সংবাদ

মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠলো বিশ্বকাপের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:১৬ এএম

মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠলো বিশ্বকাপের

​কাতারের সেই স্মৃতিময় মেসি-উন্মাদনার রেশ কাটতেই শুরু হয়ে গেল ফুটবলের নতুন মহাযজ্ঞ। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠেছে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপের।

যে মাঠ একসময় পেলে ও ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী হয়েছিল, আজ সেখানেই প্রায় ৪০ দিনের এক নতুন ফুটবল যুদ্ধের সূচনা হলো।

৪৮টি দল, ৩টি আয়োজক দেশ এবং রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচের এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্যালারিতে নানা রঙের জার্সি, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে হাজারো সমর্থকের বাঁধভাঙা জোয়ারে আজতেকা স্টেডিয়াম রূপ নিয়েছে এক রঙিন উৎসবমঞ্চে।

​সব নতুন আর প্রথমের ভিড়ে এবারের আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন বিশ্বকাপের চিরচেনা পোস্টার গার্ল শাকিরা। কলম্বিয়ার জাতীয় দলের জার্সির রঙে মিল রেখে হলুদ-সাদা পোশাকে মঞ্চে এসে লাতিন পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান র‍্যাপার বার্না বয় মেতে ওঠেন নতুন অফিশিয়াল অ্যান্থেম ‘দাই দাই’ এবং ‘লেটস গো’ গানে।

মাঠের মাঝখানে বিশাল এক সোনালি ট্রফির প্রতিরূপকে ঘিরে তাদের এই পারফরম্যান্স দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ২০১০ সালের ওয়াকা ওয়াকা’র সোনালি স্মৃতিতে। লাতিন সঙ্গীতের বড় নাম জে বালভিন, গায়ক রায়ান কাস্ত্রো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি পপ-রক ব্যান্ড ‘মানা’র সুরের জাদুতে তখন বুঁদ হয়ে ছিল পুরো স্টেডিয়াম।

মেক্সিকান সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা প্রদর্শনীর পর চোখ ধাঁধানো আতশবাজিতে রাঙিয়ে তোলা হয় মেক্সিকোর আকাশ।

​ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ; মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বিশ্বকাপ। ফলে মেক্সিকোর পর বাকি দুটি দেশেও আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

পুরো আয়োজনের নেপথ্যে থাকা ইতালির খ্যাতিমান ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্কো বালিচ বিশ্ববাসীকে ফুটবলের ঐক্যের বার্তা দিয়ে বলেন, "এটি শুধু ফুটবল বা ফিফার উদযাপন নয়, এটি মানুষের একসঙ্গে আসার উৎসব। এমন এক সময়ে বিশ্বকাপ হচ্ছে, যখন রাজনৈতিকভাবে নানা বিতর্ক ও বিভাজন রয়েছে। কিন্তু ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে, আনন্দ দেয়।"

তিনি আরও জানান, তিনটি দেশ একসঙ্গে এত বড় একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে, এটিই বিশ্ববাসীর কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা। বর্ণাঢ্য এই আয়োজন শেষে মাঠের ফুটবল যুদ্ধে মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আর আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ফুটবলের এই রাজকীয় মহোৎসব।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬


মেক্সিকোর আজতেকা স্টেডিয়ামে পর্দা উঠলো বিশ্বকাপের

প্রকাশের তারিখ : ১২ জুন ২০২৬

featured Image

​কাতারের সেই স্মৃতিময় মেসি-উন্মাদনার রেশ কাটতেই শুরু হয়ে গেল ফুটবলের নতুন মহাযজ্ঞ। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠেছে ২৩তম ফুটবল বিশ্বকাপের।

যে মাঠ একসময় পেলে ও ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ জয়ের সাক্ষী হয়েছিল, আজ সেখানেই প্রায় ৪০ দিনের এক নতুন ফুটবল যুদ্ধের সূচনা হলো।

৪৮টি দল, ৩টি আয়োজক দেশ এবং রেকর্ড ১০৪টি ম্যাচের এই ঐতিহাসিক টুর্নামেন্টে উদ্বোধনী ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্যালারিতে নানা রঙের জার্সি, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে হাজারো সমর্থকের বাঁধভাঙা জোয়ারে আজতেকা স্টেডিয়াম রূপ নিয়েছে এক রঙিন উৎসবমঞ্চে।

​সব নতুন আর প্রথমের ভিড়ে এবারের আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিলেন বিশ্বকাপের চিরচেনা পোস্টার গার্ল শাকিরা। কলম্বিয়ার জাতীয় দলের জার্সির রঙে মিল রেখে হলুদ-সাদা পোশাকে মঞ্চে এসে লাতিন পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ান র‍্যাপার বার্না বয় মেতে ওঠেন নতুন অফিশিয়াল অ্যান্থেম ‘দাই দাই’ এবং ‘লেটস গো’ গানে।

মাঠের মাঝখানে বিশাল এক সোনালি ট্রফির প্রতিরূপকে ঘিরে তাদের এই পারফরম্যান্স দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় ২০১০ সালের ওয়াকা ওয়াকা’র সোনালি স্মৃতিতে। লাতিন সঙ্গীতের বড় নাম জে বালভিন, গায়ক রায়ান কাস্ত্রো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি পপ-রক ব্যান্ড ‘মানা’র সুরের জাদুতে তখন বুঁদ হয়ে ছিল পুরো স্টেডিয়াম।

মেক্সিকান সংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পতাকা প্রদর্শনীর পর চোখ ধাঁধানো আতশবাজিতে রাঙিয়ে তোলা হয় মেক্সিকোর আকাশ।

​ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ; মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই বিশ্বকাপ। ফলে মেক্সিকোর পর বাকি দুটি দেশেও আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

পুরো আয়োজনের নেপথ্যে থাকা ইতালির খ্যাতিমান ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর মার্কো বালিচ বিশ্ববাসীকে ফুটবলের ঐক্যের বার্তা দিয়ে বলেন, "এটি শুধু ফুটবল বা ফিফার উদযাপন নয়, এটি মানুষের একসঙ্গে আসার উৎসব। এমন এক সময়ে বিশ্বকাপ হচ্ছে, যখন রাজনৈতিকভাবে নানা বিতর্ক ও বিভাজন রয়েছে। কিন্তু ফুটবল মানুষকে একত্রিত করে, আনন্দ দেয়।"

তিনি আরও জানান, তিনটি দেশ একসঙ্গে এত বড় একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে, এটিই বিশ্ববাসীর কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা। বর্ণাঢ্য এই আয়োজন শেষে মাঠের ফুটবল যুদ্ধে মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকা, আর আগামী ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে শেষ হবে বিশ্ব ফুটবলের এই রাজকীয় মহোৎসব।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত