সংবাদ

অকাল বন্যায় ফসলহানি, কৃষকের মধ্যে হাহাকার



অকাল বন্যায় ফসলহানি, কৃষকের মধ্যে হাহাকার

গত কদিনের ভারী বর্ষণ ও সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা ও বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি প্রবেশ করে কাঁচা-পাকা ধান তলিয়ে যায়। এতে কৃষকের অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। এখন সারা বছর কিভাবে চলবেন সেই চিন্তাই করছেন। জেলার ফসলহারা কৃষকদের মধ্যে এখন শুধুই হাহাকার। 

জামালগঞ্জ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজগর আলী বলেন সারা বছরের খোরাক এই এক ফসলের ওপর নির্ভরশীল। ধার দেনা করে জমি চাষ করেছিলাম কিন্ত সবশেষ এখন পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। শাল্লা অন্য কৃষক বলেন অনেক কষ্ট করে ধান কেটে বাড়িতে এনেছিলাম ভেবেছিলাম কিছুটা হলেও রক্ষা হবে কিন্ত রোদের অভাবে শুকাতে না পারায় ধানে চারা গজিয়ে খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। গবাদিপশুর জন্য সংরক্ষিত খড় ও ভেসে গেছে এখন আমরা কী খাবো আর গরু ছাগল কে কী খাওয়াবো। খাদ্যের অভাবে গবাদিপশু বিক্রি করা ছাড়া বিকল্প নেই। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লা পাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের বড় গৃহস্থ আব্দুল গফুর। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২২ জন। প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করে দেখার হাওরে জমি চাষাবাদ করেছিলেন। তিনি জানান সব পানিতে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে তলিয়ে গেছে। আমি এই ক্ষতি কিভাবে পোষাবো সেই চিন্তাই করছি। বাকী বছর এতো বড় পরিবার কেমনে চলবে। দিরাই উপজেলার ধল গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন বরাম হাওরে ৫০ কিয়ার (শতাংশ) জমি করি। শ্রমিক সংকটের কারণে কোনো রকমে অর্ধেক ধান কেটে আনি বৃষ্টির কারণে শুকাতে পারেন নি। ধানে চারা গজিয়েছে। একই উপজেলার চাপতির হাওরের কৃষক ফটিক মিয়া জানান হাওরের ৪ ভাগের ৩ ভাগ ফসল তলিয়ে গেছে। কারণ শ্রমিক সংকট পানিতে হার্ভেষ্টার মেশিন চলে না। তাহিরপুর উপজেলার গোবিন্দ শ্রী গ্রামের কৃষক সেলিম আখঞ্জি জানান ৩৫ কিয়ার (শতাংশ) জমির মধ্যে ১০ কিয়ার (শতাংশ) ধান কর্তন হয়েছে। রোদ না থাকলে আনুমানিক ১শ’ মন ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই উপজেলার মাটিয়ান হাওরের কৃষক তেমুর রেজা বলেন দ্বিগুণ দামে ও শ্রমিক পাওয়া যায় না । আবহাওয়ার অবস্থা ও ভালো না খুব সমস্যার সম্মুখীন ধান কর্তন নিয়ে। এদিকে গত ২৯-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার সব বালু-পাথর মহাল ও ৩টি শুল্ক স্টেশন বন্ধ করে হাওরে ধান কাটার জন্য শ্রমিকদের আহ্বান জানিয়েছিলো জেলা প্রশাসন। ধান কর্তন সম্পন্ন না হওয়ায় তা বাড়িয়ে ১-৫ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। যদিও গতকাল সুনামগঞ্জে রোদের ঝিলিক দেখা দেয়ায় কৃষান-কৃষানী কিছুটা স্বস্তির সঙ্গে তাদের কাজ করেছেন। 

ইতিমধ্যেই সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলার আবিদনগর ইউনিয়নের মুকসেদপুর জিনারিয়া বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল ও মধ্যনগর উপজেলার এরনবিলে পানি প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গুজাউনি বাঁধ ও ভেঙে গেছে। 

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি এ বাঁধ গুলো পিআইসির আওতাধীন নয়। দিরাই উপজেলার কাইমা খাল দিয়ে ও কালিয়াকোটা হাওরে পানি প্রবেশ করছে। গ্রামবাসী বাঁধ রক্ষার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করছেন। 

দোয়ারাবাজার উপজেলার নান্দাইর হাওর, কাংলার হাওর, দেখার হাওর ও কনসকাই বিল ও জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে হাজার হাজার মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছ। এ দিকে ধান কাটার শ্রমিক সংকট প্রকট থাকায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নেতাদেরকে চিঠি দিয়ে ধান কর্তন করার জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। 

ধান শুকানোর কোনো বিকল্প না থাকায় ভেজা ধান চারা গজিয়ে খাবার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শত শত হেক্টর জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান কি পরিমান ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়েছে আইডিয়া নেই তবে আমাদের লোকজন মাঠে কাজ করছেন। তিনি ধান ঢেকে না রাখার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান একটি প্রকল্প থেকে পাওয়া ১০টি ড্রায়ার মেশিন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আছে। তবে এগুলো পরিমানে কম। অটোমেটিক রাইস মিল মালিকরা যদি কাঁচা ধান কিনেন তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমবে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক কে জানালে তিনি অটোমেটিক রাইস মিল মালিক দের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান ধান শুকানোর জন্য জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ব্যবহার করার জন্য সব ইউএনও দের নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব দের সঙ্গে ও এ নিয়ে পরামর্শ করেছেন। জেলা প্রশাসক দিনভর দিরাই উপজেলার বরাম হাওর পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। 

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে ছুটি নিয়ে সংসদ অধিবেশন ছেড়ে তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন হাওরে ঘুরছেন। গতকাল জেলার মধ্যনগর ও জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেছেন। 

তিনি জানান প্রধানমন্ত্রী তাকে হাওরে পাঠিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ৩ মাস প্রনোদনা দেয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন। 

স্থানীয় কৃষকদের দাবী দ্রুত তম সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরকারি ভাবে বিশেষ প্রনোদনা ও পুনঃবাসন, কৃষি ঋণের কিস্তির টাকা স্থগিত বা মওকুপ এবং পরবর্তী মৌসুমের জন্য কৃষকদের বিনা মূল্যে সার বীজ প্রদান। 

কৃষকের চোখের সামনে তলিয়ে যায় হাড়ভাঙা খাটুনি ও ঋণের টাকায় ফলানো স্বপ্নের ধান। প্রকৃতি যেনো তাদের সব হিসাব-নিকাশ ওলট-পালট করে দিয়েছে। যে হাওরের নতুন ধানে বাড়িতে বাড়িতে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই কান্না আর অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। বৃষ্টিতে পানি বাড়ার পাশাপাশি বজ্রপাতের ভয়ে মাঠে ধান কাটতে নামতে পারছেন না কৃষকরা। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলায় ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয় আনুমানিক ১৪ লাখ মেট্রিকটন। যার বাজারমূল্য আনুমানিক সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। 

ইতোমধ্যেই ৫১ শতাংশ ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। তার মধ্যে হাওরে ৬২ শতাংশ নন হাওরে ১৬ শতাংশ। 

জলাবদ্ধতায় ১৩ হাজার ৯৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। 

কৃষকদের দেয়া তথ্যমতে, নদী ভরাট হওয়া ও ফসল রক্ষা বাঁধের ত্রুটির কারণেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। 

এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১৮টি পিআইসির আওতাধীন ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হলেও অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের কারণে জেলার বিভিন্ন হাওরের ফসল জলাবদ্ধতার শিকার। 

হাউস নির্বাহী পরিচালক ও হাওর গবেষক সালেহীন চৌধুরী শুভ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকির ব্যবস্থা 

গ্রহণের দাবি জানান। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় হাওর বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। 

অনেক কৃষক জানান ‘ধান ভালা অইলে কী অইবো। আমরার ধানের দাম নাই। ১ মণ ধান বেচলেও একজন শ্রমিকের মজুরি অয় না। এখন হাজার ট্যাকা দিয়াও শ্রমিক পাই না। ১১০০ ট্যাকায় শ্রমিক আনছি। আর বাজারে ধানের দাম ৭০০-৮০০ টাকা। এক মণ ধান ফলাইতে মাঠেই খরচ হইছে ১১০০ থেকে ১২০০ ট্যাকা। ধানের দাম এমন থাকলে ক্যামনে কী অইবো। আমাদের মরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। হারভেস্টার মেশিনের খরচ আরও বেশি। ইচ্ছামতো ট্যাকা নিচ্ছে তারা। 

শনির হাওরের কৃষক পাবেল মিয়া বলেন, ‘এবার ফলন ভালো হলেও ধান চাষে খরচ হয়েছে অনেক বেশি। ধান কাটাতেও লাগছে অন্য বারের চেয়ে বেশি টাকা। ১ মণ ধান ফলাতে জমিতেই খরচ পড়েছে ১১০০ টাকার মতো। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ধানকাটা, মাড়াই আর পরিবহন খরচও। অথচ বাজারে ধানের দাম অনেক কম। ৭০০-৮০০ টাকায় ধান বেচতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। ধান চাষ করে এ মৌসুমে বড় লোকসানে পড়েছি।’

একই এলাকার কৃষক সামছু মিয়া হিসাব কষে জানালেন, ১ একর জমি চাষ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। এই জমিতে ৫০ মণের বেশি ধান হবে না। ধানগুলো ৪০ হাজার টাকার বেশি বেচা যাবে না। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চলবো কীভাবে? এভাবে হলে আমরা মরা ছারা আর কোনো উপায় নাই।

এদিকে, নেত্রকোনায় ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত:

হাওরে ডুবছে বোরো ফসল, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

টানা ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলগুলোতে দ্রুত পানি বাড়ছে। কংশ ও উপদাখালী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে একমাত্র বোরো ফসল যা ঘিরেই সারা বছরের আশা কৃষকদের। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে কংশ নদীর পানি বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার এবং উপদাখালী নদীর পানি ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সোমেশ্বরী, গণেশ্বরীসহ সীমান্তবর্তী অন্য নদ-নদীর পানিও বেড়ে নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়ছে। পানির এই আকস্মিক বৃদ্ধিতে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় সেই ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চরম হতাশায় পড়েছেন তারা। কৃষকরা বলছেন, এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও আকস্মিক বন্যার কারণে সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হয়নি। এখন চোখের সামনে পানিতে ডুবে যাচ্ছে সারা বছরের একমাত্র সম্বল। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলায় এখন পর্যন্ত মাত্র ২১ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। হাওরাঞ্চলে কাটা হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। আগাম ধান কাটার জন্য কৃষকদের আগেই সতর্ক করা হলেও অনেক জায়গায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বন্যার আশঙ্কা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন মাঠে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই রয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমি যেখানে এই একটি ফসলই কৃষকদের জীবিকার প্রধান ভরসা। তাই পানির এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কৃষকের জন্য শুধু ফসলের ক্ষতি নয়, বরং পুরো বছরের আর্থিক নিরাপত্তাকেই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ধান কাটার উদ্যোগ, শ্রমিক সরবরাহ ও কৃষকদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬


অকাল বন্যায় ফসলহানি, কৃষকের মধ্যে হাহাকার

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

গত কদিনের ভারী বর্ষণ ও সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতা ও বাঁধ ভেঙ্গে হাওরে পানি প্রবেশ করে কাঁচা-পাকা ধান তলিয়ে যায়। এতে কৃষকের অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। এখন সারা বছর কিভাবে চলবেন সেই চিন্তাই করছেন। জেলার ফসলহারা কৃষকদের মধ্যে এখন শুধুই হাহাকার। 

জামালগঞ্জ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজগর আলী বলেন সারা বছরের খোরাক এই এক ফসলের ওপর নির্ভরশীল। ধার দেনা করে জমি চাষ করেছিলাম কিন্ত সবশেষ এখন পথে বসা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। শাল্লা অন্য কৃষক বলেন অনেক কষ্ট করে ধান কেটে বাড়িতে এনেছিলাম ভেবেছিলাম কিছুটা হলেও রক্ষা হবে কিন্ত রোদের অভাবে শুকাতে না পারায় ধানে চারা গজিয়ে খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। গবাদিপশুর জন্য সংরক্ষিত খড় ও ভেসে গেছে এখন আমরা কী খাবো আর গরু ছাগল কে কী খাওয়াবো। খাদ্যের অভাবে গবাদিপশু বিক্রি করা ছাড়া বিকল্প নেই। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লা পাড়া ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের বড় গৃহস্থ আব্দুল গফুর। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২২ জন। প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করে দেখার হাওরে জমি চাষাবাদ করেছিলেন। তিনি জানান সব পানিতে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে তলিয়ে গেছে। আমি এই ক্ষতি কিভাবে পোষাবো সেই চিন্তাই করছি। বাকী বছর এতো বড় পরিবার কেমনে চলবে। দিরাই উপজেলার ধল গ্রামের কৃষক আনিছুর রহমান বলেন বরাম হাওরে ৫০ কিয়ার (শতাংশ) জমি করি। শ্রমিক সংকটের কারণে কোনো রকমে অর্ধেক ধান কেটে আনি বৃষ্টির কারণে শুকাতে পারেন নি। ধানে চারা গজিয়েছে। একই উপজেলার চাপতির হাওরের কৃষক ফটিক মিয়া জানান হাওরের ৪ ভাগের ৩ ভাগ ফসল তলিয়ে গেছে। কারণ শ্রমিক সংকট পানিতে হার্ভেষ্টার মেশিন চলে না। তাহিরপুর উপজেলার গোবিন্দ শ্রী গ্রামের কৃষক সেলিম আখঞ্জি জানান ৩৫ কিয়ার (শতাংশ) জমির মধ্যে ১০ কিয়ার (শতাংশ) ধান কর্তন হয়েছে। রোদ না থাকলে আনুমানিক ১শ’ মন ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। একই উপজেলার মাটিয়ান হাওরের কৃষক তেমুর রেজা বলেন দ্বিগুণ দামে ও শ্রমিক পাওয়া যায় না । আবহাওয়ার অবস্থা ও ভালো না খুব সমস্যার সম্মুখীন ধান কর্তন নিয়ে। এদিকে গত ২৯-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেলার সব বালু-পাথর মহাল ও ৩টি শুল্ক স্টেশন বন্ধ করে হাওরে ধান কাটার জন্য শ্রমিকদের আহ্বান জানিয়েছিলো জেলা প্রশাসন। ধান কর্তন সম্পন্ন না হওয়ায় তা বাড়িয়ে ১-৫ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে। যদিও গতকাল সুনামগঞ্জে রোদের ঝিলিক দেখা দেয়ায় কৃষান-কৃষানী কিছুটা স্বস্তির সঙ্গে তাদের কাজ করেছেন। 

ইতিমধ্যেই সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর উপজেলার আবিদনগর ইউনিয়নের মুকসেদপুর জিনারিয়া বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল ও মধ্যনগর উপজেলার এরনবিলে পানি প্রবেশ করে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গুজাউনি বাঁধ ও ভেঙে গেছে। 

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি এ বাঁধ গুলো পিআইসির আওতাধীন নয়। দিরাই উপজেলার কাইমা খাল দিয়ে ও কালিয়াকোটা হাওরে পানি প্রবেশ করছে। গ্রামবাসী বাঁধ রক্ষার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করছেন। 

দোয়ারাবাজার উপজেলার নান্দাইর হাওর, কাংলার হাওর, দেখার হাওর ও কনসকাই বিল ও জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে হাজার হাজার মানুষের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছ। এ দিকে ধান কাটার শ্রমিক সংকট প্রকট থাকায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনের নেতাদেরকে চিঠি দিয়ে ধান কর্তন করার জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন। 

ধান শুকানোর কোনো বিকল্প না থাকায় ভেজা ধান চারা গজিয়ে খাবার অযোগ্য হয়ে পড়েছে। শত শত হেক্টর জমির ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান কি পরিমান ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হয়েছে আইডিয়া নেই তবে আমাদের লোকজন মাঠে কাজ করছেন। তিনি ধান ঢেকে না রাখার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেন। তিনি আরও জানান একটি প্রকল্প থেকে পাওয়া ১০টি ড্রায়ার মেশিন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আছে। তবে এগুলো পরিমানে কম। অটোমেটিক রাইস মিল মালিকরা যদি কাঁচা ধান কিনেন তাহলে কিছুটা হলেও ক্ষতি কমবে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক কে জানালে তিনি অটোমেটিক রাইস মিল মালিক দের সঙ্গে কথা বলেছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান ধান শুকানোর জন্য জেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদের ভবন ব্যবহার করার জন্য সব ইউএনও দের নির্দেশ দিয়েছেন। এ নিয়ে জেলা প্রশাসক পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিব দের সঙ্গে ও এ নিয়ে পরামর্শ করেছেন। জেলা প্রশাসক দিনভর দিরাই উপজেলার বরাম হাওর পরিদর্শন করে কৃষকদের প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। 

সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে ছুটি নিয়ে সংসদ অধিবেশন ছেড়ে তার নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন হাওরে ঘুরছেন। গতকাল জেলার মধ্যনগর ও জামালগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন হাওর পরিদর্শন করেছেন। 

তিনি জানান প্রধানমন্ত্রী তাকে হাওরে পাঠিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে ৩ মাস প্রনোদনা দেয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন। 

স্থানীয় কৃষকদের দাবী দ্রুত তম সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সরকারি ভাবে বিশেষ প্রনোদনা ও পুনঃবাসন, কৃষি ঋণের কিস্তির টাকা স্থগিত বা মওকুপ এবং পরবর্তী মৌসুমের জন্য কৃষকদের বিনা মূল্যে সার বীজ প্রদান। 

কৃষকের চোখের সামনে তলিয়ে যায় হাড়ভাঙা খাটুনি ও ঋণের টাকায় ফলানো স্বপ্নের ধান। প্রকৃতি যেনো তাদের সব হিসাব-নিকাশ ওলট-পালট করে দিয়েছে। যে হাওরের নতুন ধানে বাড়িতে বাড়িতে উৎসব হওয়ার কথা ছিল, সেখানে এখন কেবলই কান্না আর অনিশ্চয়তার কালো মেঘ। বৃষ্টিতে পানি বাড়ার পাশাপাশি বজ্রপাতের ভয়ে মাঠে ধান কাটতে নামতে পারছেন না কৃষকরা। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী জেলায় ১৩৭টি হাওরে এবার ২ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয় আনুমানিক ১৪ লাখ মেট্রিকটন। যার বাজারমূল্য আনুমানিক সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। 

ইতোমধ্যেই ৫১ শতাংশ ধান কর্তন সম্পন্ন হয়েছে। তার মধ্যে হাওরে ৬২ শতাংশ নন হাওরে ১৬ শতাংশ। 

জলাবদ্ধতায় ১৩ হাজার ৯৩ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। 

কৃষকদের দেয়া তথ্যমতে, নদী ভরাট হওয়া ও ফসল রক্ষা বাঁধের ত্রুটির কারণেই এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। 

এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১৮টি পিআইসির আওতাধীন ৬০২ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করা হলেও অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় বাঁধ নির্মাণের কারণে জেলার বিভিন্ন হাওরের ফসল জলাবদ্ধতার শিকার। 

হাউস নির্বাহী পরিচালক ও হাওর গবেষক সালেহীন চৌধুরী শুভ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ভর্তুকির ব্যবস্থা 

গ্রহণের দাবি জানান। হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক বিজন সেন রায় হাওর বিপর্যয়ের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান। 

অনেক কৃষক জানান ‘ধান ভালা অইলে কী অইবো। আমরার ধানের দাম নাই। ১ মণ ধান বেচলেও একজন শ্রমিকের মজুরি অয় না। এখন হাজার ট্যাকা দিয়াও শ্রমিক পাই না। ১১০০ ট্যাকায় শ্রমিক আনছি। আর বাজারে ধানের দাম ৭০০-৮০০ টাকা। এক মণ ধান ফলাইতে মাঠেই খরচ হইছে ১১০০ থেকে ১২০০ ট্যাকা। ধানের দাম এমন থাকলে ক্যামনে কী অইবো। আমাদের মরে যাওয়া ছাড়া উপায় নেই। হারভেস্টার মেশিনের খরচ আরও বেশি। ইচ্ছামতো ট্যাকা নিচ্ছে তারা। 

শনির হাওরের কৃষক পাবেল মিয়া বলেন, ‘এবার ফলন ভালো হলেও ধান চাষে খরচ হয়েছে অনেক বেশি। ধান কাটাতেও লাগছে অন্য বারের চেয়ে বেশি টাকা। ১ মণ ধান ফলাতে জমিতেই খরচ পড়েছে ১১০০ টাকার মতো। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে ধানকাটা, মাড়াই আর পরিবহন খরচও। অথচ বাজারে ধানের দাম অনেক কম। ৭০০-৮০০ টাকায় ধান বেচতে বাধ্য হচ্ছি আমরা। ধান চাষ করে এ মৌসুমে বড় লোকসানে পড়েছি।’

একই এলাকার কৃষক সামছু মিয়া হিসাব কষে জানালেন, ১ একর জমি চাষ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৩৫ হাজার টাকা। এই জমিতে ৫০ মণের বেশি ধান হবে না। ধানগুলো ৪০ হাজার টাকার বেশি বেচা যাবে না। এ অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চলবো কীভাবে? এভাবে হলে আমরা মরা ছারা আর কোনো উপায় নাই।

এদিকে, নেত্রকোনায় ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত:

হাওরে ডুবছে বোরো ফসল, বাড়ছে দুশ্চিন্তা

টানা ভারি বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলগুলোতে দ্রুত পানি বাড়ছে। কংশ ও উপদাখালী নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে একমাত্র বোরো ফসল যা ঘিরেই সারা বছরের আশা কৃষকদের। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে কংশ নদীর পানি বিপদসীমার ৯৩ সেন্টিমিটার এবং উপদাখালী নদীর পানি ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে সোমেশ্বরী, গণেশ্বরীসহ সীমান্তবর্তী অন্য নদ-নদীর পানিও বেড়ে নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়ছে। পানির এই আকস্মিক বৃদ্ধিতে মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাচ্ছে। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে পানির নিচ থেকেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ায় সেই ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে চরম হতাশায় পড়েছেন তারা। কৃষকরা বলছেন, এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছিল। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও আকস্মিক বন্যার কারণে সময়মতো ধান কাটা সম্ভব হয়নি। এখন চোখের সামনে পানিতে ডুবে যাচ্ছে সারা বছরের একমাত্র সম্বল। কৃষি বিভাগের তথ্য বলছে, জেলায় এখন পর্যন্ত মাত্র ২১ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। হাওরাঞ্চলে কাটা হয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। আগাম ধান কাটার জন্য কৃষকদের আগেই সতর্ক করা হলেও অনেক জায়গায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বন্যার আশঙ্কা মাথায় রেখে আগাম প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন মাঠে কাজ করছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওরাঞ্চলেই রয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমি যেখানে এই একটি ফসলই কৃষকদের জীবিকার প্রধান ভরসা। তাই পানির এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি কৃষকের জন্য শুধু ফসলের ক্ষতি নয়, বরং পুরো বছরের আর্থিক নিরাপত্তাকেই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ধান কাটার উদ্যোগ, শ্রমিক সরবরাহ ও কৃষকদের আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।




সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত