বাংলাদেশের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক খাতে ডাচ বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে তার নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কৌশলগত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) এবং টেকসই মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠককালে দেশের কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "বাংলাদেশের কৃষিখাতে উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে কোল্ড চেইন লজিস্টিকস, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নেদারল্যান্ডস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "বাংলাদেশের জন্য নদীভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারে ডাচ অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।"
প্রত্যুত্তরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, "আমরা অংশীদারিত্বমূলক বিনিয়োগ ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতায় আগ্রহী। বিশেষ করে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, বন্দর আধুনিকীকরণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।"
ডাচ কোম্পানিগুলোর আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "ডাচ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহী, তবে এ জন্য শক্তিশালী মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"
আলোচনায় কৃষি ও সামুদ্রিক খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারের স্বার্থে উত্তরণ-পূর্ব প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সভায় উঠে আসে।
এছাড়া ডাচ রাষ্ট্রদূত জানান, অদূর ভবিষ্যতে নেদারল্যান্ডসের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবেন, যা দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগে নতুন গতি আনবে। উভয় পক্ষই আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশের কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক খাতে ডাচ বিনিয়োগ এবং কারিগরি সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
সোমবার শিল্প মন্ত্রণালয়ে তার নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেলের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কৌশলগত সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (PPP) এবং টেকসই মূল্য শৃঙ্খল গড়ে তোলার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠককালে দেশের কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, "বাংলাদেশের কৃষিখাতে উৎপাদন বাড়লেও সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে কোল্ড চেইন লজিস্টিকস, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নেদারল্যান্ডস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।"
নদীমাতৃক বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, "বাংলাদেশের জন্য নদীভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধারে ডাচ অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।"
প্রত্যুত্তরে বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল বলেন, "আমরা অংশীদারিত্বমূলক বিনিয়োগ ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতায় আগ্রহী। বিশেষ করে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা, বন্দর আধুনিকীকরণ এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।"
ডাচ কোম্পানিগুলোর আগ্রহের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, "ডাচ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) কার্যক্রম সম্প্রসারণে আগ্রহী, তবে এ জন্য শক্তিশালী মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।"
আলোচনায় কৃষি ও সামুদ্রিক খাতের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (LDC) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও কাঠামোগত সংস্কারের স্বার্থে উত্তরণ-পূর্ব প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত তিন বছর সময় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সভায় উঠে আসে।
এছাড়া ডাচ রাষ্ট্রদূত জানান, অদূর ভবিষ্যতে নেদারল্যান্ডসের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করবেন, যা দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগে নতুন গতি আনবে। উভয় পক্ষই আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আপনার মতামত লিখুন