সংবাদ

খরা ও অতিবৃষ্টিতে লটকনের ফলন বিপর্যয়


প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রতিনিধি, নরসিংদী
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১০:২১ এএম

খরা ও অতিবৃষ্টিতে লটকনের ফলন বিপর্যয়
গাছের কাণ্ডজুড়ে থরে থরে ঝুলে আছে লটকন। ছবি : সংবাদ

নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী ও জিআই পণ্য লটকনের কদর এখন বিশ্বজুড়ে। এক সময় বন-জঙ্গলে অযত্নে বেড়ে ওঠা এই ফলটি এখন জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ও বাজারদর নিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড়ে সাড়ে ১৭ টন ফলন হিসেবে মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৭৭০ মেট্রিক টন। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি লটকন ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলে এই মৌসুমে লটকনের বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

প্রায় ১০০ বছর আগে শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা গ্রামের মরহুম হাজী হাকিম আব্দুল আজিজ এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষের সূচনা করেন। কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও লাভ করেন। তার অনুপ্রেরণায় এখন শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার লাল মাটিবেষ্টিত এলাকায় লটকনের ব্যাপক চাষ হচ্ছে। এখানকার মাটিতে ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বেশি থাকায় লটকনের স্বাদ ও মান অন্য অঞ্চলের চেয়ে আলাদা।

তবে এ বছর শুরু থেকেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখে পড়েছেন চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং পরে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে অনেক গাছের গুটি ঝরে পড়েছে। শিবপুরের কামারটেক এলাকার চাষি রুবেল মিয়া বলেন, "প্রথমে অনেক গুটি এসেছিল, কিন্তু বৃষ্টির অভাবে বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পরে অতিবৃষ্টিতে অনেক লটকন ঝরে গেছে।" আরেক চাষি মামুন জানান, ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজিতে দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা কম পাচ্ছেন তারা।

কৃষকদের তথ্যমতে, লটকন চাষে তুলনামূলক কম পরিচর্যা লাগে। তবে ‘বল্লা’ পোকার আক্রমণ এই ফলের প্রধান শত্রু। কীটনাশকযুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করে এই পোকা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। বাগান কেনাবেচায় যুক্ত পাইকারি ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, "১৫টি বাগান প্রায় ২০ লাখ টাকায় কিনেছি। আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভ হবে।"

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়া কিছুটা অনিয়মিত হলেও গত বছরের চেয়ে এবার সামগ্রিক ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।

/

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


খরা ও অতিবৃষ্টিতে লটকনের ফলন বিপর্যয়

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর ঐতিহ্যবাহী ও জিআই পণ্য লটকনের কদর এখন বিশ্বজুড়ে। এক সময় বন-জঙ্গলে অযত্নে বেড়ে ওঠা এই ফলটি এখন জেলার অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। তবে চলতি মৌসুমে আবহাওয়া ও বাজারদর নিয়ে কিছুটা বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় চাষিরা।

নরসিংদী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ হাজার ৮১০ হেক্টর জমিতে লটকনের আবাদ হয়েছে। হেক্টরপ্রতি গড়ে সাড়ে ১৭ টন ফলন হিসেবে মোট লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৭৭০ মেট্রিক টন। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি লটকন ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলে এই মৌসুমে লটকনের বাজারমূল্য দাঁড়াবে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

প্রায় ১০০ বছর আগে শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা গ্রামের মরহুম হাজী হাকিম আব্দুল আজিজ এই অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষের সূচনা করেন। কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি জাতীয় পুরস্কারও লাভ করেন। তার অনুপ্রেরণায় এখন শিবপুর, বেলাব ও রায়পুরা উপজেলার লাল মাটিবেষ্টিত এলাকায় লটকনের ব্যাপক চাষ হচ্ছে। এখানকার মাটিতে ক্যালসিয়াম ও খনিজ উপাদান বেশি থাকায় লটকনের স্বাদ ও মান অন্য অঞ্চলের চেয়ে আলাদা।

তবে এ বছর শুরু থেকেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখে পড়েছেন চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং পরে অতিবৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টির কারণে অনেক গাছের গুটি ঝরে পড়েছে। শিবপুরের কামারটেক এলাকার চাষি রুবেল মিয়া বলেন, "প্রথমে অনেক গুটি এসেছিল, কিন্তু বৃষ্টির অভাবে বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পরে অতিবৃষ্টিতে অনেক লটকন ঝরে গেছে।" আরেক চাষি মামুন জানান, ফলন কম হওয়ার পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজিতে দাম ৩০ থেকে ৫০ টাকা কম পাচ্ছেন তারা।

কৃষকদের তথ্যমতে, লটকন চাষে তুলনামূলক কম পরিচর্যা লাগে। তবে ‘বল্লা’ পোকার আক্রমণ এই ফলের প্রধান শত্রু। কীটনাশকযুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করে এই পোকা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। বাগান কেনাবেচায় যুক্ত পাইকারি ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, "১৫টি বাগান প্রায় ২০ লাখ টাকায় কিনেছি। আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ভালো লাভ হবে।"

নরসিংদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আজিজল হক জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আবহাওয়া কিছুটা অনিয়মিত হলেও গত বছরের চেয়ে এবার সামগ্রিক ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করছে কৃষি বিভাগ।

/


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত