সংবাদ

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বিরোধী দলের যৌথ কমিটি, সংসদে ঐক্যের ডাক


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৩ পিএম

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বিরোধী দলের যৌথ কমিটি, সংসদে ঐক্যের ডাক

  • কমিটির পরামর্শগুলো গুরুত্বের সাথে কার্যকর করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
  • সংসদই হবে জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু: বিরোধীদলীয় নেতা
  • সংকট নেই বলা চলবে না, আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক কারণ, বিএনপির ব্যর্থতা নয়: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রিজভী
  • কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করতে ঢাকায় লোডশেডিং হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে এক সাথে কাজ করতে চায় সরকার ও বিরোধী দল। সংকটের সমাধান খুঁজতে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদ।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি দলের ৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করে বিরোধী দলকেও সমসংখ্যক সদস্যের নাম দেওয়ার আহ্বান জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধী দল।

জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গঠিত এই কমিটির প্রধান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সরকারি দলের অন্য চার সদস্য হলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (লক্ষ্মীপুর-৪), মইনুল ইসলাম খান শান্ত (মানিকগঞ্জ-২) ও মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু (শরীয়তপুর-৩)।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কমিটি জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে এবং তাদের দেওয়া বাস্তবসম্মত পরামর্শগুলো সরকার গুরুত্বের সাথে কার্যকর করবে। বিরোধী দল তাদের ৫ সদস্যের নাম দ্রুত জমা দিলেই কমিটি পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরু করবে।

বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি ‘কমন কমিটি’ বা যৌথ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাবে সাড়া দিলে বিরোধীদলীয় নেতা একে ইতিবাচকভাবে নিয়ে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সংসদই হবে জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের এই সহযোগিতার বার্তায় জনগণের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে।

ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমান সংকট বিগত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ অব্যবস্থাপনার ফল।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, গতকাল (বুধবার) সর্বোচ্চ ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪,১২৬.৩৫ মেগাওয়াট, ফলে ২,০৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২,৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট, অর্থাৎ ঘাটতি থাকছে ১,১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য একটি কয়লাভিত্তিক ও একটি আমদানিকৃত পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সংকট মোকাবিলায় তৎপর হওয়ার আহ্বান

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে আরও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘সংকট মোকাবেলা করতে সরকারকে আরো তৎপর হতে হবে। বিদ্যুৎমন্ত্রীকে আরো তৎপর হতে হবে। গরম মোকাবিলা করার জন্য, সারাদেশে যে তাপপ্রবাহ চলছে সেটা মোকাবিলা করার জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানির দাম বেড়েছে এটা খুবই ন্যাচারাল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু এমপি-মন্ত্রী পার্লামেন্টে বলেছেন এটাকে সংকট বলা যাবে না, যেটা সত্য সেটা বলুন।’

তিনি বলেন, ‘সংকট নেই বলা চলবে না। তবে এই সংকট যে আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক কারণে তৈরি হয়েছে তা জনগনকে বুঝাতে হবে।’

এটি বিএনপির ব্যর্থতা নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে নানা কারণে এটা হয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে যুদ্ধের কারণে। এই সংকট মোকাবিলায় মন্ত্রীদের আরও তীক্ষ্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি-বিরোধী দলের যৌথ কমিটি, সংসদে ঐক্যের ডাক

প্রকাশের তারিখ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

  • কমিটির পরামর্শগুলো গুরুত্বের সাথে কার্যকর করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
  • সংসদই হবে জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু: বিরোধীদলীয় নেতা
  • সংকট নেই বলা চলবে না, আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক কারণ, বিএনপির ব্যর্থতা নয়: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রিজভী
  • কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করতে ঢাকায় লোডশেডিং হবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে এক সাথে কাজ করতে চায় সরকার ও বিরোধী দল। সংকটের সমাধান খুঁজতে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় সংসদ।

বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি দলের ৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করে বিরোধী দলকেও সমসংখ্যক সদস্যের নাম দেওয়ার আহ্বান জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে বিরোধী দল।

জ্বালানি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় গঠিত এই কমিটির প্রধান হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম। প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সরকারি দলের অন্য চার সদস্য হলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (লক্ষ্মীপুর-৪), মইনুল ইসলাম খান শান্ত (মানিকগঞ্জ-২) ও মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু (শরীয়তপুর-৩)।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কমিটি জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে এবং তাদের দেওয়া বাস্তবসম্মত পরামর্শগুলো সরকার গুরুত্বের সাথে কার্যকর করবে। বিরোধী দল তাদের ৫ সদস্যের নাম দ্রুত জমা দিলেই কমিটি পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ শুরু করবে।

বুধবার বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান জ্বালানি সংকট নিরসনে একটি ‘কমন কমিটি’ বা যৌথ আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী সেই প্রস্তাবে সাড়া দিলে বিরোধীদলীয় নেতা একে ইতিবাচকভাবে নিয়ে ধন্যবাদ জানান।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই সংসদই হবে জাতীয় সকল সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের এই সহযোগিতার বার্তায় জনগণের মনে আশার সঞ্চার হয়েছে।

ঢাকায় পরীক্ষামূলক লোডশেডিং ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি

অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, কৃষি খাতে সেচ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং শহর-গ্রামের বৈষম্য দূর করতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমান সংকট বিগত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের’ অব্যবস্থাপনার ফল।

বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, গতকাল (বুধবার) সর্বোচ্চ ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪,১২৬.৩৫ মেগাওয়াট, ফলে ২,০৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। এছাড়া প্রতিদিন ৩,৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা যাচ্ছে ২,৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট, অর্থাৎ ঘাটতি থাকছে ১,১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য একটি কয়লাভিত্তিক ও একটি আমদানিকৃত পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আগামী সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি সহনীয় পর্যায়ে আসবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

সংকট মোকাবিলায় তৎপর হওয়ার আহ্বান

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে আরও তৎপর হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘সংকট মোকাবেলা করতে সরকারকে আরো তৎপর হতে হবে। বিদ্যুৎমন্ত্রীকে আরো তৎপর হতে হবে। গরম মোকাবিলা করার জন্য, সারাদেশে যে তাপপ্রবাহ চলছে সেটা মোকাবিলা করার জন্য বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’ বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানির দাম বেড়েছে এটা খুবই ন্যাচারাল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘কিছু এমপি-মন্ত্রী পার্লামেন্টে বলেছেন এটাকে সংকট বলা যাবে না, যেটা সত্য সেটা বলুন।’

তিনি বলেন, ‘সংকট নেই বলা চলবে না। তবে এই সংকট যে আন্তর্জাতিক ও বৈশ্বিক কারণে তৈরি হয়েছে তা জনগনকে বুঝাতে হবে।’

এটি বিএনপির ব্যর্থতা নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘দেশের জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে নানা কারণে এটা হয়েছে, কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে যুদ্ধের কারণে। এই সংকট মোকাবিলায় মন্ত্রীদের আরও তীক্ষ্ণ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত