এপ্রিলের শেষ দিক। অগ্রহায়ণের হালকা শীতের স্মৃতি মুছে ফেলতে সূর্য এখন পূর্ণ শক্তিতে জ্বলে উঠেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দেশের ২৪টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ।
রাজশাহীতে এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদেরা বার্তা দিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের এই আওতা আরও বাড়তে পারে। প্রচণ্ড গরম ও তীব্র রোদে জনজীবন রীতিমতো অতিষ্ঠ। গরমের তীব্রতায় সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। যাদের কাজের জন্য ঘর থেকে বেরোতে হয়, তাদের অবস্থা আরও করুণ।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত রেকর্ড অনুযায়ী খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে তাপপ্রবাহ বইছে। এর বাইরে ঢাকা, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায়ও তাপপ্রবাহের প্রভাব রয়েছে।
এদিন, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। খুলনার যশোরে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে।সন্ধ্যা ৬টার পর আরও দুই-এক জেলায় তাপপ্রবাহের তথ্য আসতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
তথ্যমতে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) পর্যন্ত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে, তাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের এপ্রিল মাস হয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর। ২০২৪ সালের এপ্রিলে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। ১৯৪৮ সাল থেকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তাপপ্রবাহ সবচেয়ে বেশি দিন স্থায়ী হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৩১ মার্চ থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে। সে বছর ১৪টি জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়।সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে- ৪৩.৮ ডিগ্রি, যা ১৯৮৯ সালের পর সর্বোচ্চ।
তখন প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা তাপপ্রবাহের আওতায় ছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে সারা দেশের ৩২ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে স্কুল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় সরকার। ১৯ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ৬২ জনের মৃত্যু হয় তাপজনিত কারণে।
তবে চলতি বছর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, গত তিন বছর বাংলাদেশে এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম হয়েছে। তার তুলনায় এ বছরের আবহাওয়া বেশ সহনীয়।
বাংলাদেশের আবহাওয়া ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম দিনটি ছিল ১৯৭২ সালের ১৮ মে, তখন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকার ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল- ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি। ২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি, যা ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বারবার তাপের রেকর্ড গড়েছে। ২০১৪ সালের ২১ মে সেখানে তাপমাত্রা হয়েছিল ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি, যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঢাকা ও অন্যান্য শহরে বাড়তি নির্মাণ, গাছপালা কমে যাওয়া ও যানবাহনের দূষণের কারণেও তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। শহরগুলো ‘হিট আইল্যান্ডে’ পরিণত হচ্ছে, যেখানে আশপাশের গ্রামের চেয়ে তাপমাত্রা ৩-৫ ডিগ্রি বেশি থাকে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ প্রতিবছরই আগের চেয়ে বেশি তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হচ্ছে। চলতি বছর স্বস্তির হলেও, আগামী বছরগুলো আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
এপ্রিলের শেষ দিক। অগ্রহায়ণের হালকা শীতের স্মৃতি মুছে ফেলতে সূর্য এখন পূর্ণ শক্তিতে জ্বলে উঠেছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) দেশের ২৪টি জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ।
রাজশাহীতে এদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঢাকায় রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়াবিদেরা বার্তা দিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের এই আওতা আরও বাড়তে পারে। প্রচণ্ড গরম ও তীব্র রোদে জনজীবন রীতিমতো অতিষ্ঠ। গরমের তীব্রতায় সাধারণ মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। যাদের কাজের জন্য ঘর থেকে বেরোতে হয়, তাদের অবস্থা আরও করুণ।
আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক জানান, বুধবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত রেকর্ড অনুযায়ী খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে তাপপ্রবাহ বইছে। এর বাইরে ঢাকা, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, মাদারীপুর, রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলায়ও তাপপ্রবাহের প্রভাব রয়েছে।
এদিন, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। খুলনার যশোরে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে।সন্ধ্যা ৬টার পর আরও দুই-এক জেলায় তাপপ্রবাহের তথ্য আসতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
তথ্যমতে, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) পর্যন্ত তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার থেকে বৃষ্টিপাত শুরু হতে পারে, তাতে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে।
গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশের এপ্রিল মাস হয়ে উঠেছে ভয়ঙ্কর। ২০২৪ সালের এপ্রিলে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। ১৯৪৮ সাল থেকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তাপপ্রবাহ সবচেয়ে বেশি দিন স্থায়ী হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৩১ মার্চ থেকে তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে। সে বছর ১৪টি জেলায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়।সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যশোরে- ৪৩.৮ ডিগ্রি, যা ১৯৮৯ সালের পর সর্বোচ্চ।
তখন প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা তাপপ্রবাহের আওতায় ছিল। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে সারা দেশের ৩২ মিলিয়ন শিক্ষার্থীকে স্কুল বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় সরকার। ১৯ এপ্রিল থেকে ২৮ এপ্রিলের মধ্যে অন্তত ৬২ জনের মৃত্যু হয় তাপজনিত কারণে।
তবে চলতি বছর আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, গত তিন বছর বাংলাদেশে এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্ম হয়েছে। তার তুলনায় এ বছরের আবহাওয়া বেশ সহনীয়।
বাংলাদেশের আবহাওয়া ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম দিনটি ছিল ১৯৭২ সালের ১৮ মে, তখন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
ঢাকার ইতিহাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৯৬০ সালের ৩০ এপ্রিল- ৪২ দশমিক ৩ ডিগ্রি। ২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি, যা ৫৮ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বারবার তাপের রেকর্ড গড়েছে। ২০১৪ সালের ২১ মে সেখানে তাপমাত্রা হয়েছিল ৪৩ দশমিক ২ ডিগ্রি, যা দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ঢাকা ও অন্যান্য শহরে বাড়তি নির্মাণ, গাছপালা কমে যাওয়া ও যানবাহনের দূষণের কারণেও তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। শহরগুলো ‘হিট আইল্যান্ডে’ পরিণত হচ্ছে, যেখানে আশপাশের গ্রামের চেয়ে তাপমাত্রা ৩-৫ ডিগ্রি বেশি থাকে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ প্রতিবছরই আগের চেয়ে বেশি তাপপ্রবাহের সম্মুখীন হচ্ছে। চলতি বছর স্বস্তির হলেও, আগামী বছরগুলো আবারও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন