মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়াম কেপে উঠবে শাকিররা ‘ডাই ডাই’ সুরে। প্রাচীন এই নগরীর আকাশ নেচে উঠবে।ফুটবলের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এ যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য- একসঙ্গে তিন দেশ, তিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তবে সেই ত্রিমাত্রিক উৎসবের সূচনা হচ্ছে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ভেন্যু থেকে।
আজতেকা স্টেডিয়াম যেন মেক্সিকোর শ্বাস। ১৯৭০ সালে পেলের ব্রাজিল এখানে খেলেছিল চিরায়ত ফাইনাল। ১৯৮৬-তে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ আর ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ দেখেছিল এই মাঠ। আজ এই মাঠেই তৃতীয়বারের মতো ফুটবল মহারণের প্রারম্ভ। কিন্তু উদ্বোধনের থিম ইতিহাসের চেয়েও বেশি মেক্সিকোর বর্তমান প্রাণশক্তিকে ধরে রাখার চেষ্টা করে।
অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করছে ইতালির মার্কো বালিচের সংস্থা ‘বালিচ ওয়ান্ডার স্টুডিও’। এ যেন এক বিস্ময়কর ক্যানভাস, যেখানে শোভা পাচ্ছে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী কাগজের শিল্প ‘পাপেল পিকাডো’- হাতে কাটা বর্ণিল নকশার ছোট ছোট পতাকা।
শতাধিক শিল্পী মাতাবে স্টেডিয়াম। লোকসঙ্গীতের সুর; মঞ্চ ঘিরে ফুটবে লাতিন আমেরিকার রঙিন উৎসবের প্রতিচ্ছবি। আয়োজকরা প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের এই আয়োজনে মেক্সিকোর কৃষি-ভিত্তিক সংস্কৃতি, প্রাচীন মায়া-আজটেকের ইতিহাস আর দেশটির সমসাময়িক শক্তিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন।
বলা হচ্ছে, ফুটবলের উন্মাদনার প্রতীক হয়ে ওঠা এই আয়োজন আয়তনে ও আবেগে যেন ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপকেও হার মানাবে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এক বিবৃতিতে জানান, ফুটবল সব বাধা-বিপত্তি ভুলিয়ে মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করায়।
যদি কেউ ভাবেন বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ‘থিম সং’ বললেই শুধু ‘ওয়াকা ওয়াকা’র যুগ চিরকাল থাকবে, তাহলে ভুল ভাঙাতে মাঠে নেমেছেন শাকিরা। কলম্বিয়ান এই পপ আইকন আবারও ফুটবলের বার্তাবাহক। ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ২০১০ সালে বিশ্বকে কাঁপিয়েছিল। এবার তার গলা থেকে বের হবে ‘ডাই ডাই (লেটস গো)’।
এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সনেট। এর সঙ্গীতায়োজনে সঙ্গে রয়েছেন নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয়। শুধু গাওয়া নয়, এই গানের আয়ের একটি বড় অংশ ফিফার গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে যাবে। যার লক্ষ্য ১০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে বিশ্বের শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ‘ডাই ডাই’য়ের ভাষাগত অর্থ দাঁড়ায় ‘এগিয়ে যাওয়া’। আর আজ সেই বার্তা রাষ্ট্র-ভাষা ছাপিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।
শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আসছেন মেক্সিকোর নিজস্ব বরেণ্য সংগীতজ্ঞ আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, ব্যান্ড মানা, এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি হিসাবে টাইলাও মঞ্চে থাকবেন।
একসঙ্গে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্কৃতির সেতুবন্ধন রচিত হবে। টাইলা মঞ্চে গাইবেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় সংগীত, আর মেক্সিকোর গৌরবময় কণ্ঠ আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ গাইবেন নিজেদের জাতীয় সংগীত।
উদ্বোধনের উত্তাপ শুধু স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ নেই। পুরো মেক্সিকো সিটি যেন এক প্রস্তুতিময় উৎসবের বন্দরে পরিণত হয়েছে। মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা ঘোষণা দিয়েছেন, মেক্সিকো নগরীর সরকারি স্কুলের সব শিক্ষার্থীর জন্য ছুটি। চারিদিকে কড়াকড়ি নয়, বরং যানজট এড়াতে সরকারি কর্মচারীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত এনেছে, যাতে প্রতিটি নাগরিক অংশ নিতে পারে এ মহোৎসবে।
স্থানীয় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেস্তোরাঁ খোলা আছে রাত জেগে দর্শকদের স্বাগত জানাতে। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আজতেকা স্টেডিয়ামেই প্রথম আয়োজনের অনন্য রেকর্ড গড়বে। আজকের দিনটি তাই মেক্সিকো শহরের অধিবাসীদের জন্য গর্বের, স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মাতাবেন শাকিরা
আজতেকা স্টেডিয়ামের আকাশে রঙিন ফানুস, চোখজুড়ানো পাপেল পিকাডোর নকশা, আর শাকিরার শেষ সুরের প্রতিধ্বনিতে মুখর হবে। তার পর ফুটবলে ‘কিক অফ’ ডাক দেবে বিশ্বের কোটি প্রাণ। মেক্সিকো সিটি প্রমাণ করবে, সংস্কৃতি আর ফুটবল সমান তালে মিলে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬
মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়াম কেপে উঠবে শাকিররা ‘ডাই ডাই’ সুরে। প্রাচীন এই নগরীর আকাশ নেচে উঠবে।ফুটবলের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এ যেন এক অভূতপূর্ব দৃশ্য- একসঙ্গে তিন দেশ, তিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। তবে সেই ত্রিমাত্রিক উৎসবের সূচনা হচ্ছে মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক ভেন্যু থেকে।
আজতেকা স্টেডিয়াম যেন মেক্সিকোর শ্বাস। ১৯৭০ সালে পেলের ব্রাজিল এখানে খেলেছিল চিরায়ত ফাইনাল। ১৯৮৬-তে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ আর ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ দেখেছিল এই মাঠ। আজ এই মাঠেই তৃতীয়বারের মতো ফুটবল মহারণের প্রারম্ভ। কিন্তু উদ্বোধনের থিম ইতিহাসের চেয়েও বেশি মেক্সিকোর বর্তমান প্রাণশক্তিকে ধরে রাখার চেষ্টা করে।
অনুষ্ঠানটির প্রযোজনা করছে ইতালির মার্কো বালিচের সংস্থা ‘বালিচ ওয়ান্ডার স্টুডিও’। এ যেন এক বিস্ময়কর ক্যানভাস, যেখানে শোভা পাচ্ছে মেক্সিকোর ঐতিহ্যবাহী কাগজের শিল্প ‘পাপেল পিকাডো’- হাতে কাটা বর্ণিল নকশার ছোট ছোট পতাকা।
শতাধিক শিল্পী মাতাবে স্টেডিয়াম। লোকসঙ্গীতের সুর; মঞ্চ ঘিরে ফুটবে লাতিন আমেরিকার রঙিন উৎসবের প্রতিচ্ছবি। আয়োজকরা প্রায় ১৬ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের এই আয়োজনে মেক্সিকোর কৃষি-ভিত্তিক সংস্কৃতি, প্রাচীন মায়া-আজটেকের ইতিহাস আর দেশটির সমসাময়িক শক্তিকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন।
বলা হচ্ছে, ফুটবলের উন্মাদনার প্রতীক হয়ে ওঠা এই আয়োজন আয়তনে ও আবেগে যেন ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপকেও হার মানাবে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এক বিবৃতিতে জানান, ফুটবল সব বাধা-বিপত্তি ভুলিয়ে মানুষকে এক কাতারে দাঁড় করায়।
যদি কেউ ভাবেন বিশ্বকাপ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ‘থিম সং’ বললেই শুধু ‘ওয়াকা ওয়াকা’র যুগ চিরকাল থাকবে, তাহলে ভুল ভাঙাতে মাঠে নেমেছেন শাকিরা। কলম্বিয়ান এই পপ আইকন আবারও ফুটবলের বার্তাবাহক। ‘ওয়াকা ওয়াকা’ ২০১০ সালে বিশ্বকে কাঁপিয়েছিল। এবার তার গলা থেকে বের হবে ‘ডাই ডাই (লেটস গো)’।
এটি ২০২৬ বিশ্বকাপের অফিসিয়াল সনেট। এর সঙ্গীতায়োজনে সঙ্গে রয়েছেন নাইজেরিয়ান তারকা বার্না বয়। শুধু গাওয়া নয়, এই গানের আয়ের একটি বড় অংশ ফিফার গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ডে যাবে। যার লক্ষ্য ১০০ মিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে বিশ্বের শিশুদের শিক্ষা ও ফুটবলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ‘ডাই ডাই’য়ের ভাষাগত অর্থ দাঁড়ায় ‘এগিয়ে যাওয়া’। আর আজ সেই বার্তা রাষ্ট্র-ভাষা ছাপিয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।
শুধু তাই নয়, অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে আসছেন মেক্সিকোর নিজস্ব বরেণ্য সংগীতজ্ঞ আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্ডা, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, ব্যান্ড মানা, এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি হিসাবে টাইলাও মঞ্চে থাকবেন।
একসঙ্গে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার সংস্কৃতির সেতুবন্ধন রচিত হবে। টাইলা মঞ্চে গাইবেন দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় সংগীত, আর মেক্সিকোর গৌরবময় কণ্ঠ আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ গাইবেন নিজেদের জাতীয় সংগীত।
উদ্বোধনের উত্তাপ শুধু স্টেডিয়ামেই সীমাবদ্ধ নেই। পুরো মেক্সিকো সিটি যেন এক প্রস্তুতিময় উৎসবের বন্দরে পরিণত হয়েছে। মেয়র ক্লারা ব্রুগাদা ঘোষণা দিয়েছেন, মেক্সিকো নগরীর সরকারি স্কুলের সব শিক্ষার্থীর জন্য ছুটি। চারিদিকে কড়াকড়ি নয়, বরং যানজট এড়াতে সরকারি কর্মচারীদের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্র এমন সিদ্ধান্ত এনেছে, যাতে প্রতিটি নাগরিক অংশ নিতে পারে এ মহোৎসবে।
স্থানীয় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেস্তোরাঁ খোলা আছে রাত জেগে দর্শকদের স্বাগত জানাতে। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আজতেকা স্টেডিয়ামেই প্রথম আয়োজনের অনন্য রেকর্ড গড়বে। আজকের দিনটি তাই মেক্সিকো শহরের অধিবাসীদের জন্য গর্বের, স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মাতাবেন শাকিরা
আজতেকা স্টেডিয়ামের আকাশে রঙিন ফানুস, চোখজুড়ানো পাপেল পিকাডোর নকশা, আর শাকিরার শেষ সুরের প্রতিধ্বনিতে মুখর হবে। তার পর ফুটবলে ‘কিক অফ’ ডাক দেবে বিশ্বের কোটি প্রাণ। মেক্সিকো সিটি প্রমাণ করবে, সংস্কৃতি আর ফুটবল সমান তালে মিলে যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন