সংবাদ

তীব্র হট্টগোলের মাঝেই সংসদে পাস হল মহিলা সংরক্ষণ বিল


দীপক মুখার্জী, কলকাতা
দীপক মুখার্জী, কলকাতা
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

তীব্র হট্টগোলের মাঝেই সংসদে পাস হল মহিলা সংরক্ষণ বিল

সংসদের উত্তপ্ত পরিবেশ এবং বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের মধ্যেই লোকসভায় পেশ করা হল কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল। আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এই বিলটি উপস্থাপন করেন। একইসঙ্গে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার লক্ষ্যে আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিলও পেশ করা হয়, যা মিলিয়ে কেন্দ্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এই বিলের বিরোধিতায় সরব হয়ে ওঠে। কংগ্রেস সাংসদ কে. সি. ভেনুগোপাল বিল পেশের আগেই ভোটাভুটির দাবি জানান। প্রথমে স্পিকার তাতে সম্মতি না দিলেও বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান, হট্টগোল এবং প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, তাদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তবুও তারা প্রতিবাদ চালিয়ে যান।

ভোটাভুটিতে সরকারপক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিল পেশের পক্ষে ২০৭টি ভোট এবং বিপক্ষে ১২৬টি ভোট পড়ে। তবে এই ভোটাভুটিতে উভয় পক্ষের বহু সাংসদের অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এনডিএ-র অন্তত ৮৬ জন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরেও অনুপস্থিতির সংখ্যা আরও বেশি। ফলে এই ফলাফল রাজনৈতিক কৌশল ও উপস্থিতির সমীকরণকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে একই ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সংসদে পাশ হয়েছিল, যেখানে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয় এবং তা কার্যকর করার জন্য জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাসের শর্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হচ্ছে, যা নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি রয়েছে। তাদের দাবি, এটি বর্তমান জনসংখ্যার বাস্তব চিত্রকে প্রতিফলিত করে না এবং রাজনৈতিকভাবে কিছু অঞ্চলের সুবিধা হতে পারে।

এদিকে, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, অর্থাৎ ৩৬২টি ভোট দরকার। বর্তমানে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার থেকে অনেকটাই কম। ফলে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে সাংসদদের উপস্থিতি, মিত্রদলগুলোর অবস্থান এবং বিরোধীদের কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, বিরোধীদের প্রবল আপত্তি এবং সংসদের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও বিলটি পেশ হয়ে যাওয়ায় স্পষ্ট, কেন্দ্র সরকার এই ইস্যুতে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তবে এই বিলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আগামিদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ, সংখ্যার লড়াই এবং সংসদীয় কৌশলের উপর, যা ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

তবে এই ভোটাভুটিতে উভয় পক্ষের বহু সাংসদের অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এনডিএ-র অন্তত ৮৬ জন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরেও অনুপস্থিতির সংখ্যা আরও বেশি। ফলে এই ফলাফল রাজনৈতিক কৌশল ও উপস্থিতির সমীকরণকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে একই ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সংসদে পাশ হয়েছিল, যেখানে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয় এবং তা কার্যকর করার জন্য জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাসের শর্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হচ্ছে, যা নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি রয়েছে। তাদের দাবি, এটি বর্তমান জনসংখ্যার বাস্তব চিত্রকে প্রতিফলিত করে না এবং রাজনৈতিকভাবে কিছু অঞ্চলের সুবিধা হতে পারে।

এদিকে, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, অর্থাৎ ৩৬২টি ভোট দরকার। বর্তমানে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার থেকে অনেকটাই কম। ফলে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে সাংসদদের উপস্থিতি, মিত্রদলগুলোর অবস্থান এবং বিরোধীদের কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, বিরোধীদের প্রবল আপত্তি এবং সংসদের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও বিলটি পেশ হয়ে যাওয়ায় স্পষ্ট, কেন্দ্র সরকার এই ইস্যুতে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তবে এই বিলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আগামিদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ, সংখ্যার লড়াই এবং সংসদীয় কৌশলের উপর, যা ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিল পেশ হয়ে যাওয়াটা স্পষ্ট করে কেন্দ্র সরকার এই ইস্যুতে পিছিয়ে আসতে রাজি নয়। অন্যদিকে, বিরোধীদের আক্রমণও ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বিল শুধুই নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্ন নয়, বরং নির্বাচনী সমীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্যের বড় লড়াই।

তবে নারী সংরক্ষণ বিল লোকসভায় পেশ হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু এর পথ এখনো মসৃণ নয়। সংসদের ভেতরে সংখ্যার লড়াই, আর বাইরে রাজনৈতিক বার্তা দুইয়ের সমান্তরাল টানাপোড়েনে এই বিল এখন দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


তীব্র হট্টগোলের মাঝেই সংসদে পাস হল মহিলা সংরক্ষণ বিল

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সংসদের উত্তপ্ত পরিবেশ এবং বিরোধীদের তীব্র প্রতিবাদের মধ্যেই লোকসভায় পেশ করা হল কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল। আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল এই বিলটি উপস্থাপন করেন। একইসঙ্গে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার লক্ষ্যে আসন পুনর্বিন্যাস বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিলও পেশ করা হয়, যা মিলিয়ে কেন্দ্রের বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

অধিবেশন শুরু হতেই বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এই বিলের বিরোধিতায় সরব হয়ে ওঠে। কংগ্রেস সাংসদ কে. সি. ভেনুগোপাল বিল পেশের আগেই ভোটাভুটির দাবি জানান। প্রথমে স্পিকার তাতে সম্মতি না দিলেও বিরোধীদের লাগাতার স্লোগান, হট্টগোল এবং প্রতিবাদের মুখে শেষ পর্যন্ত ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, তাদের বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তবুও তারা প্রতিবাদ চালিয়ে যান।

ভোটাভুটিতে সরকারপক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিল পেশের পক্ষে ২০৭টি ভোট এবং বিপক্ষে ১২৬টি ভোট পড়ে। তবে এই ভোটাভুটিতে উভয় পক্ষের বহু সাংসদের অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এনডিএ-র অন্তত ৮৬ জন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরেও অনুপস্থিতির সংখ্যা আরও বেশি। ফলে এই ফলাফল রাজনৈতিক কৌশল ও উপস্থিতির সমীকরণকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে একই ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সংসদে পাশ হয়েছিল, যেখানে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয় এবং তা কার্যকর করার জন্য জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাসের শর্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হচ্ছে, যা নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি রয়েছে। তাদের দাবি, এটি বর্তমান জনসংখ্যার বাস্তব চিত্রকে প্রতিফলিত করে না এবং রাজনৈতিকভাবে কিছু অঞ্চলের সুবিধা হতে পারে।

এদিকে, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, অর্থাৎ ৩৬২টি ভোট দরকার। বর্তমানে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার থেকে অনেকটাই কম। ফলে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে সাংসদদের উপস্থিতি, মিত্রদলগুলোর অবস্থান এবং বিরোধীদের কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, বিরোধীদের প্রবল আপত্তি এবং সংসদের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও বিলটি পেশ হয়ে যাওয়ায় স্পষ্ট, কেন্দ্র সরকার এই ইস্যুতে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তবে এই বিলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আগামিদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ, সংখ্যার লড়াই এবং সংসদীয় কৌশলের উপর, যা ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

তবে এই ভোটাভুটিতে উভয় পক্ষের বহু সাংসদের অনুপস্থিতি বিশেষভাবে লক্ষণীয়। এনডিএ-র অন্তত ৮৬ জন সাংসদ অনুপস্থিত ছিলেন, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরেও অনুপস্থিতির সংখ্যা আরও বেশি। ফলে এই ফলাফল রাজনৈতিক কৌশল ও উপস্থিতির সমীকরণকেও সামনে নিয়ে এসেছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩ সালে একই ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সংসদে পাশ হয়েছিল, যেখানে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয় এবং তা কার্যকর করার জন্য জনগণনার পর আসন পুনর্বিন্যাসের শর্ত রাখা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান প্রস্তাবে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে পুনর্বিন্যাসের কথা বলা হচ্ছে, যা নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি রয়েছে। তাদের দাবি, এটি বর্তমান জনসংখ্যার বাস্তব চিত্রকে প্রতিফলিত করে না এবং রাজনৈতিকভাবে কিছু অঞ্চলের সুবিধা হতে পারে।

এদিকে, সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করাতে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন, অর্থাৎ ৩৬২টি ভোট দরকার। বর্তমানে এনডিএ-র হাতে রয়েছে ২৯৩টি আসন, যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার থেকে অনেকটাই কম। ফলে চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে সাংসদদের উপস্থিতি, মিত্রদলগুলোর অবস্থান এবং বিরোধীদের কৌশল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, বিরোধীদের প্রবল আপত্তি এবং সংসদের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেও বিলটি পেশ হয়ে যাওয়ায় স্পষ্ট, কেন্দ্র সরকার এই ইস্যুতে এগিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। তবে এই বিলের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে আগামিদিনের রাজনৈতিক সমীকরণ, সংখ্যার লড়াই এবং সংসদীয় কৌশলের উপর, যা ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।

বিরোধীদের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিল পেশ হয়ে যাওয়াটা স্পষ্ট করে কেন্দ্র সরকার এই ইস্যুতে পিছিয়ে আসতে রাজি নয়। অন্যদিকে, বিরোধীদের আক্রমণও ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই বিল শুধুই নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্ন নয়, বরং নির্বাচনী সমীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্যের বড় লড়াই।

তবে নারী সংরক্ষণ বিল লোকসভায় পেশ হয়ে গেছে ঠিকই, কিন্তু এর পথ এখনো মসৃণ নয়। সংসদের ভেতরে সংখ্যার লড়াই, আর বাইরে রাজনৈতিক বার্তা দুইয়ের সমান্তরাল টানাপোড়েনে এই বিল এখন দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে।

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত