বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলাপকালে এই গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, "হরমুজ প্রণালিতে
ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে যেমন সম্মান জানানো উচিত, তেমনি এই আন্তর্জাতিক জলপথ
দিয়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।" প্রণালিটি উন্মুক্ত
রাখার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সর্বসম্মত আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, চীন বর্তমান
যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষপাতি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক হালনাগাদ তথ্যে
জানিয়েছে, সোমবার থেকে শুরু হওয়া নৌ অবরোধ এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজই ভাঙতে পারেনি। মার্কিন
বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০টি জাহাজকে তারা ওই এলাকা থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, তারা কেবল ইরানের উপকূলে যাতায়াতকারী
জাহাজগুলোকে আটকাচ্ছে বা ফিরিয়ে দিচ্ছে। তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশগুলোর জন্য পণ্যবাহী
জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা। গত বুধবার মার্কিন গাইডেড-মিসাইল
ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস স্প্রুয়ান্স’ বন্দর আব্বাস থেকে ছেড়ে আসা একটি ইরানি কার্গো জাহাজকে
সফলভাবে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি
দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো থেকে ইরান যে অর্থ আদায় করতে চাইছিল তা বন্ধ করা এবং দেশটির
তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে এনে তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই পদক্ষেপকে ‘দস্যুতা’
বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত
সাগরে নৌ চলাচল লক্ষ্যবস্তু করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান
এবং ইরানের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা
তৈরি করতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে আলাপকালে এই গুরুত্বারোপ করেন। অন্যদিকে, সোমবার থেকে কার্যকর হওয়া মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ওই এলাকায় জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, "হরমুজ প্রণালিতে
ইরানের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে যেমন সম্মান জানানো উচিত, তেমনি এই আন্তর্জাতিক জলপথ
দিয়ে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।" প্রণালিটি উন্মুক্ত
রাখার বিষয়ে বিশ্বজুড়ে সর্বসম্মত আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, চীন বর্তমান
যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষপাতি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক হালনাগাদ তথ্যে
জানিয়েছে, সোমবার থেকে শুরু হওয়া নৌ অবরোধ এখন পর্যন্ত কোনো জাহাজই ভাঙতে পারেনি। মার্কিন
বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ১০টি জাহাজকে তারা ওই এলাকা থেকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, তারা কেবল ইরানের উপকূলে যাতায়াতকারী
জাহাজগুলোকে আটকাচ্ছে বা ফিরিয়ে দিচ্ছে। তবে ইরান ছাড়া অন্য দেশগুলোর জন্য পণ্যবাহী
জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা জানিয়েছে তারা। গত বুধবার মার্কিন গাইডেড-মিসাইল
ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস স্প্রুয়ান্স’ বন্দর আব্বাস থেকে ছেড়ে আসা একটি ইরানি কার্গো জাহাজকে
সফলভাবে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি
দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলো থেকে ইরান যে অর্থ আদায় করতে চাইছিল তা বন্ধ করা এবং দেশটির
তেল রপ্তানি শূন্যে নামিয়ে এনে তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের এই পদক্ষেপকে ‘দস্যুতা’
বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। এর প্রতিশোধ হিসেবে তারা পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও লোহিত
সাগরে নৌ চলাচল লক্ষ্যবস্তু করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান
এবং ইরানের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা
তৈরি করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন