সংবাদ

সিসিটিভিতে মিলল মোবাইল ব্যবহারের প্রমাণ

রংপুরে দরজা-জানালা বন্ধ করে বই দেখে পরীক্ষা


লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১৬ পিএম

রংপুরে দরজা-জানালা বন্ধ করে বই দেখে পরীক্ষা
ছবি : সংবাদ

রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও দরজা-জানালা বন্ধ করে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র লিখতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ এপ্রিল রোববার উপজেলার শঠিবাড়ি ইসলামী সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে গণিত পরীক্ষার দিন এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরীক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান দাখিল পরীক্ষার গণিত বিষয়ে পরীক্ষা ছিল গত রোববার। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু শঠিবাড়ি ইসলামী সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও বেশ কিছু কক্ষে দরজা-জানালা বন্ধ করে বই দেখে উত্তর লিখতে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা দুপুর ১টা ৯ মিনিটে কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন, কয়েকটি কক্ষে শিক্ষার্থীরা বই খুলে উত্তর লিখছেন। দায়িত্বরত পরিদর্শকদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা দাবি করেন, ‘স্ট্যাপলার মেশিন’ না আসায় খাতা সংগ্রহে দেরি হচ্ছে। এভাবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলার অভিযোগ উঠেছে।

রওশন হাবিব নামে এক পরীক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার কক্ষের খাতা সময়মতো নেওয়া হলেও পাশের কয়েকটি কক্ষে দরজা-জানালা বন্ধ করে বই দেখে লেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করলে কেন্দ্র সচিব আবদুল লতিব মিয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং সাংবাদিকদের কাছে কেন অভিযোগ করা হয়েছে, সে জন্য কয়েক দফা তেড়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কেন্দ্র সচিবকে ওই শিক্ষার্থীকে শাসাতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংবাদকর্মী মেহেদী হাসান মুরাদ জানান, কেন্দ্র সচিবের কক্ষের সিসিটিভি মনিটরে এক পরীক্ষার্থীকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ওই কক্ষে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। দেখা গেছে, ‘আরাফাত’ নামের এক ব্যক্তি খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের (এমসিকিউ) উত্তর পাঠিয়েছেন।

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্র সচিব আবদুল লতিব মিয়া বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে একটি কক্ষে খাতা সংগ্রহে কিছুটা দেরি হয়েছে, কোনো অনিয়ম হয়নি।’ তবে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পর পর্যন্ত কেন পরীক্ষা চলেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। পরীক্ষা শেষে খাতা জমা নিতে যেটুকু সময় লাগে, তার বাইরে যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


রংপুরে দরজা-জানালা বন্ধ করে বই দেখে পরীক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রংপুরের মিঠাপুকুরে একটি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পরও দরজা-জানালা বন্ধ করে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র লিখতে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৬ এপ্রিল রোববার উপজেলার শঠিবাড়ি ইসলামী সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে গণিত পরীক্ষার দিন এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পরীক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান দাখিল পরীক্ষার গণিত বিষয়ে পরীক্ষা ছিল গত রোববার। নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু শঠিবাড়ি ইসলামী সিনিয়র মাদ্রাসা কেন্দ্রে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও বেশ কিছু কক্ষে দরজা-জানালা বন্ধ করে বই দেখে উত্তর লিখতে দেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা দুপুর ১টা ৯ মিনিটে কেন্দ্রে গিয়ে দেখেন, কয়েকটি কক্ষে শিক্ষার্থীরা বই খুলে উত্তর লিখছেন। দায়িত্বরত পরিদর্শকদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তারা দাবি করেন, ‘স্ট্যাপলার মেশিন’ না আসায় খাতা সংগ্রহে দেরি হচ্ছে। এভাবে দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলার অভিযোগ উঠেছে।

রওশন হাবিব নামে এক পরীক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, তার কক্ষের খাতা সময়মতো নেওয়া হলেও পাশের কয়েকটি কক্ষে দরজা-জানালা বন্ধ করে বই দেখে লেখার সুযোগ দেওয়া হচ্ছিল। এর প্রতিবাদ করলে কেন্দ্র সচিব আবদুল লতিব মিয়া সেখানে উপস্থিত হয়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন এবং সাংবাদিকদের কাছে কেন অভিযোগ করা হয়েছে, সে জন্য কয়েক দফা তেড়ে আসেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কেন্দ্র সচিবকে ওই শিক্ষার্থীকে শাসাতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় সংবাদকর্মী মেহেদী হাসান মুরাদ জানান, কেন্দ্র সচিবের কক্ষের সিসিটিভি মনিটরে এক পরীক্ষার্থীকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ওই কক্ষে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। দেখা গেছে, ‘আরাফাত’ নামের এক ব্যক্তি খুদে বার্তার (এসএমএস) মাধ্যমে ওই শিক্ষার্থীকে ৩০টি বহুনির্বাচনী প্রশ্নের (এমসিকিউ) উত্তর পাঠিয়েছেন।

অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্র সচিব আবদুল লতিব মিয়া বলেন, ‘ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে একটি কক্ষে খাতা সংগ্রহে কিছুটা দেরি হয়েছে, কোনো অনিয়ম হয়নি।’ তবে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পর পর্যন্ত কেন পরীক্ষা চলেছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. পারভেজ বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। পরীক্ষা শেষে খাতা জমা নিতে যেটুকু সময় লাগে, তার বাইরে যদি সুনির্দিষ্ট কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত