সংবাদ

ঘূর্ণিঝড়ের নির্মম সাক্ষ্য


মোহাম্মদ ছৈয়দুল আলম
মোহাম্মদ ছৈয়দুল আলম
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

ঘূর্ণিঝড়ের নির্মম সাক্ষ্য
১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের সেই রাত আজও উপকূলীয় মানুষের কাছে আতঙ্কের প্রতীক

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় শুধু একটি দুর্যোগ নয়- এটি একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি, একটি সম্মিলিত স্মৃতি, এবং একইসঙ্গে একটি কঠিন শিক্ষা। ২৯ এপ্রিলের সেই রাত আজও উপকূলীয় মানুষের কাছে আতঙ্কের প্রতীক। তবে এই বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চট্টগ্রাম, আর এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী থেকে শুরু করে আরও বিস্তৃত দক্ষিণাঞ্চলে।

ঘূণিঝড়টি যখন আঘাত হানে, তখন এর বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৩০-২৫০ কিলোমিটার। কিন্তু প্রকৃত ধ্বংস ডেকে আনে ১৫-২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস, যা গভীর রাতে মানুষের ঘুমন্ত জীবনে হানা দেয়। সতর্কতা ছিল সীমিত, আশ্রয়কেন্দ্র ছিল অপ্রতুল, আর সচেতনতা ছিল অল্প। ফলে প্রকৃতির এই আঘাত মুহূর্তেই রূপ নেয় মানবিক বিপর্যয়ে।

চট্টগ্রাম ছিল এই ধ্বংসযজ্ঞের কেন্দ্র। বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, পতেঙ্গা, আনোয়ারা-এসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল অকল্পনীয়। বহু গ্রাম সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। অনেক পরিবারে কেউই বেঁচে থাকেনি। শুধু এই অঞ্চলে দশ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জলোচ্ছ্বাসের স্রোতে মানুষ, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি-সবকিছু ভেসে যায়।

তবে এই বিপর্যয় চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ ছিল না। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, টেকনাফ, উখিয়া অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংস সাধিত হয়। কুতুবদিয়া দ্বীপে প্রায় পুরো বসতি ধ্বংস হয়ে যায়। বহু মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায়, যাদের আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালীর চরাঞ্চল ছিল আরেকটি বড় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। মেঘনার জলোচ্ছ্বাসে বহু চর প্লাবিত হয়, অনেক এলাকা মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। লক্ষ্মীপুরেও একই চিত্র-নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ভেসে যায়।

ফেনী জেলায় তুলনামূলক কম হলেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বাতাসে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং কিছু এলাকায় প্লাবন দেখা দেয়। দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা জেলাতেও জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতি হয়, যদিও মূল আঘাতের কেন্দ্র ছিল পূর্ব উপকূল।

মোট মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজারের মধ্যে ধরা হয়। এই সংখ্যার বড় অংশই ছিল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে। প্রায় ১ কোটি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং ১০ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়-এটি ছিল একটি জাতির সামাজিক কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত।

এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। উপকূলীয় এলাকার মানুষ, যারা মূলত মাছ ধরা, কৃষি ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল, তারা এক রাতেই সবকিছু হারিয়ে ফেলে। হাজার হাজার মাছ ধরার নৌকা ধ্বংস হয়ে যায়, ফসলি জমি লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হয়ে পড়ে, গবাদিপশু ভেসে যায়। ফলে শুধু তাৎক্ষণিক নয়, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি হয়।

অবকাঠামোগত ক্ষতি ছিল ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। চট্টগ্রাম বন্দর অচল হয়ে পড়ে, জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সড়ক ও বাঁধ ভেঙে যায়। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম বিলম্বিত হয় কারণ যোগাযোগের কোনো উপায় ছিল না।

এই দুর্যোগের একটি বড় কারণ ছিল প্রস্তুতির অভাব। পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার ছিল না, আগাম সতর্কবার্তা কার্যকরভাবে পৌঁছায়নি, এবং জনগণের মধ্যে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা ছিল সীমিত। ফলে মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘরে অবস্থান করে এবং জলোচ্ছ্বাসে প্রাণ হারায়।

তবে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৯১ সালের পর উপকূলীয় এলাকায় হাজার হাজার সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়। ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আধুনিক করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, যারা দুর্যোগের সময় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করে।

এই উদ্যোগগুলোর ফল আজ স্পষ্ট। পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় একটি বৈশ্বিক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এই সাফল্যের ভিত্তি গড়ে উঠেছে ১৯৯১ সালের সেই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার ওপর।

তবুও চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং উপকূলীয় অঞ্চলে জনসংখ্যার চাপও বাড়ছে। চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় শহরগুলো এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এখন প্রয়োজন আরও সমন্বিত পরিকল্পনা-টেকসই অবকাঠামো, শক্তিশালী বাঁধ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি। উন্নয়ন যেন ঝুঁকি বাড়িয়ে না তোলে, বরং ঝুঁকি কমানোর পথ তৈরি করে-এটি নিশ্চিত করতে হবে।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় আমাদের শিখিয়েছে-প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়, কিন্তু প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। চট্টগ্রাম ছিল সেই শিক্ষার সবচেয়ে বড় মূল্যদাতা, আর পুরো বাংলাদেশ সেই শিক্ষা থেকে উপকৃত হয়েছে।

আজ, যখন আমরা সেই ঘটনার দিকে ফিরে তাকাই, তখন শুধু শোক নয়, দায়িত্ববোধও অনুভব করি। অতীতের সেই ত্যাগ যেন বৃথা না যায়-এই প্রতিজ্ঞাই হোক আমাদের ভবিষ্যতের পথচলার ভিত্তি।

[লেখক: গণমাধ্যমকর্মী]


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


ঘূর্ণিঝড়ের নির্মম সাক্ষ্য

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় শুধু একটি দুর্যোগ নয়- এটি একটি জাতীয় ট্র্যাজেডি, একটি সম্মিলিত স্মৃতি, এবং একইসঙ্গে একটি কঠিন শিক্ষা। ২৯ এপ্রিলের সেই রাত আজও উপকূলীয় মানুষের কাছে আতঙ্কের প্রতীক। তবে এই বিপর্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল চট্টগ্রাম, আর এর ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী থেকে শুরু করে আরও বিস্তৃত দক্ষিণাঞ্চলে।

ঘূণিঝড়টি যখন আঘাত হানে, তখন এর বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৩০-২৫০ কিলোমিটার। কিন্তু প্রকৃত ধ্বংস ডেকে আনে ১৫-২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস, যা গভীর রাতে মানুষের ঘুমন্ত জীবনে হানা দেয়। সতর্কতা ছিল সীমিত, আশ্রয়কেন্দ্র ছিল অপ্রতুল, আর সচেতনতা ছিল অল্প। ফলে প্রকৃতির এই আঘাত মুহূর্তেই রূপ নেয় মানবিক বিপর্যয়ে।

চট্টগ্রাম ছিল এই ধ্বংসযজ্ঞের কেন্দ্র। বাঁশখালী, সন্দ্বীপ, কুতুবদিয়া, পতেঙ্গা, আনোয়ারা-এসব এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ছিল অকল্পনীয়। বহু গ্রাম সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। অনেক পরিবারে কেউই বেঁচে থাকেনি। শুধু এই অঞ্চলে দশ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জলোচ্ছ্বাসের স্রোতে মানুষ, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি-সবকিছু ভেসে যায়।

তবে এই বিপর্যয় চট্টগ্রামে সীমাবদ্ধ ছিল না। কক্সবাজার জেলার মহেশখালী, টেকনাফ, উখিয়া অঞ্চলে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংস সাধিত হয়। কুতুবদিয়া দ্বীপে প্রায় পুরো বসতি ধ্বংস হয়ে যায়। বহু মানুষ নিখোঁজ হয়ে যায়, যাদের আর কখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নোয়াখালীর চরাঞ্চল ছিল আরেকটি বড় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা। মেঘনার জলোচ্ছ্বাসে বহু চর প্লাবিত হয়, অনেক এলাকা মানচিত্র থেকে বিলীন হয়ে যায়। হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। লক্ষ্মীপুরেও একই চিত্র-নদীর তীরবর্তী অঞ্চলগুলোতে জলোচ্ছ্বাস আছড়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ভেসে যায়।

ফেনী জেলায় তুলনামূলক কম হলেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়। ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বাতাসে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়, গাছপালা উপড়ে পড়ে এবং কিছু এলাকায় প্লাবন দেখা দেয়। দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা জেলাতেও জলোচ্ছ্বাস ও ঝড়ো হাওয়ার প্রভাবে ব্যাপক ক্ষতি হয়, যদিও মূল আঘাতের কেন্দ্র ছিল পূর্ব উপকূল।

মোট মৃত্যুর সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজারের মধ্যে ধরা হয়। এই সংখ্যার বড় অংশই ছিল চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে। প্রায় ১ কোটি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে এবং ১০ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়-এটি ছিল একটি জাতির সামাজিক কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত।

এই বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। উপকূলীয় এলাকার মানুষ, যারা মূলত মাছ ধরা, কৃষি ও দিনমজুরির ওপর নির্ভরশীল, তারা এক রাতেই সবকিছু হারিয়ে ফেলে। হাজার হাজার মাছ ধরার নৌকা ধ্বংস হয়ে যায়, ফসলি জমি লবণাক্ত পানিতে নষ্ট হয়ে পড়ে, গবাদিপশু ভেসে যায়। ফলে শুধু তাৎক্ষণিক নয়, দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংকটও তৈরি হয়।

অবকাঠামোগত ক্ষতি ছিল ব্যাপক ও বহুমাত্রিক। চট্টগ্রাম বন্দর অচল হয়ে পড়ে, জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সড়ক ও বাঁধ ভেঙে যায়। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অনেক এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম বিলম্বিত হয় কারণ যোগাযোগের কোনো উপায় ছিল না।

এই দুর্যোগের একটি বড় কারণ ছিল প্রস্তুতির অভাব। পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার ছিল না, আগাম সতর্কবার্তা কার্যকরভাবে পৌঁছায়নি, এবং জনগণের মধ্যে ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা ছিল সীমিত। ফলে মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ঘরে অবস্থান করে এবং জলোচ্ছ্বাসে প্রাণ হারায়।

তবে এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য একটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৯১ সালের পর উপকূলীয় এলাকায় হাজার হাজার সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করা হয়। ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আধুনিক করা হয়। স্বেচ্ছাসেবী নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, যারা দুর্যোগের সময় মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে কাজ করে।

এই উদ্যোগগুলোর ফল আজ স্পষ্ট। পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়গুলোতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। বাংলাদেশ এখন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় একটি বৈশ্বিক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু এই সাফল্যের ভিত্তি গড়ে উঠেছে ১৯৯১ সালের সেই বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার ওপর।

তবুও চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বাড়ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং উপকূলীয় অঞ্চলে জনসংখ্যার চাপও বাড়ছে। চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় শহরগুলো এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

এখন প্রয়োজন আরও সমন্বিত পরিকল্পনা-টেকসই অবকাঠামো, শক্তিশালী বাঁধ, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সতর্কীকরণ ব্যবস্থা এবং সর্বোপরি জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি। উন্নয়ন যেন ঝুঁকি বাড়িয়ে না তোলে, বরং ঝুঁকি কমানোর পথ তৈরি করে-এটি নিশ্চিত করতে হবে।

১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় আমাদের শিখিয়েছে-প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব নয়, কিন্তু প্রস্তুতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। চট্টগ্রাম ছিল সেই শিক্ষার সবচেয়ে বড় মূল্যদাতা, আর পুরো বাংলাদেশ সেই শিক্ষা থেকে উপকৃত হয়েছে।

আজ, যখন আমরা সেই ঘটনার দিকে ফিরে তাকাই, তখন শুধু শোক নয়, দায়িত্ববোধও অনুভব করি। অতীতের সেই ত্যাগ যেন বৃথা না যায়-এই প্রতিজ্ঞাই হোক আমাদের ভবিষ্যতের পথচলার ভিত্তি।

[লেখক: গণমাধ্যমকর্মী]



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত