সংবাদ

মোদির রূপরেখায় নারী নেতৃত্ব


দীপক মুখার্জী
দীপক মুখার্জী প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

মোদির রূপরেখায় নারী নেতৃত্ব
নারী নেতৃত্বেই বিকশিত ভারত ২০৪৭: নীতি আয়োগ বৈঠকে মোদির রূপরেখা

বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নকে এবার আরও স্পষ্টভাবে সামনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজধানী দিল্লিতে নীতি আয়োগ-এর গভর্নিং কাউন্সিলের একাদশ বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে তিনি জানান, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারত ধারাবাহিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে—এবং এই গতি আরও বাড়াতে হলে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন ভারতের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর ওপর। তার মতে, দেশের বিশাল যুবশক্তি এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ভারত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীলতার ওপর জোর দেওয়ার কথাও তিনি বলেন।

অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতকে আরও শক্তিশালী করতে রফতানি বৃদ্ধির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা নতুন বাজার ও বিনিয়োগের পথ খুলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

বৈঠকে সদ্য শপথ নেওয়া কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের আগে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, সমবায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার চেতনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।

এবারের বৈঠকের মূল থিম ছিল- ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন’। অর্থাৎ, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন উন্নয়নের সুফল পান, তা নিশ্চিত করাই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সুশাসন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই), তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগকে এই উন্নয়ন রূপরেখার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়াও, জাতীয় মুখ্যসচিব সম্মেলনের সুপারিশগুলিও খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার রূপরেখাই এই বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


মোদির রূপরেখায় নারী নেতৃত্ব

প্রকাশের তারিখ : ১১ জুন ২০২৬

featured Image

বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে নারী-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নকে এবার আরও স্পষ্টভাবে সামনে আনলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাজধানী দিল্লিতে নীতি আয়োগ-এর গভর্নিং কাউন্সিলের একাদশ বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে গিয়ে তিনি জানান, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মাঝেও ভারত ধারাবাহিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে—এবং এই গতি আরও বাড়াতে হলে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেন ভারতের ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’-এর ওপর। তার মতে, দেশের বিশাল যুবশক্তি এক ঐতিহাসিক সুযোগ এনে দিয়েছে, যা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে ভারত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং উৎপাদনশীলতার ওপর জোর দেওয়ার কথাও তিনি বলেন।

অর্থনৈতিক দিক থেকে ভারতকে আরও শক্তিশালী করতে রফতানি বৃদ্ধির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ইতিমধ্যেই একাধিক দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষর করা হয়েছে, যা নতুন বাজার ও বিনিয়োগের পথ খুলে দিচ্ছে। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগ উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে পারে বলেও মত দেন তিনি।

বৈঠকে সদ্য শপথ নেওয়া কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। দেশের সার্বিক উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকের আগে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, সমবায়ী যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার চেতনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ‘বিকশিত ভারত’-এর স্বপ্ন পূরণে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি।

এবারের বৈঠকের মূল থিম ছিল- ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭-এর জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক মানব উন্নয়ন’। অর্থাৎ, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন উন্নয়নের সুফল পান, তা নিশ্চিত করাই এই পরিকল্পনার লক্ষ্য। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সুশাসন, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই), তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগকে এই উন্নয়ন রূপরেখার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এছাড়াও, জাতীয় মুখ্যসচিব সম্মেলনের সুপারিশগুলিও খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, উচ্চশিক্ষা এবং ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়কে আরও শক্তিশালী করে ২০৪৭ সালের মধ্যে একটি উন্নত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার রূপরেখাই এই বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত