শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের চরম অবমাননাকর মন্তব্য এবং যুবলীগ নেতাদের নেতৃত্বে অস্ত্র নিয়ে রাজপথে মহড়া দেওয়ার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
জুলাই
গণঅভ্যুত্থানের ভয়াল দিনগুলোতে আওয়ামী
লীগ ও তার সহযোগী
সংগঠনগুলোর তাণ্ডব এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের
সবিস্তার বর্ণনা দিয়েছেন গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারী মারুফ আল হাসান। বৃহস্পতিবার
ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক
প্যানেলে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এসব চাঞ্চল্যকর
তথ্য উপস্থাপন করেন।
আদালতে
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ২৭
বছর বয়সী মারুফ আল
হাসান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে
যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন
থেকেই আমি এর সঙ্গে
যুক্ত ছিলাম। ১৬ জুলাই রংপুরে
পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত
হওয়ার পর সারা দেশে
শোকের ছায়া নেমে এলেও
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি।
মারুফ
তার জবানবন্দিতে সুনির্দিষ্টভাবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ আরাফাত ও
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক
মেয়র শেখ ফজলে নূর
তাপসের নাম উল্লেখ করে
বলেন, তারা আবু সাঈদের
মৃত্যু নিয়ে অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য
করেছিলেন। এছাড়া ওবায়দুল কাদেরের উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন দিয়ে মাঠে সক্রিয়
ছিলেন বাহাউদ্দিন নাছিম।
আন্দোলনের
দিনগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর কীভাবে সশস্ত্র
হামলা চালানো হয়েছিল, তার বর্ণনা দিতে
গিয়ে সাক্ষী বলেন, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস
পরশ ও সাধারণ সম্পাদক
মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সরাসরি
নেতৃত্বে ক্যাডারদের রাজপথে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখেছি।
৫ আগস্ট রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের দিকে
যাওয়ার সময় স্বচ্ছ টাওয়ারের
সামনে আমাদের ওপর বৃষ্টির মতো
গুলি চালানো হয়। আওয়ামী লীগ,
যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল
আমাদের ওপর। তখন রুবেল
নামের একজনকে দুই হাতে গুলি
ছুড়তে দেখি। পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের
সম্মিলিত হামলায় ওই দিন অনেক
সহযোদ্ধা রক্তাক্ত হয়েছেন।
নিজের
শরীর বয়ে বেড়ানো যন্ত্রণার
কথা জানিয়ে মারুফ বলেন, ওই দিন একটি
গুলি আমার ডান হাতের
কব্জির ওপর দিয়ে ঢুকে
অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে
যায়। গলিপথ দিয়ে রিকশায় করে
হাসপাতালে যাওয়ার সময় দেখি মাথায়
গুলিবিদ্ধ আলী রায়হানকে নিয়ে
যাওয়া হচ্ছে। এরপর দফায় দফায়
অস্ত্রোপচার হয়েছে, কিন্তু আমার ডান হাতটি
এখন প্রায় অচল। আমি স্বাভাবিকভাবে
কোনো কাজ করতে পারি
না। ওই দিনের হামলায়
সাকিব আঞ্জুম শহীদ হন এবং
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলী রায়হানও মারা
যান। আমি এই নৃশংস
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এবং পলাতক সাত
আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এর আগে,
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল
কাদেরসহ সাতজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে বিচার চলছে, যারা বর্তমানে পলাতক
রয়েছেন। আদালত আগামী ১৯ এপ্রিল তদন্ত
কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
আজকের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬
শহীদ আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে তৎকালীন তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের চরম অবমাননাকর মন্তব্য এবং যুবলীগ নেতাদের নেতৃত্বে অস্ত্র নিয়ে রাজপথে মহড়া দেওয়ার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
জুলাই
গণঅভ্যুত্থানের ভয়াল দিনগুলোতে আওয়ামী
লীগ ও তার সহযোগী
সংগঠনগুলোর তাণ্ডব এবং উসকানিমূলক বক্তব্যের
সবিস্তার বর্ণনা দিয়েছেন গুলিবিদ্ধ আন্দোলনকারী মারুফ আল হাসান। বৃহস্পতিবার
ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক
প্যানেলে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি এসব চাঞ্চল্যকর
তথ্য উপস্থাপন করেন।
আদালতে
সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ২৭
বছর বয়সী মারুফ আল
হাসান বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে
যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন তীব্র হয়ে ওঠে, তখন
থেকেই আমি এর সঙ্গে
যুক্ত ছিলাম। ১৬ জুলাই রংপুরে
পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত
হওয়ার পর সারা দেশে
শোকের ছায়া নেমে এলেও
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তা নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি।
মারুফ
তার জবানবন্দিতে সুনির্দিষ্টভাবে সাবেক প্রতিমন্ত্রী এ আরাফাত ও
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক
মেয়র শেখ ফজলে নূর
তাপসের নাম উল্লেখ করে
বলেন, তারা আবু সাঈদের
মৃত্যু নিয়ে অত্যন্ত তুচ্ছতাচ্ছিল্য
করেছিলেন। এছাড়া ওবায়দুল কাদেরের উসকানিমূলক বক্তব্যকে সমর্থন দিয়ে মাঠে সক্রিয়
ছিলেন বাহাউদ্দিন নাছিম।
আন্দোলনের
দিনগুলোতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর কীভাবে সশস্ত্র
হামলা চালানো হয়েছিল, তার বর্ণনা দিতে
গিয়ে সাক্ষী বলেন, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস
পরশ ও সাধারণ সম্পাদক
মাইনুল হোসেন খান নিখিলের সরাসরি
নেতৃত্বে ক্যাডারদের রাজপথে অস্ত্রের মহড়া দিতে দেখেছি।
৫ আগস্ট রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টের দিকে
যাওয়ার সময় স্বচ্ছ টাওয়ারের
সামনে আমাদের ওপর বৃষ্টির মতো
গুলি চালানো হয়। আওয়ামী লীগ,
যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা
আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল
আমাদের ওপর। তখন রুবেল
নামের একজনকে দুই হাতে গুলি
ছুড়তে দেখি। পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের
সম্মিলিত হামলায় ওই দিন অনেক
সহযোদ্ধা রক্তাক্ত হয়েছেন।
নিজের
শরীর বয়ে বেড়ানো যন্ত্রণার
কথা জানিয়ে মারুফ বলেন, ওই দিন একটি
গুলি আমার ডান হাতের
কব্জির ওপর দিয়ে ঢুকে
অন্য পাশ দিয়ে বেরিয়ে
যায়। গলিপথ দিয়ে রিকশায় করে
হাসপাতালে যাওয়ার সময় দেখি মাথায়
গুলিবিদ্ধ আলী রায়হানকে নিয়ে
যাওয়া হচ্ছে। এরপর দফায় দফায়
অস্ত্রোপচার হয়েছে, কিন্তু আমার ডান হাতটি
এখন প্রায় অচল। আমি স্বাভাবিকভাবে
কোনো কাজ করতে পারি
না। ওই দিনের হামলায়
সাকিব আঞ্জুম শহীদ হন এবং
পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলী রায়হানও মারা
যান। আমি এই নৃশংস
হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের এবং পলাতক সাত
আসামির সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এর আগে,
মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল
কাদেরসহ সাতজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে বিচার চলছে, যারা বর্তমানে পলাতক
রয়েছেন। আদালত আগামী ১৯ এপ্রিল তদন্ত
কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণের দিন ধার্য করেছেন।
আজকের শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে অ্যাডভোকেট ফারুক আহাম্মদসহ অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন