সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি ‍চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬, ১২:৩০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি ‍চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা

দীর্ঘ উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের এই যুগান্তকারী সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর শুক্রবার সুইজারল্যান্ডেই পরবর্তী করণীয় নিয়ে আরও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এই শান্তিচুক্তির খবর সামনে আসার পর বিশ্বের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তিকে ‘সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই চুক্তির অগ্রগতিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গভাবে এই চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি লেবাননের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সেখানে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই কাঠামোগত চুক্তিকে স্বাগত জানালেও একটি বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন বক্তব্য, উসকানি এবং সম্ভাব্য নাশকতা থেকে সব পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং যৌথভাবে সবাইকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে। তবে তারা এটাও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগগুলো সমাধান করতে হবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক্স-এ লিখেছেন, তিনি আশা করেন এই চুক্তি বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান রুট 'হরমুজ প্রণালিতে' নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করবে এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি করবে।

বিশ্বনেতাদের এমন জোরালো সমর্থন ও ইতিবাচক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি ‍চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা

প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুন ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ উত্তেজনা ও যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের এই যুগান্তকারী সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বনেতারা। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় উভয় পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর শুক্রবার সুইজারল্যান্ডেই পরবর্তী করণীয় নিয়ে আরও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের এই শান্তিচুক্তির খবর সামনে আসার পর বিশ্বের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই চুক্তিকে ‘সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই চুক্তির অগ্রগতিকে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দ্রুত এবং পূর্ণাঙ্গভাবে এই চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি লেবাননের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, সেখানে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধারের বিষয়টি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এই কাঠামোগত চুক্তিকে স্বাগত জানালেও একটি বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন বক্তব্য, উসকানি এবং সম্ভাব্য নাশকতা থেকে সব পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং যৌথভাবে সবাইকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেন, সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই শান্তির পথে এগিয়ে যেতে হবে। তবে তারা এটাও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগগুলো সমাধান করতে হবে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক্স-এ লিখেছেন, তিনি আশা করেন এই চুক্তি বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান রুট 'হরমুজ প্রণালিতে' নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করবে এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি করবে।

বিশ্বনেতাদের এমন জোরালো সমর্থন ও ইতিবাচক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বড় প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত