সংবাদ

ফুটবলার প্রতিমার স্বপ্ন আজ সংকটে


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

ফুটবলার প্রতিমার স্বপ্ন আজ সংকটে

জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের মাঠেও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন প্রতিমা মুন্ডা। ফুটবল ঘিরেই আবর্তিত হতো তার সোনালী ভবিষ্যৎ ও সব স্বপ্ন। কিন্তু খেলার মাঠে পাওয়া একটি গুরুতর আঘাত এবং পরিবারের চরম আর্থিক সংকটে এখন তার সেই স্বপ্ন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা এবং পড়াশোনার খরচ জোগাতে গিয়ে এখন বড় ধরনের হিমশিম খাচ্ছে তার অসহায় পরিবার।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকার খলিশখালী ইউনিয়নের গাছার দুর্গাপুর গ্রামের শ্রীকান্ত মুন্ডার ছোট মেয়ে প্রতিমা। বসতভিটাহীন এক অতি সাধারণ দিনমজুর পরিবারের সন্তান হয়েও ছোটবেলা থেকেই ফুটবল মাঠে নিজের অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ফুটবলের সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয়। তৎকালীন প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় তিনি নিয়মিত খেলাধুলায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা ক্রীড়া কমিটির তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল হাসান প্রিন্সের সঠিক দিকনির্দেশনায় তার ফুটবল দক্ষতা আরও বহুগুণ বিকশিত হয় এবং একপর্যায়ে তিনি জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলার সুযোগ অর্জন করেন।

বর্তমানে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী প্রতিমা বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় তার ডান পায়ে একটি গুরুতর আঘাত লাগে। এই আকস্মিক চোটের কারণে তার স্বাভাবিক অনুশীলন যেমন বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে প্রতিমা যখন বাড়ি ফেরেন, তখন বিকেএসপি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বকেয়া বাবদ ৪৬ হাজার ৮৪০ টাকা পরিশোধের তাগিদ দিয়ে একটি বার্তা পাঠানো হয়। চিকিৎসা খরচ, পড়াশোনা এবং বিকেএসপির বকেয়া সব মিলিয়ে তার পরিবার এখন এক গভীর আর্থিক খাদে পড়েছে।

প্রতিমার মা সুনিতা মুন্ডা আবেগঘন কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন, অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে এতদিন কোনোমতে মেয়ের পড়াশোনা ও খেলাধুলার খরচ চালিয়ে আসছিলাম। এখন মেয়ের ডান পায়ে উন্নত চিকিৎসার বড় প্রয়োজন, কিন্তু টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের ফুটবল নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন ছিল, যা আমাদের বুকজুড়ে আলো ছড়াত। কিন্তু বর্তমানের এই চরম বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন ধরে রাখাটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণা অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, প্রতিমার সুচিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা চালানো হবে।

একই সঙ্গে তিনি দেশের সমাজের বিত্তবান ও ক্রীড়ানুরাগী মানুষদের এই প্রতিভাবান ও উদীয়মান নারী ফুটবলারের পাশে এসে দাঁড়ানোর আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬


ফুটবলার প্রতিমার স্বপ্ন আজ সংকটে

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশের মাঠেও দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন প্রতিমা মুন্ডা। ফুটবল ঘিরেই আবর্তিত হতো তার সোনালী ভবিষ্যৎ ও সব স্বপ্ন। কিন্তু খেলার মাঠে পাওয়া একটি গুরুতর আঘাত এবং পরিবারের চরম আর্থিক সংকটে এখন তার সেই স্বপ্ন পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা এবং পড়াশোনার খরচ জোগাতে গিয়ে এখন বড় ধরনের হিমশিম খাচ্ছে তার অসহায় পরিবার।

সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকার খলিশখালী ইউনিয়নের গাছার দুর্গাপুর গ্রামের শ্রীকান্ত মুন্ডার ছোট মেয়ে প্রতিমা। বসতভিটাহীন এক অতি সাধারণ দিনমজুর পরিবারের সন্তান হয়েও ছোটবেলা থেকেই ফুটবল মাঠে নিজের অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন তিনি।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালেই ফুটবলের সঙ্গে তার পথচলা শুরু হয়। তৎকালীন প্রধান শিক্ষক অজয় কুমার সরকারের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সহযোগিতায় তিনি নিয়মিত খেলাধুলায় যুক্ত হন। পরবর্তীতে সাতক্ষীরা ক্রীড়া কমিটির তত্ত্বাবধায়ক আরিফুল হাসান প্রিন্সের সঠিক দিকনির্দেশনায় তার ফুটবল দক্ষতা আরও বহুগুণ বিকশিত হয় এবং একপর্যায়ে তিনি জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৭ দলে খেলার সুযোগ অর্জন করেন।

বর্তমানে একাদশ শ্রেণির ছাত্রী প্রতিমা বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় তার ডান পায়ে একটি গুরুতর আঘাত লাগে। এই আকস্মিক চোটের কারণে তার স্বাভাবিক অনুশীলন যেমন বন্ধ হয়ে গেছে, তেমনি উন্নত চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দুর্গাপূজার ছুটিতে প্রতিমা যখন বাড়ি ফেরেন, তখন বিকেএসপি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বকেয়া বাবদ ৪৬ হাজার ৮৪০ টাকা পরিশোধের তাগিদ দিয়ে একটি বার্তা পাঠানো হয়। চিকিৎসা খরচ, পড়াশোনা এবং বিকেএসপির বকেয়া সব মিলিয়ে তার পরিবার এখন এক গভীর আর্থিক খাদে পড়েছে।

প্রতিমার মা সুনিতা মুন্ডা আবেগঘন কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন, অন্যের জমিতে দিনমজুরের কাজ করে এতদিন কোনোমতে মেয়ের পড়াশোনা ও খেলাধুলার খরচ চালিয়ে আসছিলাম। এখন মেয়ের ডান পায়ে উন্নত চিকিৎসার বড় প্রয়োজন, কিন্তু টাকার অভাবে সঠিক চিকিৎসা করাতে পারছি না। তিনি আরও বলেন, আমার মেয়ের ফুটবল নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন ছিল, যা আমাদের বুকজুড়ে আলো ছড়াত। কিন্তু বর্তমানের এই চরম বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন ধরে রাখাটাই আমাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই বিষয়ে তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণা অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে বলেন, প্রতিমার সুচিকিৎসার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার চেষ্টা চালানো হবে।

একই সঙ্গে তিনি দেশের সমাজের বিত্তবান ও ক্রীড়ানুরাগী মানুষদের এই প্রতিভাবান ও উদীয়মান নারী ফুটবলারের পাশে এসে দাঁড়ানোর আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত