প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র বিরুদ্ধে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। দেশের প্রায় ৭০০ জন বিশিষ্ট নাগরিক যাঁদের মধ্যে প্রাক্তন আমলা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা রয়েছেন এই অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর কাছে লিখিতভাবে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গত ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর জাতির
উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ। অভিযোগকারীদের দাবি, দূরদর্শন , সংসদ টিভি এবং অল ইন্ডিয়া রেডিও-র
মতো সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে সেই ভাষণ প্রচার করা হয়, যেখানে বিরোধী রাজনৈতিক
দলগুলির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের মতে, নির্বাচনী আচরণবিধি
বলবৎ থাকাকালীন এই ধরনের ভাষণ স্পষ্টভাবেই নিয়মভঙ্গের শামিল।
এই বিতর্কের সূত্রপাত কেন্দ্র সরকারের আনা মহিলা সংরক্ষণ
সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পর। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, পরদিনের
ভাষণে বিলের গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশেষ করে আসন পুনর্বিন্যাসের মতো বিষয় এড়িয়ে গিয়ে বিরোধী
দলগুলিকে ‘মহিলা বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। বিশেষত ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল
কংগ্রেস এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-কে নিশানা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
এর আগেই এই একই ইস্যুতে সরব হয়েছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
বামপন্থী দলগুলিও চিঠি দিয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে
নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাজনৈতিক
বার্তা দেওয়া সম্পূর্ণ অনুচিত।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর
প্রায় আধঘণ্টার ভাষণে একাধিকবার কংগ্রেসকে নিশানা করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস
নেতারাও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবার সেই অভিযোগেই
নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিশিষ্ট নাগরিকদের এক বৃহৎ অংশ।
এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও
তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হুগলির তারকেশ্বরের জনসভা থেকে তিনি এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের
অপব্যবহার’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের দলের স্বার্থে বেআইনি প্রচার
চালাচ্ছেন।
তবে অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি ।
বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছিল সম্পূর্ণ নীতিগত ও বিষয়ভিত্তিক, যেখানে দেশের
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে। বিরোধীদের সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ
বলেই দাবি তাদের। পাশাপাশি, সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করাও নিয়মবিরুদ্ধ নয় বলে
স্পষ্ট করেছে শাসকদল।
এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা
কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই নির্ধারণ করবে এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ।

মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র বিরুদ্ধে আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। দেশের প্রায় ৭০০ জন বিশিষ্ট নাগরিক যাঁদের মধ্যে প্রাক্তন আমলা, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মীরা রয়েছেন এই অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-এর কাছে লিখিতভাবে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে গত ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর জাতির
উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ। অভিযোগকারীদের দাবি, দূরদর্শন , সংসদ টিভি এবং অল ইন্ডিয়া রেডিও-র
মতো সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করে সেই ভাষণ প্রচার করা হয়, যেখানে বিরোধী রাজনৈতিক
দলগুলির বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ শানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁদের মতে, নির্বাচনী আচরণবিধি
বলবৎ থাকাকালীন এই ধরনের ভাষণ স্পষ্টভাবেই নিয়মভঙ্গের শামিল।
এই বিতর্কের সূত্রপাত কেন্দ্র সরকারের আনা মহিলা সংরক্ষণ
সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল খারিজ হয়ে যাওয়ার পর। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, পরদিনের
ভাষণে বিলের গুরুত্বপূর্ণ দিক বিশেষ করে আসন পুনর্বিন্যাসের মতো বিষয় এড়িয়ে গিয়ে বিরোধী
দলগুলিকে ‘মহিলা বিরোধী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। বিশেষত ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল
কংগ্রেস এবং অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস-কে নিশানা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
এর আগেই এই একই ইস্যুতে সরব হয়েছিল বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি।
বামপন্থী দলগুলিও চিঠি দিয়ে কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুতে
নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর থাকা অবস্থায় সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাজনৈতিক
বার্তা দেওয়া সম্পূর্ণ অনুচিত।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর
প্রায় আধঘণ্টার ভাষণে একাধিকবার কংগ্রেসকে নিশানা করা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের কংগ্রেস
নেতারাও এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে পৃথকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। এবার সেই অভিযোগেই
নতুন মাত্রা যোগ করলেন বিশিষ্ট নাগরিকদের এক বৃহৎ অংশ।
এই প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীও
তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। হুগলির তারকেশ্বরের জনসভা থেকে তিনি এই ঘটনাকে ‘রাষ্ট্রযন্ত্রের
অপব্যবহার’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজের দলের স্বার্থে বেআইনি প্রচার
চালাচ্ছেন।
তবে অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি ।
বিজেপির বক্তব্য, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ ছিল সম্পূর্ণ নীতিগত ও বিষয়ভিত্তিক, যেখানে দেশের
গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু তুলে ধরা হয়েছে। বিরোধীদের সমালোচনা করা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ
বলেই দাবি তাদের। পাশাপাশি, সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ব্যবহার করাও নিয়মবিরুদ্ধ নয় বলে
স্পষ্ট করেছে শাসকদল।
এখন নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা
কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই নির্ধারণ করবে এই বিতর্কের পরবর্তী গতিপথ।

আপনার মতামত লিখুন