লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শয্যাসঙ্কট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় হাম ও ডায়রিয়ার মতো ভিন্নধর্মী সংক্রামক রোগের রোগীদের একই ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এতে এক রোগীর শরীর থেকে অন্য রোগীর শরীরে রোগ ছড়িয়ে পড়ার চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। ইনডোরে শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝে ও করিডোরে শুয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, জায়গার অভাবে অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ হামের রোগীদের পাশে রাখা হয়েছে ডায়রিয়া ও অন্যান্য সাধারণ রোগীদের। এতে সাধারণ রোগীরা নতুন করে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন।
হাসপাতালের অব্যবস্থাপনার চিত্র এখানেই শেষ নয়। গত ১৬ এপ্রিল দুপুরে দেখা গেছে, জরুরি বিভাগে এক সংকটাপন্ন রোগী প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসকের দেখা পাননি। পরে অনুসন্ধানে জানা যায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হাসপাতালে না থেকে পাশের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখছিলেন। ওই সময় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ছুটিতে থাকায় তদারকিতেও চরম শিথিলতা দেখা গেছে।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে নার্স ও আয়াদের সংকট থাকায় সেবার মান খুবই নাজুক। এছাড়া জেনারেটরের জ্বালানি সংকটের অজুহাতে লোডশেডিংয়ের সময় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে থাকে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ভর্তি থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, ‘প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় এক হাজার রোগী আসেন। চিকিৎসক ও নার্সদের যে জনবল আছে, তা দিয়ে এই বিপুলসংখ্যক রোগীকে মানসম্মত সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ডিউটি চলাকালীন কোনো চিকিৎসকের বাইরে রোগী দেখার সুযোগ নেই। শয্যাসঙ্কট ও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।’
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবুল হাসান শাহীন বলেন, ‘কমলনগর হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও জনবলসংকটের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষ করে সংক্রামক ব্যাধির রোগীদের পৃথক রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
আপনার মতামত লিখুন