সংবাদ

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই


তরিকুল ইসলাম
তরিকুল ইসলাম
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই

বর্তমানে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বা রোডক্র্যাশ নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে নির্বিবাদে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তারপরও নেই সঠিক ব্যবস্থাপনা বা জনসচেতনতা। বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থা আজও আন্তর্জাতিক মানের হয়ে না ওঠার কারণে দুর্ঘটনার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই রোডক্র্যাশ বিষয়ক তথ্য শুধু একটি ডেটা নয়, এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে এই সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণ করতে হবে। রোডক্র্যাশ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যের মানহীনতা ও উপযুক্ত সমস্বয়ের অভাব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, প্রতি বছর বাংলাদেশে রোডক্র্যাশে ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বিআরটিএর হিসাব মতে, প্রতিবছর দেশে গড়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ মারা যায় ও ১০ হাজারের বেশি বিভিন্ন মাত্রায় আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে। বিআরটিএর তথ্যানুসারে, রোডক্র্যাশে ২০২৫ সালে দেশে ৫ হাজার ৪৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে দেশের সড়কে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে গত বছর।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা রোডক্র্যাশকে প্রতিরোধযোগ্য একটি অসংক্রামক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংবিধানের ১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এছাড়াও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.৬ অর্জনে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রোডক্র্যাশে প্রাণহানির সংখ্যা ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনার তাগিদ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়েও ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘভুক্ত সদস্য দেশগুলো বিশ্বব্যাপী রোডক্র্যাশে নিহত ও আহতের সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ কমিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য গ্লোবাল প্ল্যান ফর সেকেন্ড ডিকেড অব অ্যাকশন ফর রোড সেফটি ২০২১-২০৩০ এর আওতায় ৫টি স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো- বহুমুখী যানবাহন ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার, রোডক্র্যাশ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়াও সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য ৫টি আচরণগত ঝুঁকি যেমন, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ না করা, সিট বেল্ট ব্যবহার না করা, মানসম্মত হেলমেট পরিধান না করা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং শিশুবান্ধব বিশেষায়িত আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ২০১০ থেকে ২০২১ সালে বেলারুশ, ব্রুনাই দারুসসালাম, ডেনমার্ক, জাপান, লিথুয়ানিয়া, নরওয়ে, রাশিয়ান ফেডারেশন, ত্রিনিদাদ, টোবাগো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভেনিজুয়েলা রোডক্র্যাশে মৃত্যু হার ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

দেশে রোডক্র্যাশরোধে চালকদের সচেতনতা, কঠোর আইন প্রয়োগ, যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত যানবাহন এবং সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। প্রধান কার্যকর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে গতিরোধক মানা, মাদক বা ক্লান্তি অবস্থায় গাড়ি না চালানো, হেলমেট, সিটবেল্ট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলা।

রোডক্র্যাশ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপসমূহ:

১. চালক ও যাত্রী সচেতনতা:

গতি নিয়ন্ত্রণ: নির্ধারিত গতির মধ্যে গাড়ি চালানো, কারণ দ্রুতগতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন: মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় (মদ্যপ/ড্রাগ) গাড়ি চালানো বন্ধ করা।

ক্লান্তি দূর করা: দীর্ঘসময় বিরতিহীন গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, প্রতি ২ ঘণ্টা পর বিশ্রাম নেওয়া।

নিরাপত্তা সরঞ্জাম: হেলমেট ও সিটবেল্টের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

২. যানবাহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা:

যান্ত্রিক পরীক্ষা: নিয়মিত গাড়ির ব্রেক, লাইট এবং টায়ার চেক করা।

ট্রাফিক আইন প্রয়োগ: ট্রাফিক সিগন্যাল ও নিয়ম মেনে চলা এবং ওভারটেকিং প্রবণতা কমানো।

সড়ক নিরাপত্তা: ত্রুটিপূর্ণ রাস্তা সংস্কার এবং ট্রাফিক চিহ্নের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

৩. প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ:

কঠোর আইনি পদক্ষেপ: আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া।

লাইসেন্স যাচাই: দক্ষ চালকদের হাতে লাইসেন্স প্রদান নিশ্চিত করা।

এছাড়াও সমস্বয়ের মাধ্যমে রোডক্র্যাশ প্রতিরোধ আন্দোলনকে আরও জোরদার করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। সড়ককে জনগণের জন্য নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি-২০২৩’ অনুযায়ী রোডক্র্যাশে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১০ লাখের অধিক মানুষ মারা যায়। যা প্রতি মিনিটে ২ জন ও প্রতিদিন ৩ হাজার ২০০ জনের বেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে, রোডক্র্যাশে ৫-২৯ বছর বয়সী শিশু এবং যুবকদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এবং সকল বয়সী মানুষের মৃত্যুর ১২তম কারণ। রোডক্র্যাশে সারা বিশ্বের যত মানুষের মৃত্যু হয় তার প্রায় সবই (৯২ শতাংশ) হয় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যু এবং ইনজুরির অন্যতম প্রধান কারণ রোডক্র্যাশ।

ওয়ার্ল্ড হেলথ র‌্যাংকিং অনুসারে, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত ১৮৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও তার সঠিক প্রয়োগ ব্যতীত দেশে রোডক্র্যাশ কমানো বা রোধ করা সম্ভব নয়। সঠিক আইন ও তার প্রয়োগের ফলে রোডক্র্যাশ, যা বর্তমানে একটি বড় সমস্যা, তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা যেতে পারে। তাই সবার জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’।

বাংলাদেশে বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ মূলত পরিবহন সংক্রান্ত আইন। তাই উল্লিখিত  বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে এই আইন ও বিধিমালা যথেষ্ট নয়। এজন্যই প্রয়োজন জাতিসংঘ প্রস্তাবিত বর্ণিত ৫টি স্তম্ভ এবং আচরণগত ঝুঁকির কারণসমূহ বিবেচনায় নিয়ে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

রোডক্র্যাশ প্রতিরোধে আমাদের আরও সোচ্চার হতে হবে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হলে প্রথমেই সড়কে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা উদঘাটন করে এর সমাধান করা প্রয়োজন। তাই সড়ককে নিরাপদ করতে আলাদা করে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা জরুরি। সড়ককে নিরাপদ করতে সবার একযোগে কাজ করতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের সচেতন হতে হবে।

[লেখক: অ্যাডভোকেসি অফিসার (কমিউনিকেশন), স্বাস্থ্য সেক্টর, ঢাকা আহছানিয়া মিশন]


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ চাই

প্রকাশের তারিখ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বর্তমানে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বা রোডক্র্যাশ নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে নির্বিবাদে প্রাণ হারাচ্ছে অসংখ্য মানুষ। তারপরও নেই সঠিক ব্যবস্থাপনা বা জনসচেতনতা। বাংলাদেশের সড়ক ব্যবস্থা আজও আন্তর্জাতিক মানের হয়ে না ওঠার কারণে দুর্ঘটনার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এই রোডক্র্যাশ বিষয়ক তথ্য শুধু একটি ডেটা নয়, এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি জাতির ভবিষ্যৎ জড়িত। তাই আন্তরিকতা ও মানবিকতার সঙ্গে এই সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ ও সংরক্ষণ করতে হবে। রোডক্র্যাশ সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্যের মানহীনতা ও উপযুক্ত সমস্বয়ের অভাব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাবে, প্রতি বছর বাংলাদেশে রোডক্র্যাশে ৩১ হাজার ৫৭৮ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে বিআরটিএর হিসাব মতে, প্রতিবছর দেশে গড়ে প্রায় ৫ হাজার মানুষ মারা যায় ও ১০ হাজারের বেশি বিভিন্ন মাত্রায় আহত এবং পঙ্গুত্ব বরণ করে। বিআরটিএর তথ্যানুসারে, রোডক্র্যাশে ২০২৫ সালে দেশে ৫ হাজার ৪৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে দেশের সড়কে সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে গত বছর।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা রোডক্র্যাশকে প্রতিরোধযোগ্য একটি অসংক্রামক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সংবিধানের ১৮ (১) অনুচ্ছেদ অনুসারে জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। এছাড়াও অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাতে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ৩.৬ অর্জনে ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে রোডক্র্যাশে প্রাণহানির সংখ্যা ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনার তাগিদ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যায়েও ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘভুক্ত সদস্য দেশগুলো বিশ্বব্যাপী রোডক্র্যাশে নিহত ও আহতের সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ কমিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য গ্লোবাল প্ল্যান ফর সেকেন্ড ডিকেড অব অ্যাকশন ফর রোড সেফটি ২০২১-২০৩০ এর আওতায় ৫টি স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো- বহুমুখী যানবাহন ও ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা, নিরাপদ যানবাহন, নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো, নিরাপদ সড়ক ব্যবহার, রোডক্র্যাশ পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়াও সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য ৫টি আচরণগত ঝুঁকি যেমন, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ না করা, সিট বেল্ট ব্যবহার না করা, মানসম্মত হেলমেট পরিধান না করা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং শিশুবান্ধব বিশেষায়িত আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা না করাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ২০১০ থেকে ২০২১ সালে বেলারুশ, ব্রুনাই দারুসসালাম, ডেনমার্ক, জাপান, লিথুয়ানিয়া, নরওয়ে, রাশিয়ান ফেডারেশন, ত্রিনিদাদ, টোবাগো, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ভেনিজুয়েলা রোডক্র্যাশে মৃত্যু হার ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

দেশে রোডক্র্যাশরোধে চালকদের সচেতনতা, কঠোর আইন প্রয়োগ, যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত যানবাহন এবং সড়ক পরিকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। প্রধান কার্যকর পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে গতিরোধক মানা, মাদক বা ক্লান্তি অবস্থায় গাড়ি না চালানো, হেলমেট, সিটবেল্ট ব্যবহার এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলা।

রোডক্র্যাশ রোধে কার্যকরী পদক্ষেপসমূহ:

১. চালক ও যাত্রী সচেতনতা:

গতি নিয়ন্ত্রণ: নির্ধারিত গতির মধ্যে গাড়ি চালানো, কারণ দ্রুতগতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন: মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বা নেশাগ্রস্থ অবস্থায় (মদ্যপ/ড্রাগ) গাড়ি চালানো বন্ধ করা।

ক্লান্তি দূর করা: দীর্ঘসময় বিরতিহীন গাড়ি চালানো থেকে বিরত থাকা, প্রতি ২ ঘণ্টা পর বিশ্রাম নেওয়া।

নিরাপত্তা সরঞ্জাম: হেলমেট ও সিটবেল্টের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

২. যানবাহন ও সড়ক ব্যবস্থাপনা:

যান্ত্রিক পরীক্ষা: নিয়মিত গাড়ির ব্রেক, লাইট এবং টায়ার চেক করা।

ট্রাফিক আইন প্রয়োগ: ট্রাফিক সিগন্যাল ও নিয়ম মেনে চলা এবং ওভারটেকিং প্রবণতা কমানো।

সড়ক নিরাপত্তা: ত্রুটিপূর্ণ রাস্তা সংস্কার এবং ট্রাফিক চিহ্নের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

৩. প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ:

কঠোর আইনি পদক্ষেপ: আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া।

লাইসেন্স যাচাই: দক্ষ চালকদের হাতে লাইসেন্স প্রদান নিশ্চিত করা।

এছাড়াও সমস্বয়ের মাধ্যমে রোডক্র্যাশ প্রতিরোধ আন্দোলনকে আরও জোরদার করে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব। সড়ককে জনগণের জন্য নিরাপদ করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি-২০২৩’ অনুযায়ী রোডক্র্যাশে বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর ১০ লাখের অধিক মানুষ মারা যায়। যা প্রতি মিনিটে ২ জন ও প্রতিদিন ৩ হাজার ২০০ জনের বেশি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয় যে, রোডক্র্যাশে ৫-২৯ বছর বয়সী শিশু এবং যুবকদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এবং সকল বয়সী মানুষের মৃত্যুর ১২তম কারণ। রোডক্র্যাশে সারা বিশ্বের যত মানুষের মৃত্যু হয় তার প্রায় সবই (৯২ শতাংশ) হয় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। বাংলাদেশে মানুষের মৃত্যু এবং ইনজুরির অন্যতম প্রধান কারণ রোডক্র্যাশ।

ওয়ার্ল্ড হেলথ র‌্যাংকিং অনুসারে, সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনাকবলিত ১৮৩টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও তার সঠিক প্রয়োগ ব্যতীত দেশে রোডক্র্যাশ কমানো বা রোধ করা সম্ভব নয়। সঠিক আইন ও তার প্রয়োগের ফলে রোডক্র্যাশ, যা বর্তমানে একটি বড় সমস্যা, তা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা যেতে পারে। তাই সবার জন্য প্রয়োজন একটি সমন্বিত ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’।

বাংলাদেশে বিদ্যমান সড়ক পরিবহন আইন- ২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা-২০২২ মূলত পরিবহন সংক্রান্ত আইন। তাই উল্লিখিত  বৈশ্বিক ও জাতীয় পর্যায়ে উদ্যোগসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নে এই আইন ও বিধিমালা যথেষ্ট নয়। এজন্যই প্রয়োজন জাতিসংঘ প্রস্তাবিত বর্ণিত ৫টি স্তম্ভ এবং আচরণগত ঝুঁকির কারণসমূহ বিবেচনায় নিয়ে ‘সড়ক নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

রোডক্র্যাশ প্রতিরোধে আমাদের আরও সোচ্চার হতে হবে। সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে হলে প্রথমেই সড়কে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা উদঘাটন করে এর সমাধান করা প্রয়োজন। তাই সড়ককে নিরাপদ করতে আলাদা করে সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা জরুরি। সড়ককে নিরাপদ করতে সবার একযোগে কাজ করতে হবে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকলের সচেতন হতে হবে।

[লেখক: অ্যাডভোকেসি অফিসার (কমিউনিকেশন), স্বাস্থ্য সেক্টর, ঢাকা আহছানিয়া মিশন]



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত