সংবাদ

স্ত্রীর অক্ষমতায় তালাক, দ্বিতীয় বিয়েতে তুলকালাম


প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম

স্ত্রীর অক্ষমতায় তালাক, দ্বিতীয় বিয়েতে তুলকালাম
নারী-পুরুষে মারামারিতে রণক্ষেত্র বরের বাড়ি। ছবি: প্রতিনিধি

একদিকে বরের বাড়ি, প্রস্তুতি চলছে দ্বিতীয় বিয়ের। অন্যদিকে হাজির প্রথম স্ত্রী ও তার পরিবার। কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতি, শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক বিয়েবাড়ির এই ঘটনা শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। গুরুতর আহত এক যুবককে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের। বরের নাম মহিম উদ্দিন রুবেল। তার বাবা রফিকুল ইসলাম গাজী। গ্রামের বাড়ি চরমথুরায়।

২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয় রুবেলের। বিয়ে করেন দক্ষিণ চরবড়ালি গ্রামের আবদুস ছোবহানের মেয়ে রিমা আক্তারকে।

বিয়ের পরপরই রুবেল চলে যান প্রবাসে। ফিরে আসেন কয়েক মাস আগে। এর কিছু দিনের মধ্যেই তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী শারীরিকভাবে অক্ষম। যে কারণে তিনি স্ত্রীকে বাবার বাড়ি রেখে আসেন। এরপর আর খোঁজ নেননি।

গত ৩ মার্চ রুবেল একটি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে রিমাকে তালাক দেন। কিন্তু রিমার দাবি, এ তালাক আইনসম্মত নয় এবং তাকে কিছু জানানো হয়নি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রুবেলের দ্বিতীয় বিয়ের দিন ঠিক হয়। সংবাদ পেয়ে রিমা ও তার পরিবারের সদস্যরা রুবেলের বাড়িতে আসেন। লক্ষ্য ছিল আলোচনা করা।

কিন্তু সেখানে গিয়েই শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। মারামারি ঘরের ভেতর থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে রুবেলের বাড়ি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন রিমা আক্তার, তার মা কহিনুর বেগম, ভাই সাইফুল ইসলাম, খালাত ভাই রাব্বি ও খালা সাহিনুর বেগম। বরপক্ষের কয়েকজনও আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে প্রথমে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

রিমা অভিযোগ দিয়ে বলেন, “আমার স্বামী ৪-৫ মাস আগে দেশে ফিরে আমাকে বাবার বাড়ি রেখে আসেন। এরপর আর খোঁজ নেননি। শুনেছি তিনি আমাকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছেন- যা ঠিক নয়। আজ (শনিবার) তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করবেন, আমাকে কিছু জানাননি। আমরা এলে তার পরিবার আমাদের ওপর হামলা চালায়।”

দুই পরিবারের মারামারিতে আহত অন্তত ৭ জন।

অন্যদিকে, রুবেলের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, “রিমা শারীরিকভাবে অক্ষম। তাই আমি গত ৩ মার্চ নোটারির মাধ্যমে তালাক দিয়েছি। আজ আমি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য রওনা হওয়ার মুহূর্তে রিমা ও তার পরিবার এসে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন।”

সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেননি। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় যে কোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


স্ত্রীর অক্ষমতায় তালাক, দ্বিতীয় বিয়েতে তুলকালাম

প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

একদিকে বরের বাড়ি, প্রস্তুতি চলছে দ্বিতীয় বিয়ের। অন্যদিকে হাজির প্রথম স্ত্রী ও তার পরিবার। কথাকাটাকাটি থেকে হাতাহাতি, শেষ পর্যন্ত রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে এক বিয়েবাড়ির এই ঘটনা শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।

আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন। গুরুতর আহত এক যুবককে ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

ঘটনাটি ফরিদগঞ্জ উপজেলার গোবিন্দপুর উত্তর ইউনিয়নের চরমথুরা গ্রামের। বরের নাম মহিম উদ্দিন রুবেল। তার বাবা রফিকুল ইসলাম গাজী। গ্রামের বাড়ি চরমথুরায়।

২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিয়ে হয় রুবেলের। বিয়ে করেন দক্ষিণ চরবড়ালি গ্রামের আবদুস ছোবহানের মেয়ে রিমা আক্তারকে।

বিয়ের পরপরই রুবেল চলে যান প্রবাসে। ফিরে আসেন কয়েক মাস আগে। এর কিছু দিনের মধ্যেই তিনি অভিযোগ করেন, তার স্ত্রী শারীরিকভাবে অক্ষম। যে কারণে তিনি স্ত্রীকে বাবার বাড়ি রেখে আসেন। এরপর আর খোঁজ নেননি।

গত ৩ মার্চ রুবেল একটি নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে রিমাকে তালাক দেন। কিন্তু রিমার দাবি, এ তালাক আইনসম্মত নয় এবং তাকে কিছু জানানো হয়নি।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রুবেলের দ্বিতীয় বিয়ের দিন ঠিক হয়। সংবাদ পেয়ে রিমা ও তার পরিবারের সদস্যরা রুবেলের বাড়িতে আসেন। লক্ষ্য ছিল আলোচনা করা।

কিন্তু সেখানে গিয়েই শুরু হয় বাকবিতণ্ডা। মুহূর্তের মধ্যে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। মারামারি ঘরের ভেতর থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। দুই পক্ষের লোকজন একে অপরের ওপর চড়াও হন। এক পর্যায়ে রুবেলের বাড়ি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন রিমা আক্তার, তার মা কহিনুর বেগম, ভাই সাইফুল ইসলাম, খালাত ভাই রাব্বি ও খালা সাহিনুর বেগম। বরপক্ষের কয়েকজনও আহত হয়েছেন।

গুরুতর আহত সাইফুল ইসলামকে প্রথমে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়।

রিমা অভিযোগ দিয়ে বলেন, “আমার স্বামী ৪-৫ মাস আগে দেশে ফিরে আমাকে বাবার বাড়ি রেখে আসেন। এরপর আর খোঁজ নেননি। শুনেছি তিনি আমাকে কোর্টের মাধ্যমে তালাক দিয়েছেন- যা ঠিক নয়। আজ (শনিবার) তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করবেন, আমাকে কিছু জানাননি। আমরা এলে তার পরিবার আমাদের ওপর হামলা চালায়।”

দুই পরিবারের মারামারিতে আহত অন্তত ৭ জন।

অন্যদিকে, রুবেলের বক্তব্য ভিন্ন। তিনি বলেন, “রিমা শারীরিকভাবে অক্ষম। তাই আমি গত ৩ মার্চ নোটারির মাধ্যমে তালাক দিয়েছি। আজ আমি দ্বিতীয় বিয়ের জন্য রওনা হওয়ার মুহূর্তে রিমা ও তার পরিবার এসে আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। আমাদের কয়েকজন আহত হয়েছেন।”

সংবাদ পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। এখন পর্যন্ত কেউ মামলা করেননি। তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত থাকায় যে কোনো সময় নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত