সংবাদ

পোশাকখাতে অস্থিরতায় যেসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

পোশাকখাতে অস্থিরতায় যেসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব
রাজস্ব ভবন

তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ২০০-এর বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ। এ জন্য এনবিআরের করসংক্রান্ত দুটি গোয়েন্দা ইউনিট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় থাকা বেশির ভাগ ব্যক্তি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও।

এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাব জব্দ ও লেনদেনের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টিতে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। সেটির সত্যতা যাচাই করতেই লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব জব্দ না করে তথ্য তলব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তালিকায় যারা আছেন

এনবিআরের তালিকায় তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের মন্ডল, গিভেন্সি, স্ট্যান্ডার্ড, নিপা, ওয়েল ও তুসুকাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সুতা, পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য, প্যাকেজিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিস্তৃত।

তালিকায় সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে মন্ডল গ্রুপের—২৮টি। এর মধ্যে মন্ডল ইন্টিমেটস, কটন ফিল্ড, কটন ক্লাব, কটন ক্লোদিং, মন্ডল ফেব্রিকস, ট্রপিক্যাল নিটেক্স, মার্ক সোয়েটার, মন্ডল স্পিনিং মিলস, আলিম নিট, মন্ডল সিকিউরিটিজ, অ্যাপোলো ফ্যাশন, ট্রিমস ইন্টারন্যাশনাল, ইকো ইন্টিমেটস, অ্যাপোলো নিটওয়্যার, মন্ডল নিট কম্পোজিট ও মন্ডল ইয়ার্ন ডাইং উল্লেখযোগ্য। 

এ ছাড়া পানামা অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স, জিগজ্যাগ স্টুডিও, মন্ডল অ্যান্ড কোম্পানি ও মনটেক্স ফেব্রিকসের নামও রয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আছেন আবদুল আলিম মন্ডল, তারিন তাসলিমা, মো. জুবায়ের মন্ডল, সুলতানা খাতুন, মাসুদা খাতুন, আবদুল মান্নান মন্ডল, মোমেনা খাতুন ও আবদুল মোমিন মন্ডল।

গিভেন্সি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—গিভেন্সি গার্মেন্টস, গিভেন্সি স্পিনিং মিলস, গিভেন্সি গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, গিভেন্সি ইয়ার্ন ডাইং ও গিভেন্স ফুডস অ্যান্ড এসেনশিয়ালস—তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে আবদুল জাহিদ মুকুল, মাসুমা খাতুন, মাহমুদা খাতুন ও আবদুল হাদির নামও আছে।

স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ এবং দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ও সাগর ইনফো বিল্ডার্সের যৌথ উদ্যোগের নামও তালিকায় রয়েছে। এ গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন এ কে এম মোশাররফ হোসেন, হোসনা আরা বেগম, মো. আতিউর রহমান, মাহমুদা বেগম, তাসমিয়া রহমান, হাসনাত মোশাররফ ও ফারিয়া রহমান।

নিপা গ্রুপের নিপা নিটওয়্যার কোম্পানি, সেলিনা অ্যাপারেলস ও নিপা ফ্যাশন ওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির নাম রয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. খসরু চৌধুরীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য।

চট্টগ্রামভিত্তিক ওয়েল গ্রুপের ওয়েল অ্যাকসেসরিজ, ওয়েল ফ্যাশন ও ওয়েল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির নামও তালিকায় আছে। ওয়েল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুচ সালাম আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।

এ ছাড়া তুসুকা গ্রুপের নয়টি প্রতিষ্ঠান—তুসুকা প্যাকেজিং, তুসুকা স্টিচেস, তুসুকা অ্যাপারেলস, তুসুকা ফ্যাশনস, তুসুকা ওয়াশিং, তুসুকা প্রসেসিং, তুসুকা ডেনিম, তুসুকা জিনস ও তুসুকা ট্রাউজার্সের নাম তালিকায় রয়েছে।

তালিকায় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম আবদুল মান্নান, তার পরিবারের সদস্য ফরিদা মান্নানসহ আরও কয়েকজনের নাম আছে। এ ছাড়া মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। 

মিরপুর এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভে ইলিয়াস মোল্লার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনবিআরের তালিকায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বোনের স্বামী আলিফ মোল্লার নামও রয়েছে।

এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তালিকায় থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পোশাক খাতের চলমান আন্দোলনকে উসকে দিতে নানাভাবে অর্থায়ন করা হয়েছে। সরকারের গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই এনবিআর দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করছে। সূত্র: প্রথম আলো

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


পোশাকখাতে অস্থিরতায় যেসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব তলব

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে ২০০-এর বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর মধ্যে প্রায় ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ১২৫টি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অর্থ পোশাকশিল্পে অস্থিরতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই উদ্যোগ। এ জন্য এনবিআরের করসংক্রান্ত দুটি গোয়েন্দা ইউনিট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে এক সপ্তাহের মধ্যে তথ্য পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালিকায় থাকা বেশির ভাগ ব্যক্তি ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরাও।

এনবিআরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি সরকারি সংস্থার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্যাংক হিসাব জব্দ ও লেনদেনের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টিতে অর্থায়নের অভিযোগ রয়েছে। সেটির সত্যতা যাচাই করতেই লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে শ্রমিকদের কথা চিন্তা করে সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাব জব্দ না করে তথ্য তলব করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তালিকায় যারা আছেন

এনবিআরের তালিকায় তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতের মন্ডল, গিভেন্সি, স্ট্যান্ডার্ড, নিপা, ওয়েল ও তুসুকাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা তৈরি পোশাক, বস্ত্র, সুতা, পোশাকের আনুষঙ্গিক পণ্য, প্যাকেজিং ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে বিস্তৃত।

তালিকায় সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে মন্ডল গ্রুপের—২৮টি। এর মধ্যে মন্ডল ইন্টিমেটস, কটন ফিল্ড, কটন ক্লাব, কটন ক্লোদিং, মন্ডল ফেব্রিকস, ট্রপিক্যাল নিটেক্স, মার্ক সোয়েটার, মন্ডল স্পিনিং মিলস, আলিম নিট, মন্ডল সিকিউরিটিজ, অ্যাপোলো ফ্যাশন, ট্রিমস ইন্টারন্যাশনাল, ইকো ইন্টিমেটস, অ্যাপোলো নিটওয়্যার, মন্ডল নিট কম্পোজিট ও মন্ডল ইয়ার্ন ডাইং উল্লেখযোগ্য। 

এ ছাড়া পানামা অ্যাগ্রো কমপ্লেক্স, জিগজ্যাগ স্টুডিও, মন্ডল অ্যান্ড কোম্পানি ও মনটেক্স ফেব্রিকসের নামও রয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আছেন আবদুল আলিম মন্ডল, তারিন তাসলিমা, মো. জুবায়ের মন্ডল, সুলতানা খাতুন, মাসুদা খাতুন, আবদুল মান্নান মন্ডল, মোমেনা খাতুন ও আবদুল মোমিন মন্ডল।

গিভেন্সি গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান—গিভেন্সি গার্মেন্টস, গিভেন্সি স্পিনিং মিলস, গিভেন্সি গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ, গিভেন্সি ইয়ার্ন ডাইং ও গিভেন্স ফুডস অ্যান্ড এসেনশিয়ালস—তালিকায় রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে আবদুল জাহিদ মুকুল, মাসুমা খাতুন, মাহমুদা খাতুন ও আবদুল হাদির নামও আছে।

স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের স্ট্যান্ডার্ড গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজ এবং দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স ও সাগর ইনফো বিল্ডার্সের যৌথ উদ্যোগের নামও তালিকায় রয়েছে। এ গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন এ কে এম মোশাররফ হোসেন, হোসনা আরা বেগম, মো. আতিউর রহমান, মাহমুদা বেগম, তাসমিয়া রহমান, হাসনাত মোশাররফ ও ফারিয়া রহমান।

নিপা গ্রুপের নিপা নিটওয়্যার কোম্পানি, সেলিনা অ্যাপারেলস ও নিপা ফ্যাশন ওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির নাম রয়েছে। ব্যক্তি হিসেবে আছেন সাবেক সংসদ সদস্য মো. খসরু চৌধুরীসহ পরিবারের একাধিক সদস্য।

চট্টগ্রামভিত্তিক ওয়েল গ্রুপের ওয়েল অ্যাকসেসরিজ, ওয়েল ফ্যাশন ও ওয়েল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির নামও তালিকায় আছে। ওয়েল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুচ সালাম আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ছিলেন।

এ ছাড়া তুসুকা গ্রুপের নয়টি প্রতিষ্ঠান—তুসুকা প্যাকেজিং, তুসুকা স্টিচেস, তুসুকা অ্যাপারেলস, তুসুকা ফ্যাশনস, তুসুকা ওয়াশিং, তুসুকা প্রসেসিং, তুসুকা ডেনিম, তুসুকা জিনস ও তুসুকা ট্রাউজার্সের নাম তালিকায় রয়েছে।

তালিকায় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি এস এম আবদুল মান্নান, তার পরিবারের সদস্য ফরিদা মান্নানসহ আরও কয়েকজনের নাম আছে। এ ছাড়া মিরপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা ও তার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন। 

মিরপুর এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভে ইলিয়াস মোল্লার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনবিআরের তালিকায় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের বোনের স্বামী আলিফ মোল্লার নামও রয়েছে।

এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তালিকায় থাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পোশাক খাতের চলমান আন্দোলনকে উসকে দিতে নানাভাবে অর্থায়ন করা হয়েছে। সরকারের গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই এনবিআর দুই শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের তথ্য যাচাই করছে। সূত্র: প্রথম আলো


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত