুরুত্ব দেন, তাহলে শিক্ষা আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

আমাদেরও বুঝতে হবে, প্রতিটি ব্যর্থতা ভবিষ্যতের ব্যর্থতার ঘোষণা নয়। জীবনে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা ছাত্রজীবনের কোনো একটি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি, কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজেদের অন্য জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আবার অনেক ভালো ফলাফল করা মানুষও জীবনের অন্য পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ জীবন কোনো একক পরীক্ষার নাম নয়। এখানে পরীক্ষা বারবার আসে, প্রশ্ন বদলায়, উত্তর বদলায়। কখনো কখনো পুরো পথও বদলে যায়।

তাই সন্তানের ফলাফলকে আমরা তার জীবনের একটি তথ্য হিসেবে দেখব, তার পরিচয় হিসেবে নয়। তাকে বলব, ‘তোমার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তোমার মূল্য শুধু ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। তুমি কোথায় ভুল করেছ, তা আমরা দেখব; কিন্তু সেই ভুলের কারণে তোমাকে ছোট করব না। তুমি কোথায় ভালো করেছ, সেটি আমরা উদ্‌যাপন করব; কিন্তু সেই সাফল্যকে তোমার অহংকারের কারণও হতে দেব না।’ কারণ আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি ভালো ফলাফল নয়; আমাদের লক্ষ্য এমন একজন মানুষ তৈরি করা, যে নিজের জীবনকে অর্থপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি সন্তানের হাতে থাকা নম্বরপত্র নিয়ে নয়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। আমরা কি এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করতে চাই, যারা শুধু পরীক্ষার উত্তর দিতে জানবে? নাকি এমন একটি প্রজন্ম চাই, যারা জীবনের প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতেও জানবে? একটি ভালো ফলাফল সন্তানের জন্য একটি দরজা খুলে দিতে পারে। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে সে কীভাবে হাঁটবে, কোথায় যাবে, কতবার পড়ে গিয়ে আবার উঠবে, কী ধরনের মানুষ হবে—সেটি শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল ঠিক করে দেয় না। সন্তানের ভবিষ্যৎ তাই একটি নম্বরপত্রে লেখা থাকে না। তার ভবিষ্যৎ তৈরি হয় প্রতিদিনের অভ্যাসে, শিক্ষায়, চিন্তায়, ভুলে, সংশোধনে, সম্পর্কের মধ্যে, মূল্যবোধে এবং নিজের ওপর বিশ্বাসে।

তাই সন্তানের হাতে ফলাফল তুলে দেওয়ার চেয়ে বড় দায়িত্ব হলো তার হাতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে নেওয়ার সক্ষমতা তুলে দেওয়া। আমরা কি সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ছি, নাকি শুধু তার ফলাফল ভালো করার চেষ্টা করছি? প্রশ্নটি শুধু অভিভাবকদের জন্য নয়। এই প্রশ্ন আমাদের শিক্ষা, পরিবার এবং পুরো সমাজের জন্য।

[লেখক: শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়বেন, নাকি শুধু ফলাফল?

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

একটি শিশুর জন্মের পর থেকেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন বাবা-মা। সে বড় হবে, ভালো পড়াশোনা করবে, প্রতিষ্ঠিত হবে, নিজের পায়ে দাঁড়াবে—এমন আরও কত প্রত্যাশা জমতে থাকে তাকে ঘিরে। প্রত্যাশা থাকা অস্বাভাবিক নয়; বরং সন্তানের জন্য স্বপ্ন দেখাই অভিভাবকত্বের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু কখনো কখনো সেই স্বপ্নের পথটি এমনভাবে সংকুচিত হয়ে আসে যে সেখানে সন্তানের মানুষ হয়ে ওঠার জায়গা কমে যায়। জায়গা দখল করে নেয় শুধু ফলাফল। তখন প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলছি, নাকি শুধু তার ফলাফল তৈরি করছি?

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি শিশুর মেধা, পরিশ্রম ও অগ্রগতি বোঝার সবচেয়ে পরিচিত উপায় হলো পরীক্ষা এবং তার ফলাফল। একটি পরীক্ষার পর নম্বর আসে, গ্রেড আসে, মেধাক্রম তৈরি হয়। ভালো ফলাফল করলে প্রশংসা, খারাপ হলে হতাশা। এভাবেই ধীরে ধীরে একটি শিশুর কাছে সাফল্যের অর্থ দাঁড়িয়ে যায়—কত নম্বর পেলাম, কোন অবস্থানে আছি, অন্যের চেয়ে কতটা এগিয়ে আছি। অথচ একটি ফলাফল একজন শিক্ষার্থীর সক্ষমতার একটি নির্দিষ্ট সময়ের ছবি মাত্র; তার পুরো ভবিষ্যৎ নয়। একজন শিক্ষার্থী একটি পরীক্ষায় ভালো করতে পারে, আবার অন্য কোনো বিষয়ে পিছিয়ে পড়তে পারে। কেউ হয়তো পরীক্ষার খাতায় অসাধারণ লিখতে পারে, কিন্তু নেতৃত্বের গুণে দুর্বল। কেউ গণিতে খুব ভালো, কিন্তু ভাষা বা সৃজনশীলতায় ততটা নয়। কেউ হয়তো পড়াশোনায় মাঝারি, কিন্তু মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ, সংগঠন, শিল্প, প্রযুক্তি, খেলাধুলা কিংবা লেখালেখিতে অসাধারণ সম্ভাবনা নিয়ে বেড়ে উঠছে। তাহলে শুধু নম্বর দিয়ে আমরা তার ভবিষ্যৎকে কতটা সঠিকভাবে বিচার করতে পারি? একটি নম্বরপত্র কি সত্যিই বলে দিতে পারে, একজন মানুষ আগামী দশ বছরে কী হতে পারে?

সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন ফলাফলকে শিক্ষার উদ্দেশ্য মনে করা হয়। শিক্ষা যদি কেবল পরীক্ষায় ভালো করার কৌশলে পরিণত হয়, তাহলে শিক্ষার্থী হয়তো প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করতে শিখবে, কিন্তু প্রশ্ন করতে শিখবে না। সে হয়তো পরীক্ষায় সঠিক উত্তর লিখবে, কিন্তু জীবনের জটিল পরিস্থিতিতে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস তৈরি নাও হতে পারে। অথচ শিক্ষার প্রকৃত সার্থকতা শুধু একটি পরীক্ষার খাতায় প্রকাশ পাওয়ার কথা নয়। শিক্ষা একজন মানুষকে চিন্তা করতে শেখাবে, ভুল থেকে শিখতে শেখাবে, অন্যকে বুঝতে শেখাবে, দায়িত্ব নিতে শেখাবে এবং নিজের সামর্থ্যকে চিনতে সাহায্য করবে।

আমরা প্রায়ই সন্তানের কাছে জানতে চাই, ‘কত পেয়েছ?’ কিন্তু খুব কম সময়েই জানতে চাই, ‘কী শিখলে?’ আরও কম জিজ্ঞেস করি—‘কোন বিষয়টা তোমার ভালো লাগে? কোথায় তোমার সমস্যা হচ্ছে? তুমি ভবিষ্যতে কী করতে চাও?’ প্রশ্নগুলোর এই পার্থক্যই আমাদের চিন্তার পার্থক্যকে প্রকাশ করে। আমরা ফলাফল জানতে আগ্রহী, কিন্তু ফলাফলের পেছনের মানুষটিকে বুঝতে কতটা আগ্রহী?

সন্তানের ফলাফল অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এটিকে অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। একটি ভালো ফলাফল তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে, উচ্চশিক্ষার কিছু সুযোগ তৈরি করতে পারে এবং নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দিতে পারে। একইভাবে খারাপ ফলাফলও কখনো কখনো সতর্কবার্তা হতে পারে। কোথাও হয়তো তার প্রস্তুতির ঘাটতি আছে, শেখার পদ্ধতিতে সমস্যা আছে, মনোযোগের সংকট আছে অথবা তাকে অন্যভাবে সহায়তা করা প্রয়োজন। তাই ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া এবং ফলাফলকে সন্তানের পরিচয় বানিয়ে ফেলা—এই দুটির মধ্যে বড় পার্থক্য আছে।

একজন সচেতন অভিভাবক ফলাফল দেখবেন, কিন্তু শুধু ফলাফল দেখবেন না। তিনি নম্বরের সঙ্গে সন্তানের পরিশ্রমও দেখবেন, উন্নতির জায়গা দেখবেন, দুর্বলতার কারণ খুঁজবেন এবং সম্ভাবনার দিকটিও খেয়াল করবেন। সন্তান কোথায় কম করেছে, এই প্রশ্নের পাশাপাশি তিনি ভাববেন, কেন কম করেছে। সে কীভাবে ভালো করতে পারে, সেটি নিয়েও কথা বলবেন। কারণ একটি ভুল ফলাফলকে শেষ কথা মনে করলে শিশুর সামনে দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আর সেটিকে শেখার একটি ধাপ হিসেবে দেখলে সামনে আরও অনেক দরজা খুলে যায়।

আমাদের সমাজে তুলনার প্রবণতা এত প্রবল যে সন্তানের ফলাফল অনেক সময় তার নিজের উন্নতির মাপকাঠি না হয়ে অন্যের সঙ্গে তার অবস্থান নির্ধারণের হাতিয়ার হয়ে ওঠে। ‘ও এত পেয়েছে, তুমি পারলে না কেন?’ এই একটি বাক্যই একটি শিশুর মনে নিজের প্রতি সন্দেহ তৈরি করতে পারে। সে হয়তো পড়াশোনা করছে নিজের উন্নতির জন্য নয়, অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য। তখন শিক্ষার আনন্দ হারিয়ে যায়, জায়গা নেয় প্রতিযোগিতার ভয়।

প্রতিটি শিশুর পথ এক নয়। কারও শেখার গতি দ্রুত, কারও ধীর। কারও আগ্রহ এক বিষয়ে, অন্য কারও অন্য বিষয়ে। একই বয়স, একই শ্রেণি, একই বিদ্যালয়ে পড়ার মতো মিল থাকলেও তাদের মানসিক গঠন, পারিবারিক পরিবেশ, আগ্রহ, সক্ষমতা ও স্বপ্ন এক নয়। তাই একই মাপকাঠিতে প্রত্যেক শিশুকে বিচার করার চেষ্টা অনেক সময় তার স্বাভাবিক বিকাশকেই বাধাগ্রস্ত করে।

আরেকটি বিষয়ও আমাদের ভাবতে হবে। অনেক সময় বাবা-মায়ের নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন সন্তানের ভবিষ্যতের সঙ্গে মিশে যায়। যে স্বপ্নটি বাবা পূরণ করতে পারেননি, সেটি তিনি সন্তানের মাধ্যমে পূরণ করতে চান। যে সুযোগটি মা পাননি, সেটি সন্তানকে দিতে গিয়ে কখনো কখনো তার নিজের পছন্দের জায়গাটিই ভুলে যান। উদ্দেশ্য ভালো হলেও ফল সব সময় ভালো হয় না। কারণ সন্তান বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণের কোনো প্রকল্প নয়; সে একজন স্বতন্ত্র মানুষ, যার নিজেরও কিছু পছন্দ, ভয়, স্বপ্ন ও সম্ভাবনা আছে।

সন্তানকে পথ দেখানো প্রয়োজন, কিন্তু তার হয়ে পথ বেছে নেওয়া নয়। তাকে উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন, তার ওপর নিজের অসম্পূর্ণ আকাঙ্ক্ষার ভার চাপিয়ে দেওয়া নয়। তাকে পরিশ্রম শেখানো প্রয়োজন, কিন্তু এমনভাবে নয়, যাতে সে মনে করে ভালো ফলাফল না করলে সে বাবা-মায়ের ভালোবাসার যোগ্য নয়।

শৈশব ও কৈশোরে একজন মানুষের আত্মপরিচয় তৈরি হয় ধীরে ধীরে। সে নিজের সম্পর্কে যে ধারণা তৈরি করে, তার ওপর পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রভাব গভীর। যদি তাকে বারবার বলা হয় যে সে কম পেয়েছে, সে অন্যের মতো নয়, সে যথেষ্ট ভালো নয়—তাহলে একসময় সে নিজের সামর্থ্য নিয়েই সন্দেহ করতে শুরু করতে পারে। বিপরীতে, ভুলের মধ্যেও যদি তাকে শেখার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে সে ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে আবার চেষ্টা করতে শেখে।

আমরা সন্তানকে সফল হতে শেখাতে চাই। তবে সফলতার সংজ্ঞাটিও কি আমরা ঠিকভাবে তৈরি করেছি? ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া, ভালো চাকরি পাওয়া, বেশি আয় করা—এসব অবশ্যই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। কিন্তু একজন মানুষ যদি সফল হয়েও অসৎ হয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন হয়, অন্যের প্রতি অসম্মানজনক হয়, নিজের পরিবারকে সময় দিতে না পারে, নিজের ভুল স্বীকার করতে না পারে, তাহলে সেই সাফল্যকে আমরা কতটা পূর্ণাঙ্গ বলব?

একজন ভালো শিক্ষার্থী হওয়া গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠা আরও দীর্ঘ ও গভীর প্রক্রিয়া। সততা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, আত্মনিয়ন্ত্রণ, যুক্তিবোধ, অন্যের মতকে সম্মান করা এবং ব্যর্থতার পর আবার দাঁড়ানোর মানসিকতা—এসব কোনো পরীক্ষার নম্বর দিয়ে পুরোপুরি মাপা যায় না। অথচ জীবনের বড় পরীক্ষাগুলোতে অনেক সময় এগুলোরই প্রয়োজন হয় বেশি।

তাই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হলে শুধু তার পরীক্ষার ফলাফল নয়, তার অভ্যাসের দিকেও তাকাতে হবে। সে কি বইয়ের বাইরে কিছু পড়ে? সে কি প্রশ্ন করতে পারে? সে কি নিজের ভুল স্বীকার করতে পারে? সে কি অন্যের কষ্ট বুঝতে পারে? সে কি নিজের কাজের দায়িত্ব নিতে শেখে? সে কি ব্যর্থ হলে আবার চেষ্টা করে? সে কি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবতে শেখে? সে কি এমন একজন মানুষ হয়ে উঠছে, যার ওপর অন্য একজন মানুষ নির্ভর করতে পারে?

অভিভাবকের দায়িত্ব সন্তানের হয়ে সবকিছু করে দেওয়া নয়; বরং এমনভাবে তাকে প্রস্তুত করা, যাতে একদিন সে নিজের জীবন নিজেই পরিচালনা করতে পারে। ছোটবেলায় হাত ধরে হাঁটানো যেমন প্রয়োজন, তেমনি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজের পায়ে হাঁটার সুযোগ দেওয়াও প্রয়োজন। অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ যেমন ক্ষতিকর, তেমনি সম্পূর্ণ উদাসীনতাও। সন্তানের প্রয়োজন এমন একজন অভিভাবক, যিনি তাকে পথ দেখাবেন, কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপ নিজের হাতে নিয়ন্ত্রণ করবেন না।

এখানে শিক্ষকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক যদি শুধু নম্বরের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীকে বিচার করেন, তাহলে অনেক সম্ভাবনা অদৃশ্য থেকে যেতে পারে। শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষার্থীর আচরণ, প্রশ্ন করার ধরন, সৃজনশীলতা, সহযোগিতার মানসিকতা কিংবা নেতৃত্বের গুণ—এসবও তার শিক্ষাগত বিকাশের অংশ। শিক্ষক ও অভিভাবক যদি শুধু ফলাফল নয়, শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশকে গুরুত্ব দেন, তাহলে শিক্ষা আরও অর্থবহ হয়ে উঠতে পারে।

আমাদেরও বুঝতে হবে, প্রতিটি ব্যর্থতা ভবিষ্যতের ব্যর্থতার ঘোষণা নয়। জীবনে এমন অনেক মানুষ আছেন, যারা ছাত্রজীবনের কোনো একটি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল করতে পারেননি, কিন্তু পরবর্তী সময়ে নিজেদের অন্য জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আবার অনেক ভালো ফলাফল করা মানুষও জীবনের অন্য পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ জীবন কোনো একক পরীক্ষার নাম নয়। এখানে পরীক্ষা বারবার আসে, প্রশ্ন বদলায়, উত্তর বদলায়। কখনো কখনো পুরো পথও বদলে যায়।

তাই সন্তানের ফলাফলকে আমরা তার জীবনের একটি তথ্য হিসেবে দেখব, তার পরিচয় হিসেবে নয়। তাকে বলব, ‘তোমার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তোমার মূল্য শুধু ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না। তুমি কোথায় ভুল করেছ, তা আমরা দেখব; কিন্তু সেই ভুলের কারণে তোমাকে ছোট করব না। তুমি কোথায় ভালো করেছ, সেটি আমরা উদ্‌যাপন করব; কিন্তু সেই সাফল্যকে তোমার অহংকারের কারণও হতে দেব না।’ কারণ আমাদের লক্ষ্য শুধু একটি ভালো ফলাফল নয়; আমাদের লক্ষ্য এমন একজন মানুষ তৈরি করা, যে নিজের জীবনকে অর্থপূর্ণভাবে পরিচালনা করতে পারে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি সন্তানের হাতে থাকা নম্বরপত্র নিয়ে নয়, আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে। আমরা কি এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করতে চাই, যারা শুধু পরীক্ষার উত্তর দিতে জানবে? নাকি এমন একটি প্রজন্ম চাই, যারা জীবনের প্রশ্নগুলোর মুখোমুখি দাঁড়াতেও জানবে? একটি ভালো ফলাফল সন্তানের জন্য একটি দরজা খুলে দিতে পারে। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে সে কীভাবে হাঁটবে, কোথায় যাবে, কতবার পড়ে গিয়ে আবার উঠবে, কী ধরনের মানুষ হবে—সেটি শুধু একটি পরীক্ষার ফলাফল ঠিক করে দেয় না। সন্তানের ভবিষ্যৎ তাই একটি নম্বরপত্রে লেখা থাকে না। তার ভবিষ্যৎ তৈরি হয় প্রতিদিনের অভ্যাসে, শিক্ষায়, চিন্তায়, ভুলে, সংশোধনে, সম্পর্কের মধ্যে, মূল্যবোধে এবং নিজের ওপর বিশ্বাসে।

তাই সন্তানের হাতে ফলাফল তুলে দেওয়ার চেয়ে বড় দায়িত্ব হলো তার হাতে নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে নেওয়ার সক্ষমতা তুলে দেওয়া। আমরা কি সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ছি, নাকি শুধু তার ফলাফল ভালো করার চেষ্টা করছি? প্রশ্নটি শুধু অভিভাবকদের জন্য নয়। এই প্রশ্ন আমাদের শিক্ষা, পরিবার এবং পুরো সমাজের জন্য।

[লেখক: শিক্ষার্থী, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত