সংবাদ

হরমুজ সংকট: বিশ্বমন্দা ও চরম ক্ষুধার হুঁশিয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিবের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১ মে ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

হরমুজ সংকট: বিশ্বমন্দা ও চরম ক্ষুধার হুঁশিয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিবের

হরমুজ প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও অচলাবস্থা নিয়ে বিশ্ববাসীকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দীর্ঘ সময় রুদ্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি কার্যত থমকে যাবে, যা কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্য ও চরম ক্ষুধার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, "এই সংকীর্ণ জলপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্বাস রোধ হচ্ছে।" তিনি এই প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিব বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব অর্থনীতির তিনটি সম্ভাব্য গতিপথ তুলে ধরেন:

১. প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি: গুতেরেস জানান, পরিস্থিতি খুব দ্রুত স্বাভাবিক হলেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ থেকে কমে ৩.১ শতাংশে নেমে আসবে। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৪.৪ শতাংশে দাঁড়াবে। ২. দারিদ্র্য ও ক্ষুধা: যদি ইরানের হুমকি এবং বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে বিশ্বের অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ (৩২ মিলিয়ন) মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়বে। ৩. খাদ্য সংকট: সারের ঘাটতির কারণে ফসলের ফলন কমে যাওয়ায় আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ (৪৫ মিলিয়ন) মানুষ চরম ক্ষুধার সম্মুখীন হতে পারে।

গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি যত বেশি দিন বন্ধ থাকবে, এর নাটকীয় প্রভাব মানুষের জীবন, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ততটাই তীব্র হবে। এতে বিশ্ব একটি গভীর মন্দার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন-ইরান আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। মহাসচিব বলেন, "সব পক্ষের প্রতি আমার বার্তা স্পষ্ট নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা অবিলম্বে ফিরিয়ে দিন। প্রণালিটি খুলে দিন এবং সব জাহাজকে যেতে দিন। বিশ্ব অর্থনীতিকে আবার শ্বাস নিতে দিন।"

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬


হরমুজ সংকট: বিশ্বমন্দা ও চরম ক্ষুধার হুঁশিয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিবের

প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬

featured Image

হরমুজ প্রণালিতে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও অচলাবস্থা নিয়ে বিশ্ববাসীকে চরম সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দীর্ঘ সময় রুদ্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতি কার্যত থমকে যাবে, যা কোটি কোটি মানুষকে দারিদ্র্য ও চরম ক্ষুধার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গুতেরেস বলেন, "এই সংকীর্ণ জলপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্বাস রোধ হচ্ছে।" তিনি এই প্রণালিতে অবাধ নৌ-চলাচলের ওপর আরোপিত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞার তীব্র নিন্দা জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিব বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে বিশ্ব অর্থনীতির তিনটি সম্ভাব্য গতিপথ তুলে ধরেন:

১. প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি: গুতেরেস জানান, পরিস্থিতি খুব দ্রুত স্বাভাবিক হলেও বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশ থেকে কমে ৩.১ শতাংশে নেমে আসবে। একই সঙ্গে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে ৪.৪ শতাংশে দাঁড়াবে। ২. দারিদ্র্য ও ক্ষুধা: যদি ইরানের হুমকি এবং বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত বজায় থাকে, তবে বিশ্বের অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ (৩২ মিলিয়ন) মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের কবলে পড়বে। ৩. খাদ্য সংকট: সারের ঘাটতির কারণে ফসলের ফলন কমে যাওয়ায় আরও ৪ কোটি ৫০ লাখ (৪৫ মিলিয়ন) মানুষ চরম ক্ষুধার সম্মুখীন হতে পারে।

গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি যত বেশি দিন বন্ধ থাকবে, এর নাটকীয় প্রভাব মানুষের জীবন, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর ততটাই তীব্র হবে। এতে বিশ্ব একটি গভীর মন্দার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে মার্কিন-ইরান আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙতে চলা কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। মহাসচিব বলেন, "সব পক্ষের প্রতি আমার বার্তা স্পষ্ট নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা অবিলম্বে ফিরিয়ে দিন। প্রণালিটি খুলে দিন এবং সব জাহাজকে যেতে দিন। বিশ্ব অর্থনীতিকে আবার শ্বাস নিতে দিন।"

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত