ঝিনাইদহ সদর উপজেলার একটি খালের ওপর নির্মিত ৪৫ বছরের পুরোনো একটি সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের যানবাহন চলাচল। ফলে সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। এতে বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারী ব্যক্তিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ও মহারাজপুর ইউনিয়নের সংযোগকারী একমাত্র রাস্তাটি হলো ‘বিষয়খালী জিসি-নগরবাথান জিসি ভায়া ডেফলবাড়ী’ সড়ক। প্রায় ৪৫ বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সড়কের ভবানীপুর-ডেফলবাড়ী এলাকায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) সেচ প্রকল্পের খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করেছিল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত বছরের প্রবল বৃষ্টির সময় পানির তোড়ে সেতুটি ভেঙে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাস পার হলেও সেতুটি পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্তমানে স্থানীয়দের উদ্যোগে সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়েছে। তবে সেই সাঁকোটিও এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা হাসমত বিশ্বাস বলেন, ‘নয় মাস আগে সেতু ভেঙে গেছে। আমরা বারবার বিভিন্ন দপ্তরে জানিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। সেতুটি না থাকায় এখন কৃষিপণ্য নিয়ে বাজারে যাওয়া বা যাতায়াত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
স্কুলছাত্র রাহাত হোসাইন জানায়, এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে বাইসাইকেল নিয়ে পার হতে খুব ভয় লাগে। সাঁকোটি যেকোনো সময় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এটি ভেঙে গেলে তাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে।
ট্রাকচালক আলফাজ আলী বলেন, এই সড়কটি দিয়ে দুটি ইউনিয়নের বাজারে পণ্য আনা-নেওয়া করা হতো। সেতুটি না থাকায় এখন দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সড়কে দুটি পুরোনো সেতুর একটি এরই মধ্যে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ভেঙে পড়া অন্য সেতুটি নির্মাণের জন্য দুটি পৃথক প্রকল্প প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শুরু হবে।
আপনার মতামত লিখুন